সংবাদ শিরোনাম
দেয়ারাবাজারে রাতে ঘর থেকে মুখ চাপা দিয়ে এক সংখ্যালঘু স্কুল ছাত্রীকে অপরহণ   » «   শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   দোয়ারাবাজারে হাওর থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার  » «   ৪ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে  » «   আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিবিয়ানা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   শাল্লায় মেম্বার ও চেয়ারম্যান কর্তৃক শালিশের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ  » «   গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   জৈন্তাপুরে বালু ভর্তি ট্রাক আটক:১ মাসের ব্যাবধানে ২ ট্রাক ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ-আটক-১  » «   নবীগঞ্জে কবরস্থান ও সরকারি রাস্তা জোর পূর্বক দখল: হত্যার হুমকি, অভিযোগ দায়ের  » «   দোয়ারাবাজারে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার  » «  

সুদান-আলজেরিয়ায় আরব বিপ্লবের নতুন ঢেউ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশির এবং আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ বুতেফ্লিকার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন স্পষ্ট করেছে যে, ২০১১ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্তের নানা প্রকার সমাপ্তি ও পরিণতি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় পরিবর্তনের বাসনাকে শেষ করে দেয়নি।

 

ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকা লে মণ্ডে এসব জানিয়েছে।

সাংবাদিক বিনইয়ামিন বার্ট সংবাদপত্রের এক প্রবন্ধে বলেন, সেই সব মিশরীয়, যাদের ২০১১ সালের বিপ্লবের মূলকেন্দ্র তাহরির স্কয়ারের স্মৃতি তাড়িয়ে ফেরে, তাদের অনেকেই শেষ কিছুদিন নির্ঘুম রাত্রিযাপন করছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত থেকে তাদের প্রতিবেশী সুদানিদের প্রতি লক্ষ্য রাখছে এবং মিনিটে মিনিটে তাদের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।

মরচে পড়া বসন্ত

বার্ট আরো বলেন, এসব পরামর্শ খাওয়ানো হচ্ছে এমন দুঃখজনক অভিজ্ঞতা থেকে, যার স্বাদ মিশরীয়রা ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের সময় সেনাবাহিনীর ওপর অন্ধ বিশ্বাসের ফলে আস্বাদন করেছিল। তখন আন্দোলনকারীরা তাহরির স্কয়ার ছেড়ে দেয়। এর মাধ্যমে তারা মিশরের জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির ভেতর দিয়ে আড়াই বছর পর সেই পুরনো শাসনই আবার ফিরে আসার পথ মসৃণ করে দেয়, যে এখন লোহার শাসনদণ্ডে মিশরে দমন-নিপীড়নের হুকুমত কায়েম করছে।

কায়রোর সাবেক বিপ্লবী ও খারতুমের বর্তমান বিক্ষোভকারীদের মাঝে সময় ও স্থান ব্যক্ত করে এ সংলাপ সুদানের আন্দোলন, আলজেরিয়ার আন্দোলন এবং ২০১১ সাল থেকে চলমান বিদ্রোহগুলোর মাঝে পারস্পরিক সূত্র তুলে ধরে।

যেকোনো স্থানেই হোক, স্বৈরশাসনের দিকে ফিরে যাওয়া কখনোই স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না (রয়টার্স)

গুরুত্বের সঙ্গে লেখক আরো বলেন, বুতেফ্লিকা ও বাশির বিরোধী আন্দোলনের আকৃতি ধারণ করা আরব বসন্তের এই দ্বিতীয় ঢেউ আবারও প্রমাণ করে যে, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া আরব অভ্যুত্থানগুলোর বিনাশকারী নানা কৌশল ও অধিকাংশ দুঃখজনক পরিণতি মিসমার করে দেয়নি।

স্বৈরাচার প্রত্যাখ্যান

আমেরিকার বৈরুত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ইসাম ফারেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক তারিক মিত্র বলেন, ‘এটা দেখিয়ে দেয় যে, স্বৈরাচারী শাসনের প্রত্যাখ্যানও কিছু দেশের জন্য কতটা হতাশাজনক। স্বৈরাচারিতা এখনও গভীরভাবে রয়েছে যেমন সবসময় ছিল। তাই বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আরবদের বিপ্লব যখন ব্যর্থ হবে তারা আবার আগের ব্যবস্থার দিকেই ফিরে যাবে।’

তিউনিশিয়া ছাড়াও, যা তুলনামূলকভাবে একটি ব্যাপক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। যে দেশগুলোকে আট বছর আগে বিদ্রোহ-আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। এরপর তা হয়তো গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে, যেমন সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়া। অথবা একনায়কতন্ত্রের দিকে ফিরে গেছে, যেমন মিশর ও বাহরাইন। স্পষ্ট যে, এসব ঘটনা আলজেরীয় ও সুদানিদের জন্য নিজেদের নিয়তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় রাজপথে বেরিয়ে আসা থেকে নিবৃত করতে যথেষ্ট ছিল না।

