সংবাদ শিরোনাম
দেয়ারাবাজারে রাতে ঘর থেকে মুখ চাপা দিয়ে এক সংখ্যালঘু স্কুল ছাত্রীকে অপরহণ   » «   শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   দোয়ারাবাজারে হাওর থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার  » «   ৪ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে  » «   আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিবিয়ানা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   শাল্লায় মেম্বার ও চেয়ারম্যান কর্তৃক শালিশের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ  » «   গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   জৈন্তাপুরে বালু ভর্তি ট্রাক আটক:১ মাসের ব্যাবধানে ২ ট্রাক ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ-আটক-১  » «   নবীগঞ্জে কবরস্থান ও সরকারি রাস্তা জোর পূর্বক দখল: হত্যার হুমকি, অভিযোগ দায়ের  » «   দোয়ারাবাজারে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার  » «  

ইচ্ছে হলেই ভিজতে পারি

16বিথী হক::কত বছর হবে? ২০/২১ বা তার চেয়ে কিছু কম বেশি। সবে টিফিন পিরিয়ড শুরু হয়েছে।কড়াৎ কড়াৎ শব্দে বাজ পড়ছে। পেছনে বিশাল আম-বাগান। ইয়া মোটা মোটা গাছের মাথা থেকে ভেজা ঝাঁকড়া চুলের মতো বৃষ্টি ঝরছে। আর সামনে তপস্বীদিদের বাড়ি।

খড়ের দেয়াল আর খড়ের চালা দেওয়া এঁটেল মাটির দেউড়িওয়ালা একটা খুব নগণ্য বাড়ি। কান্না-ঝাপসা চোখে এর বেশি আর কিছু চোখে পড়েছিল কী না তা এতদিনে মনে করতে চাওয়া এক রকমের অন্যায়।

তখন কে জানত এমন অনেক পৃথিবী একসাথে জড়ো হয়ে ভেঙ্গে-চুরে বৃষ্টি হয়ে নামবে! বাবাই বা জানত নাকি? জানলে এমন দিনে আমাকে একলা স্কুল থেকে ছাড়তই না। আমি যে কত্ত বড় ভীতুর ডিম তা বাবার চেয়ে ভালো আর কে জানে! স্কুলঘর থেকে যখন বের হই তখন আমার আকাশ ছোঁয়ার আনন্দ ছিল।

এই প্রথম সহপাঠীদের সাথে বাবা আমাকে একলা টিফিন পিরিয়ডে বাড়িতে আসার অনুমতি দিল। এমন দিন তো রোজ রোজ আসে না। কই একটু লাফ-ঝাঁপ করে বাড়িতে ফিরব। সহপাঠীরা আর ক্ষেপাবে না ‘ডরফুক’ বলে তা না, এমন অসভ্য বৃষ্টি নামল। বৃষ্টি আমি অপছন্দ করলেও ভয় পাই না।

আমি ভয় পাই বাজকে। বাজের শব্দের সাথে আলোর দ্যুতির সমানুপাতিক হারে আমার কান্নাকাটি বেড়েই চলল, বেড়েই চলল। হঠাৎ দেখি পেছন থেকে কেউ যেন আমাকে কোলে তুলে মাথা আর চোখ ঢেকে তপস্বীদিদের নির্জন বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। আমি বুঝলাম. বাবা এসেছে। আমি বাবার গলা জড়িয়ে ধরে খুব করে কাঁদলাম সেদিন, আর কখনো একা একা টিফিন পিরিয়ডে বাড়ি আসব না!

তখনও আমি স্কুলে ভর্তি হইনি, বাবার সাথে সাথে গিয়ে বাবার ক্লাসে গিয়ে বসে থাকতাম। বাবার নেচে-গেয়ে পড়ানোর বিষয়টা আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় ছিল। এমনি এক দিনে বাবা পড়াচ্ছেন। হঠাৎ শিলা-বৃষ্টি নামল ঝুপঝাপ করে।

মুক্তোদানার মতো ঝরঝরে ভোরের ঝরা শিউলির মতো সাদা ধবধবে শিলাবৃষ্টি আমি প্রথম দেখলাম। আমার ইচ্ছে করছে দু’হাত বাড়িয়ে মুক্তো কুড়োয়, শিউলিফুলের মতো নিয়ে একটা একটা করে মালা গাঁথি। খেলার মাঠের সবুজ ঘাসে লুটোপুটি খাচ্ছে ধবল বৃষ্টিরা।

লাফ দিয়ে বারান্দা থেকে নেমে নীল-সাদা স্কুল ইউনিফর্ম ভিজিয়ে অনেকেই কুড়োচ্ছে মুক্তো। আমার ভীষণ লোভ হচ্ছে, ভীষণ। আমিও কুড়োব, কুড়োতে যাব কিন্তু মা বলেছে বৃষ্টিতে ভিজলে আমার অসুখ করে তাই নামতে পারছি না।

কিন্তু একদিন কঠিন একটা অসুখ হলে কী হয়, আমি বৃষ্টি কুড়িয়ে আমার মুঠো ভরে মায়ের কাছে যাব। বাবা পেছন থেকে এসেই অফিস ঘরের দিকে আমাকে টেনে নিয়ে তোয়ালে এনে মাথা-মুছে দিলেন। অথচ আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমি তো ভিজিইনি।

সেদিন বাবার প্রতি রাগে-দুঃখে আমার ভয়ানক কান্না পেয়েছিল। আমি আজো মনে রাখি, বাবা আমাকে বৃষ্টিতে নেমে মুক্তো-বৃষ্টির সুখ থেকে আমার শৈশবকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

অফিস-ফেরা পথে আজ আবার আততায়ী বৃষ্টি নেমেছিল। হাঁটতে হাঁটতে কয়েক পা যেতেই বড় বড় ফোঁটায় ভিজে যাচ্ছিলাম। খাবার হোটেলের খোলা চালার নিচে দাঁড়িয়ে হঠাৎ ছোটবেলার দু’টো বৃষ্টির কথা মনে পড়ল।

বাবা কখনো আমার বৃষ্টিতে ভেজার আহ্লাদকে পাত্তা দেননি, তা নিয়ে আমার অনেক বছরের ক্ষোভ। অথচ আজ তো চাইলেই ভিজতে পারি, পারতাম। কেউ কিচ্ছু বলত না, আমার কোনকিছুতেই কারো কিছু বলবার নেই। অথচ আমি ভিজলাম না। কেন ভিজলাম না?

আমার ভালো লাগে না বৃষ্টি, তাই বোধ হয়। এমন ভাল না লাগা তো আগেও ছিল, তবু তখন ভিজতে চাইতাম। আমার ছোটবেলার ক্ষোভওয়ালা বৃষ্টির দিনগুলোকে আমি বোধ হয় এমনই ভালবাসি। বাবা কি জানত, আমি বড় হলে বৃষ্টিতে ভিজব না? জানলে নিশ্চয়ই ছোটবেলায় বাধা দিত না!

ভাল লাগাগুলো কত দ্রুত মন্দ লাগতে শুরু করে আমাদেরই। অথচ আমরা সেসব ভাল লাগার জন্যই আজীবন হাহাকার করে যাই।

বড় হয়ে যাওয়াটা মস্ত বড় অভিশাপ!

সুত্র:পরিবর্তন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.