সিলেটপোস্ট রিপোর্ট::হ্যাকিং নিয়ে সেমিনারে হৈ চৈ ফেলে দেন একদল তরুণ হ্যাকার। তাদের মতে, দেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করছেন হ্যাকিংয়ে আগ্রহী তরুণরা। কিন্তু, তাদের সরকার কেন জেলে দিবে?
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয় দিনে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইথিকাল হ্যাকিং’- শীর্ষক সেমিনারে তরুণ উদ্যোক্তারা এ মত দেন।
ইওয়াই ল্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারজানা রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে কি নোট উপস্থাপন করেন ভারতের প্রিস্টন ইনফো সলিউশনের প্রধান রিজওয়ান শেখ।
তার বক্তব্য শেষেই দর্শক সারি থেকে তরুণরা প্রশ্ন করেন, ‘হ্যাকিং নিয়ে তরুণরা কাজ করবে কিভাবে? কেউ হ্যাকিং করা শুরু করেছে, শুনলেই সরকার তাকে জেলে পাঠায়।’
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ের শিক্ষক কে এম সালাউদ্দিন তরুণদের কথায় সমর্থন দিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণরা যখন হ্যাকিং নিয়ে কাজ করা শুরু করছে, তখন সরকারকে এই তরুণদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হ্যাকিং শেখাতে হবে তরুণদের। ইথিকাল পদ্ধতিতে হ্যাকিং করা উচিত তরুণদের। অন্যের ক্ষতি নয়, দেশের কল্যাণে তাদের মনোনিবেশ করা উচিত।’
সেমিনারে বক্তারা সাইবার ক্রাইম ইউনিট কিভাবে আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে হ্যাকারদের সনাক্ত করেন, কিভাবে তাদের শাস্তি দেন, শাস্তির বিধানগুলো কি, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারের প্রধান বক্তা ভারতের প্রযুক্তিবিদ রিজওয়ান শেখ এক জরিপের ফলাফল উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রতি ৭৫ জন হ্যাকারের মধ্যে মাত্র একজন ‘ইথিকাল ওয়েতে’ হ্যাকিং করেন।’
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে হ্যাকিং শিখবে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করবে না।’
রিজওয়ান শেখ পাসওয়ার্ড চুরি করার নানা প্রক্রিয়া যখন দেখাচ্ছিলেন, দর্শক সারি থেকে একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকে।
এ সময় হ্যাকিং টুলস, সফটওয়্যারের কথা বলতে গিয়ে এই প্রযুক্তিবিদ বলেন, ‘নিজেদের পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত করতে হবে। কমপক্ষে ১৬ ডিজিটের আলফা-নিউমেরিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। আর তা প্রতি মাসে একবার করে পরিবর্তন করতে হবে।’
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা ব্যাংকের সিইও এ এম এম মঈনুদ্দিন, ম্যাশ টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজালাল সোহানি প্রমুখ।