বৈরুতের কার্নেগি ফাউন্ডেশনের পরিচালক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহা ইয়াহইয়া বলেন, আরব বিশ্ব ঐতিহাসিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কেননা বিগত ৬০ বছর ধরে চলমান শাসনব্যবস্থা ২০১১ সালের সংকটের কারণগুলো সমাধান না করেই প্রতিযোগিতার চূড়ান্তে পৌঁছেছে।

প্রতিবাদ সামনে আরো অগ্রসর হওয়ার এটাই কারণ বলে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন।

দুইটি আরব বসন্তের তুলনা করে লেখক বলেন, বুতেফ্লিকার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচনে মনোনয়ন নেয়ার গুরুতর ভুলকে আলজেরিয়ার জনগণের প্রত্যাখ্যান ছিল মিশরীয়দের হোসনি মোবারককে প্রত্যাখ্যানের প্রতিচ্ছবি। হোসনি মোবারক তার প্রেসিডেন্টের পদকে ছেলে জামালের উত্তরাধিকার করে দেশকে প্রজাতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন। এমনিভাবে সুদানিদের একটি রুটির মূল্য বেড়ে তিনগুণ হওয়ার ক্ষোভ এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির দাবিতে তিউনিশিয়ার জনগণের ক্ষোভ ও আন্দোলনের অনুরূপ।

তিউনিশিয়ায় মুহাম্মাদ আল-বু-আযিযি নামে এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতাকে পুলিশ পুরো দেশব্যাপী চলমান রাষ্ট্রযন্ত্রের জোর-জুলুমের ধারাবাহিকতায় অন্যায্য খাজনার দাবিতে লাঞ্ছিত করে এবং তার শেষ সম্বলটুকু ছিনিয়ে নেয়। বিচারহীনতার সেই দেশে সে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করে। এখান থেকেই তিউনিশিয়ার জনগণের মাঝে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আরব বসন্তের সূচনা হয়।

রাজনৈতিক বন্ধ্যাত্ব

শেষ দুই বছরে ঘটে যাওয়া বেশ অনেকগুলো ক্রোধের বিস্ফোরণ ইঙ্গিত করে যে, ২০১১ সালের আগুন এখনও ছাইয়ের নিচে প্রজ্বাল্যমান। দৃষ্টান্ত হিসেবে যেমনটা ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক এলাকা মরক্কোর গ্রামাঞ্চলে একটি শক্তির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। যেমনটা ঘটেছে দক্ষিণ ইরাকের বসরায়। এটি অবহেলিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত একটি এলাকা, যারা স্বায়ত্তশাসনের প্রতি আগ্রহী।

বৈরুতভিত্তিক সিনাবিস বিশ্লেষণ কেন্দ্রের পরিচালক পিটার হার্লিং বলেছেন, ‘আরব বিশ্ব ২০ বছর যাবত তাদের মুখোমুখি হওয়া ব্যাপক রাজনৈতিক বন্ধাত্বের কারণে বিপ্লবের ঝড়ো হাওয়াতেই দিনাতিপাত করছে।’

সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়াবলীর ওপর গুরুত্বারোপকারী এ গবেষক আরো উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে বৈরুতের বসন্ত এবং ফিলিস্তিনি আইন পরিষদে হামাসের হঠাৎ বিজয় ছিল ২০১১ সালে সংঘটিত আরব বসন্তের প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ ও সতর্কবার্তা।

শাসনব্যবস্থায় উন্নতি করার মতো কিছু নেই

হারলিং আরো বলেন, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ এবং ২০০৬ সালে লেবাননে দ্বিতীয় যুদ্ধের মত ভূ-রাজনৈতিক আঘাতগুলো সেই সময় মনোযোগ সরিয়ে দেয়। কিন্তু ২০১০ সালে যখন চাপটি কমে আসে তখন শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত সমস্যাগুলো বহাল তবিয়তেই থাকে। তবে এ বিপ্লব ও অভ্যুত্থান আবারও ফিরে আসবে, যতদিন না রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা নিজেকে উন্নত করার মতো কোনকিছু ধারণ করছে। বিপ্লবীরা, এমনকি শয়তানও অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করে দেখতে পারে।

উপসংহারে লেখক বলেন, যেকোনো জায়গায় স্বৈরশাসনের দিকে প্রত্যাবর্তন কখনোই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে না। আর সমৃদ্ধ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ছাড়া, গৃহযুদ্ধে খণ্ড-বিখণ্ড ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় এমন কোনো সুরক্ষাদানকারী নেই যে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্রোহের জ্বরকে প্রতিহত করবে।

লেখক এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, লিবিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হাফতারের সাফল্য মানে তিউনিশিয়ায় যা ঘটেছিল তার অনুরূপ অভিজ্ঞতা থেকে সে দেশের বঞ্চিত হওয়া।

(আল জাজিরা আরবি অবলম্বনে)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.