সংবাদ শিরোনাম
দিরাইয়ের উদির হাওর বিলে বাধঁ দেয়া নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত,৪০ জন আহত  » «   রাষ্ট্র ধর্ম নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন সাঈদ খোকন  » «   শান্তিগঞ্জে জয়কলস গ্রামে প্রতিপক্ষের রামদার কোপে একজন নিহত,একজন আহত  » «   পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এই বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিল  » «   সিলেটে দুই কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮ হাজার শিক্ষার্থী  » «   সিলেটে আজ মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা  » «   জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন স্ট্রং ক্লাইমেট ফাইটার- পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি  » «   অনুসন্ধান কল্যান সোসাইটি সিলেট এর সভা অনুষ্টিত  » «   কুমিল্লার ঘটনায় জকিগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষ:পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত আহত  » «   তৃতীয় ধাপে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা  » «   সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কায় তিন মোটর সাইকেল আরোহী নিহত  » «   নগরীর বনকলাপাড়া এলাকায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক তরুনের আত্মহত্যা  » «   শারদীয় দুর্গাপূজায় সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা  » «   সিলেট নগরীতে ছাত্রলীগের কমিটি প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ মিছিল  » «   দীর্ঘ অপেক্ষার পর কমিটি পেল সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ  » «  

সুরমা মার্কেটর নিউ সুরমা হোটেলে প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা দেহব্যবসা

7সিলেটপোস্ট রিপোর্ট ::ভাইজান কিতা খরইন? কুন্তা লাগবো নি? লাগলে খইবা ভালা ভালা কমবয়সী ফুড়িন আছইন। ভাইয়া, যাইবেন নাকি বোর্ডিংয়ে? রেট মাত্র ৫০০ টাকা”। কথাগুলো পাশ থেকে হঠাৎ কানে আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
নগরীর সুরমা মার্কেট পয়েন্ট এলাকায় কিছুক্ষন উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরাফেরা করলে অথবা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকলে এরকম প্রস্তাব পেতে পারেন আপনিও।আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এইসব পতিতাবৃত্তির ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট।

গতকাল ব্যক্তিগত কাজ শেষে ফেরার পথে সুরমা মার্কেটের সামনের যাত্রী ছাউনিতে বসা অবস্থায় এ প্রতিবেদককে এমনই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। একজন মধ্যবয়সী লোক এসে পাশে বসে, এর কিছুক্ষন পরই লোকটি প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করল কী করা হয়, স্টুডেন্ট নাকি সেটা জানতে চাইল। সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন রেখে লোকটির সাথে কিছুক্ষন কথাবার্তা চলল এ প্রতিবেদকের।

লোকটির কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেল তা রীতিমত গাঁ শিউরে উঠার মত। তার নাম জমির (ছদ্দনাম), তিনি প্রায় ২৫ বছর থেকে এই পেশায় দালাল হিসেবে সুরমা মার্কেটের সুরমা হোটেলে কাজ করেন।বর্তমান হোটেলের নাম নিউ সুরমা, নগরীতে সবছেয়ে রমরমা দেহ ব্যাবসা চলছে নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলে। তার কাজ মূলত আশপাশের এলাকা থেকে খদ্দের সংগ্রহ করে দেয়া। এজন্য তিনি কাষ্টমারভেদে ০৭-১০% কমিশন পেয়ে থাকেন। তাদের বর্ডিংয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের আনা হয়। মেয়েদের মধ্যে ১৬-২৩ বছর বয়সী মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। এদের বেশীরভাগই আবার বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। তাদের কাষ্টমার মুলত ১৫ থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধও। তবে উঠতি বয়সি যুবক ও কলেজ ছাত্ররাই তাদের প্রধান খরিদ্দার। তারা টার্গেট ও করেন এই বয়সি যুবকদের।

এছাড়া ফোনকলের মাধ্যমেও তারা কাষ্টমার পেয়ে থাকেন। আবার অনেক মেয়েই রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা করে বিভিন্ন ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে পথচারীদের দৃষ্টি অাকর্ষন করে বলে তিনি জানান। সাড়া পেলে তাদের নিয়ে পূর্বনির্ধারিত হোটেলে আসেন।

টাকার ভাগ-বাটোয়ারা কিভাবে হয়? জানতে চাইলে তিনি জানান, মেয়েরা প্রতিটি কাজে ২৫% পায়, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা পায় ৪০%, ১০% দেওয়া হয় এজেন্টকে এবং বাকি ২৫% হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাগে থাকে।
সিলেট নগরীতে পতিতাবিরোধী আইওয়াশ অভিযান মাঝে মধ্যে হলেও সময়ের ব্যবধানে এর সিষ্টেম কিছুটা পরিবর্তন হয়। কিছুদিন আগে নগরীর সুনামগঞ্জ হোটেলসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল গুলোতে অভিযান করে নামেমাত্র কয়েকজন পতিতা ও খদ্দের আটক করলেও অভিযানে মুল হোতা কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মুল হোতাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসাধূ চক্র।

প্রত্যক্ষ দর্শীদের মতে, বিভিন্ন আবাসিক হোটেল,মেসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সমানতালে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হোটেল মালিক ও দালালরা।মাঝে মধ্যে আইন শূংখলা বাহিনি অভিযান পরিচালনা করে পতিতাদের আটক করলেও মালিক দালালদের আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা।
সুনামগঞ্জ হোটেলে দেহব্যবসার পাশাপাশি মদ গাজার আসর। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে পতিতাদের আটকের পর একদিন বন্ধ থাকার পর পুরোদমে লাভজনক এব্যবসা চালছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, লালদীঘির পার সুনামগঞ্জ আবাসিক হোটেল এ জনৈক রাসেল দীর্ঘদিন থেকে হোটেলে পাপরাজ্যে পরিনত করেছে।
এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রাসেল দম্ভ বলে আমার হোটেলে অভিযান দেবে কে? সবাইকে খুশি করেই আমরা নিরাপদে এ ব্যবসা করছি। পবিত্র নগরীতে তাও আবার মসজিদের পাশে মালিকানাধীন হোটেলে কিভাবে পাপরাজ্য গড়ে উঠেছে তা ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।এছাড়াও জিন্দাবাজার,বন্দর বাজার আম্বরখানা ,কাজলশাহ, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল মেসের আড়ালে চলছে দেহব্যবসা।মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি ডিসি বলেন, অভিযান অব্যাহত আছে, আমরা মুল হোতাদের আটকের চেষ্টা করছি।’
এদিকে, আবাসিক হোটেল গুলোর আশপাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা স্বার্থক অভিযান চালানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। তাদের মতে, পতিতা বৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যুব সমাজ ভয়ানক পথে পা বাড়াবে। ফলে ছিনতাই,নেশাগ্রস্থ হয়ে জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। এতে মরণ ব্যাধি এইডসসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে গোটা সিলেট।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চললেও প্রশাসন কেনো নীরব? এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রশাসন আমাদের কী করবে, আমরাতো প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা চালাচ্ছি। তাছাড়া একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যানও এখানকার একটি হোটেলের মালিক বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
আমরা অভিযান দিয়ে আটক করে জেলে পাটালেও আইন শক্ত না থাকায় জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবার কার্যত্রুম শুরু করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.