সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জ কোটি টাকা আত্মসাৎ চেয়ারম্যান শেরিনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি  » «   নবীগঞ্জে মসজিদের জুতার বক্সের ভিতরে থেকে ৩ মাসে একটি শিশু ছেলেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে  » «   রেমিট্যান্স কেনার ডলার রেট কমল, কার্যকর ১ অক্টোবর  » «   দেয়ারাবাজারে রাতে ঘর থেকে মুখ চাপা দিয়ে এক সংখ্যালঘু স্কুল ছাত্রীকে অপরহণ   » «   শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   দোয়ারাবাজারে হাওর থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার  » «   ৪ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে  » «   আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিবিয়ানা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   শাল্লায় মেম্বার ও চেয়ারম্যান কর্তৃক শালিশের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ  » «   গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «  

পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় ৪০ জন অনেকেই জড়িয়েছে জঙ্গিবাদে

8সিলেটপোস্ট রিপোর্ট:পুলিশ সারাদেশে নিখোঁজ ৪০ জনের তালিকা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।তিনি বলেন, নিখোঁজ এই ৪০ জনের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এদের অনেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। তারা যদি ফিরে আসে তাহলে তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।শহীদুল হক বলেন, প্রথমে র্যা ব একটি বড় তালিকা করেছিল। তারা প্রথমকে অতটা যাচাই-বাছাই করতে পারেনি। পরে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) সহায়তায় নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৪০ জনের নতুন একটি তালিকা করেছে। তিনি বলেন, এদেরকে খুঁজে বের করাই আমাদের কাজ।শহীদুল হক বলেন, ‘তামিম ও তার সহযোগীরা নিহত হওয়ায় দেশ বড় ধরনের জঙ্গি হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে নিখোঁজ তালিকার মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’

আইজিপি বলেন, অনেক পরিবার আমাদের জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তি ফোনে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার বিষয় জানিয়েছে। এরপর তারা সশরীরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলেও বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে তাদের জানিয়েছে, তারা ভালো আছে।

নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় হামলার বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দিনের আলোতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের আগে আড়াইঘণ্টা বাড়িটি ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। অভিযানে গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিমসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়। অভিযান শেষে সেখান থেকে অস্ত্রসহ লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত জঙ্গিরা হলো তামিম আহমেদ চৌধুরী। সে সিলেটে বিয়ানিবাজারের স্বাধীমাপুর গ্রামের শফিক আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে শফিক আহমেদ সপরিবারে কানাডায় চলে যান। সেখানেই তামিম চৌধুরীর জন্ম হয়। ২০১৩ সালে ৫ অক্টোবর তামিম বাংলাদেশে আসে। সে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকাসহ, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, গুলশান, শোলাকিয়া, কল্যাণপুরে জঙ্গি হামলার তত্ত্বাবধানে ছিল। এমনকি এসব হামলার অস্ত্র ও অর্থ জুগিয়েছে তামিম। নিহত অপর জঙ্গির নাম কাজী ফজলে রাব্বী। সে যশোরের কিসমত নোয়াপাড়া গ্রামের কাজী হাবিবুল্লাহর ছেলে। সে যশোর এমএম কলেজে প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করতো। চলতি বছরের শুরুতে সে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। গত ৭ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় তার নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ অভিযানে নিহত আরেক জঙ্গির নাম তওসিফ হোসেন। সে রাজশাহীর গোয়ালিয়া থানাধীন রামচন্দ্রপুরের ডা. আজমল হোসেনের ছেলে। তারা সপরিবারে ধানমন্ডিতে থাকতো। সে ২০১১ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে নিখোঁজ হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থানায় তার নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করে পরিবার।

শহিদুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত তামিম আহমেদ চৌধুরীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করে নুরুল ইসলাম মারজান। সে এক সময় শিবিরের নেতা ছিল। বর্তমানে সে পলাতক আছে। তাকে ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানকে সাজানো বলে উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, বিএনপি নেত্রী যদি এ ধরনের কথা বলে থাকেন তবে সেটা খুবই দুঃখজনক। কারণ দিনের আলোতেই অভিযান চালানো হয়েছে, সবাই তা দেখেছেন। পুলিশের অভিযানে কোনও অস্পষ্টতা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) নিজস্ব লোকজন আছে। তাদের দিয়েও তদন্ত করে দেখতে পারেন, ঘটনা সাজানো কিনা। এটা কোনও দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য হতে পারে না।

এছাড়াও চট্টগ্রামের এসপি বাবুল আক্তারের বিষয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আমরা দেড় মাস অপেক্ষা করেছিলাম তিনি এটা প্রত্যাহার করেন কিনা। তবে তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.