সংবাদ শিরোনাম
শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   দোয়ারাবাজারে হাওর থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার  » «   ৪ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে  » «   আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিবিয়ানা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   শাল্লায় মেম্বার ও চেয়ারম্যান কর্তৃক শালিশের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ  » «   গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   জৈন্তাপুরে বালু ভর্তি ট্রাক আটক:১ মাসের ব্যাবধানে ২ ট্রাক ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ-আটক-১  » «   নবীগঞ্জে কবরস্থান ও সরকারি রাস্তা জোর পূর্বক দখল: হত্যার হুমকি, অভিযোগ দায়ের  » «   দোয়ারাবাজারে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার  » «   নবীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের গাছ বিক্রি’র নিলামে অনিয়ম! ১৫ লাখ টাকার গাছ ২ লাখ টাকায় বিক্রি!  » «  

কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেলে কি শিশু অসুস্থ হতে পারে?

8সিলেটপোস্ট রিপোর্ট::গত দুইদিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে বেশ কয়েকশ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার ৫ জেলায় ২১০ শিশু অসুস্থতার খবর জানিয়েছেন পরিবর্তনের জেলা প্রতিনিধিরা। জেলাগুলো হলো মাগুরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাষ্য : মাস হিস্টিরিয়া ও আতঙ্কিত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা এরকম অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

কেবল মাস হিস্টিরিয়া বা আতঙ্ক? পক্ষ থেকে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ভিন্ন তথ্য। কৃমিনাশক ওষুধ খেলে তা শিশুর জন্য অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাচ্চার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় না দিয়ে ট্যাবলেট খাওয়ালে তখনই এ বিপত্তি দেখা দিতে পারে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক হায়দার আলী চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক ওষুধেরই কম বেশি কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। কৃমির ওষুধ খেলে শিশুদের পাতলা পায়খানা ও বমি হতে পারে।’

তবে শিশুর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করলে এরকম সমস্যা হয় না বলে ওই চিকিৎসক জানান।

একই ধরনের মত দিয়েছেন ঢাকার আগারগাঁওয়ের প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মেডিসিন বিভাগের প্রিন্সিপাল মহসিন কবির।

তিনি বলেন, ‘কৃমিনাশক ট্যাবলেটে অনেক সময় বড়দের বেলায় যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তেমনি ছোটদের বেলায়ও। কৃমিনাশক ট্যাবলেট দেওয়ার আগে বাচ্চার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া দরকার।’

তার ভাষ্য : অধিকাংশ স্কুলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণের যে কর্মসূচি তা বিভিন্ন এনজিও সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিও ওষুধের মেয়াদ বা গুণগত মানের ব্যাপারে যত্নশীল কি না সেটাও দেখা দরকার। তারা গিয়েই বাচ্চাদের হাতে কৃমিনাশক ট্যাবলেট ধরিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর নিয়ম আছে। একদম খালি পেয়ে খাওয়া যাবে না আবার ভরা পেটেও খাওয়া যাবে না। শিশুদের কৃমিনাশক খাওয়ানোর সময় এগুলো খেয়াল রাখতে হবে।

 উপজেলার কাটাখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সদর হাসপাতালে ভর্তি ওই স্কুলের ৭ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রেহেনা, লিমা, তুলি, তিন্নিসহ অনেকে জানায়, শনিবার রাত থেকেই তাদের পেটে ব্যথা, মাথাঘোরাসহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল। এ অবস্থায় তারা রোববার সকালে স্কুলে গিয়ে আকস্মিকভাবে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষকসহ এলাকাবাসী তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তবে মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী ছাদউল্লাহ এ বিষয়ে জানান, এটি আতঙ্কজনিত অসুস্থতা। যেটিকে মাস হিস্টিরিয়া বলে। এটির সাথে কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের কোনো সম্পর্ক নেই।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সন্ন্যাসী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩৫ জন ছাত্রী রোববার দুপুরে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হোসেন শিকদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক সায়লা পারভীন জানান, দুপুরের দিকে তাদের ছাত্রীদের একটি করে কৃমিনাশক ট্যাবলেট দেওয়া হয়। এ ট্যাবলেট দেওয়ার পরপরই ছাত্রীদের পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মুফতি কামাল হোসেন ও মেডিকেল অফিসার এনামুল কবির ঘটনাস্থল যান এবং শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তারা শিক্ষার্থীদের খাবার স্যালাইন ও পেটে ব্যথার জন্য গ্যাসের ট্যাবলেট খাবার পরামর্শ দেন।

ডা. মুফতি কামাল হোসেন জানান, কৃমি ট্যাবলেট খেলে সামান্য বমি বমি ভাব হতে পারে। তবে এটা কোনো বড় ধরনের সমস্যা নয়। এক ছাত্রীর দেখাদেখি অন্যান্যরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার সাবেক কর্মকর্তা ডা. শিব্বির আহমেদ জানান,

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের আধা ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যাথা, বমিভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫-১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন চৌধুরী শফিকুল আলমের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৌলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭৪ শিক্ষার্থীকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। তার মধ্যে ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থতা বোধ করলে সাথে সাথে সেখানে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। এদের মধ্যে থেকে ১৩ জনকে সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা সবাই এখন ভাল আছেন।

খালি পেটে কৃমির ওষুধ সেবন ও অসচেতনতার কারণে সাময়িক এ এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

মেহেরপুরের বিভিন্ন স্কুলে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।রোববার দুপুরে অসুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী।

শিক্ষক ও স্বজনরা জানান, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে রোববার সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এরপর থেকেই বেশ কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, বমিভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। তারা বমি করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটা মানসিক কারণে হয়েছে। ভয় থেকে এটা হয়। তবে কারও অবস্থা গুরুতর নয়।

শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সকালে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পর পরই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। একইভাবে উপজেলার পীরপুরকুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়বলদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থদের মধ্যে ৭০ জনকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থী ফারাজানা বলে, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পর পরই প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়। এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

আব্দুর রহমান নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী একটু ঠাণ্ডার মধ্যে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। আর এতে করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রচণ্ড গরমের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.