সংবাদ শিরোনাম
সাংবাদিক মীর্জা সোহেলের মায়ের মৃত্যুতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের শোক  » «   তাহিরপুরে চোরাই পথে কয়লা সংগ্রহ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু !  » «   ছাতকে রাস্তার ঢালাই কাজে নিম্নমানের কংক্রিট ও বালু ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ  » «   সুদখোর ও জুয়াড়ী গুলজার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নবীগঞ্জের তিমিরপুর গ্রামবাসী  » «   লিবিয়ার থেকে মাফিয়া দালারের খপ্পরে পড়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো জগন্নাথপুরের এখওয়ান  » «   দোয়ারাবাজারে অনলাইনে  কোটি টাকা প্রতারণা আটক স্কুল শিক্ষক  » «   সুনামগঞ্জ কোটি টাকা আত্মসাৎ চেয়ারম্যান শেরিনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি  » «   নবীগঞ্জে মসজিদের জুতার বক্সের ভিতরে থেকে ৩ মাসে একটি শিশু ছেলেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে  » «   রেমিট্যান্স কেনার ডলার রেট কমল, কার্যকর ১ অক্টোবর  » «   দেয়ারাবাজারে রাতে ঘর থেকে মুখ চাপা দিয়ে এক সংখ্যালঘু স্কুল ছাত্রীকে অপরহণ   » «   শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «  

স্বাগত বঙ্গাব্দ ১৪২৪

9সিলেটপোস্ট রিপোর্ট ::জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আবাহনে আসছে নতুন বছর ১৪২৪। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথে ধর্ম-শ্রেণী নির্বিশেষে বাঙালি মেতে উঠবে পহেলা বৈশাখের বর্ণিল উৎসবে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাজধানী ঢাকাসহ প্রস্তুত সারাদেশ।

জানা যায়, কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি করে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন।

১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে।

দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। সম্প্রতি (২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর) ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে।

ছায়ানটের বর্ষবরণ

পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আবিররঙা রেখা দেখা দেবার সাথে সাথে নতুন বছরকে বরণ শুরু হবে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের এই আয়োজনের এবার পঞ্চাশ বছর পূর্তি। ‘আনন্দ, বাঙালির আত্মপরিচয়ের সন্ধান ও অসাম্প্রদায়িকতা’ প্রতিপাদ্যে এবারের অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে ১৪টি একক গান ও ১০-১২টি সম্মেলক গানে।

ভোর ৬টা ১০ মিনিটে সরোদে ভোরের রাগ আলাপ দিয়ে নতুন বাংলা বছরের আবাহন শুরু হবে। সব মিলিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের গান ও পাঠাবৃত্তির সজ্জা। ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুনের শুভেচ্ছা কথনের পর ক্ষণিকের বিরতি দিয়ে ৫০ বছর পূর্তির বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে থাকছে পালাগান ‘দিওয়ানা মদিনা’।

মঙ্গল শোভাযাত্রা

নববর্ষ উৎসবের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার আয়োজনে এটি শুরু হবে সকাল ৯টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো বাঙালি। ইউনেস্কো বর্ষবরণের এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়ায় চারুকলা অনুষদ বিগত ২৮ বছরের উল্লেখযোগ্য মোটিফগুলো এবারের শোভাযাত্রায় রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাঙালির প্রাণের এ উৎসব উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠনও বর্ণাঢ্য কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে কলাভবন বটতলায় শুক্রবার সকাল ৮টায় সংগীতানুষ্ঠান শুরু হবে।

আয়োজনকে সার্থক করতে সর্বস্তরের মানুষকে চারুকলা অনুষদের সামনে শোভাযাত্রায় জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চারুকলা অনুষদের ডিন ড. নিসার হোসেন। তবে নিয়ম মেনে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সঠিক পথ মেনে চলার অনুরোধও করেছেন তিনি। তিনি জানান, এ বারের শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্ধকার যেন আলোর দিকে আসে।

তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ব অবাক তাকিয়ে থাকবে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য এই মঙ্গল শোভাযাত্রার দিকে। আর আমাদের সুশৃঙ্খলতা বিশ্বের কাছে ফুটিয়ে তোলার এটিই সুযোগ। সেই সঙ্গে আনন্দলোকে মঙ্গল আলোকে, বিরাজও সত্য সুন্দরও প্রতিপাদ্যকে জানবে বিশ্ববাসী।’

রাজধানী নানা সংগঠনের নানা আয়োজনের মধ্যে পুরান ঢাকায় সকাল ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে। এটি উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাইদ খোকন।

সীমান্ত খেলাঘর আসরের আয়োজনে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হবে সকাল ৯টায় দীননাথ সেন রোডের সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পয়লা বৈশাখের দিন বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিরপুর, দনিয়া রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে একক ও দলীয় লোকসঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ নানা আয়োজন পরিবেশন করবে।

বাংলা একাডেমি সকাল সাড়ে ৭টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে বর্ষবরণ উপলক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে একাডেমি ‘বইয়ের আড়ং’ শিরোনামে পহেলা বৈশাখ থেকে ১০ বৈশাখ পর্যন্ত বইমেলার আয়োজন রেখেছে। এছাড়া ১০ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলার আয়োজনও আছে একাডেমি চত্বরে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ কুটির শিল্প কর্পোরেশন এবং বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করবে।

বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে রমনা পার্কসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুরোটাই ঢেকে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয় এ উপলক্ষে সারাদেশেই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌথভাবে কাজ করছে সব সংস্থা। সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম, অবজারভেশন পোস্ট ও চেক পোস্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি থাকছে গোয়েন্দা দলের সদস্য, বোমা ডিসপোজাল টিম ও মেডিক্যাল টিম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.