সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর অভিযোগ:‘অন্যায়ভাবে আমাদের বাসাবাড়ি ভেঙে দিয়েছেন মেয়র আরিফ’  » «   সুনামগঞ্জের সদরগড়ে দুইপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক সালিশকে পিঠিয়ে হত্যা  » «   জৈন্তাপুরে সিজদারত অবস্থায় এক ইমামের মৃত্যু  » «   সিলেটে আসছে শীত বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা-কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়  » «   কুলাউড়ায় নবনির্বাচিত হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধনে সীমানা প্রাচীর ভাংচুর  » «   সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের বাঁধা  » «   ইংল্যান্ডে প্রতি ৬০ জনে একজন কোভিড আক্রান্ত  » «   ছাতকের তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৯ জনকে কারাদন্ড  » «   দোয়ারাবাজারে কাজ করতে দেরি হওয়ায় দোকান ভাঙচুর, মারধর   » «   সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে  » «   কানাইঘাটের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে শোকের ছায়া-নারী বাবুর্চি সহ দু-জনের লাশ উদ্ধার  » «   শান্তিগঞ্জে ইউপি নিবার্চনে নৌকায় ভোট দেয়ায় প্রাণনাশের হুমকি,থানায় অভিযোগ দায়ের  » «   নগরীর দারগাহ গেইট হোটেলে স্বামীর মরদেহ রেখে দেবরের সঙ্গে স্ত্রী লাপাত্তা  » «   হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলামের মৃত্যু  » «   সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত-বিজয়ী চেয়ারম্যান যারা  » «  

নিজ মেয়ের কাছে নিগৃহীত ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের মা

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::নিজ মেয়ের কাছে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে ক্ষপে উত্তরার নিজ বাড়িতে ফিরতে চান ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের গর্ভধারিনী মা সামসুন নাহার তসলিম। বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির।

সামসুন নাহার তসলিম প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধেশ্রে এক লিখিত চিঠিতে বলেন , আজ আমি আমার জান মালের নিরাপত্তার কারনে আপনার মুখাপেক্ষী। ভয় লজ্জা আর ধুমকীর সামনে নিজেকে আড়াল করে গত কয়েক মাস লুকিয়ে থেকেছি। থানা – পুলিশের কাছে গিয়ে সত্য বলবার চেষ্টা টুকুও আমাকে দেয়া হয় নি। কারণ সেই পথটাও আমার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আমার ৪৮ বছরের সংসার থেকে জান বাঁচানোর তাগিদে এভাবে আমাকে ভেগে বেড়াতে হবে ,তাও কোন দিন ভাবিনি। আমার খাওয়া চলার পয়সা এমনকি বয়স হয়েছে। ওষুধ পাতি কেনার যে পয়সাটুকু লাগে সেটাও আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। উ্চ্চ শি্ক্ষিত হয়েও নিজের স্বার্থ না দেখে তিলে তিলে নিজের গর্ভের সন্তান কে বড় করেছি। যে সন্তান কিনা আজ আমার চরিত্্র হননে উদগ্রীব।

আমর স্বামী বেঁচে থাকতে এমনটি কখনো হয় নি। অথচ তার মৃত্যুর পর আমর সেই সন্তান তুরিন আফরোজ সেতু আজ আমার জীবন নাশে উদ্যত। আমার ন্যাশনাল আইডি কার্ড পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে যাতে আমার কোন জাতীয় পরিচয় না থাকে। প্রধানমন্ত্্রীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন,আপানাকে সরাসরি লিখছি কেননা আপনাকে সে মেনে চলে। তুরিন আফরোজ সেতুর কাছে আজ আমাদের সম্পত্তি কক্ষিগত। আপনিই পারবেন আমাদের বাঁচাতে।

নামসুন নাহার তসলিম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন,‘‘আজ দুই বছর তিন মাস ১৯ দিন ধরে আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার ১৮ দিন পর আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয় তুরিন। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, আমাদের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়ি ভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার ও ওষুধের খরচ চলতো।

এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তুরিন বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাতে ঘরে প্রবেশ করানো নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে তুরিনের সঙ্গে প্রায়ই (ঝগড়া)লাগতো। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম করে সে ভয় দেখাতো এবং বলতো—‘ওরা সবাই তার বন্ধু।’ কোনও কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করানোর ভয় দেখাতো।’

তিনি আরো বলেন ,‘আমি তো ধারা বুঝি না। সে (তুরিন) আরও বলতো,‘পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসবো।’ আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাতো। গ্রামের বাড়ি নীলফামারী যেতে পারি না। সে সেখানকার দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে। প্রতিবাদ করলে কথায় কথায় বড় আপু (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ও ছোট আপুর (প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা) প্রসঙ্গ টানতো।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ভাই শাহনেওয়াজ শিশির সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটিই, আর তা হলো দেশে আমাদের সম্পদ কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি।

একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাসা থেকে আমাদের বের করে দেওয়ার পরও রাজউকের কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধানবহির্ভূত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারীতে আমাদের চাচাতো ভাইবোনদের জমিজমাও জিম্মি করে রেখেছে।’ প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিও জানান শাহনেওয়াজ শিশির।

সংবাদ সম্মেলনে তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটি। আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ তার কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার অভাগিনি মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি। নিজ বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গত ১৩ জুন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শিশিরের নিজস্ব ভবনে বসবাস করেন তুরিন আফরোজ।

তিনি কানাডা প্রবাসী। কয়েকবছর আগে তাদের মাকে তুরিন সে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মাকে নিয়ে কানাডা চলে যান শিশির। ১৩ জুন রাতে তিনি কানাডা থেকে ফিরে নিজের বাসায় গেলে সেখানে বোন তুরিন আফরোজ তাকে ঢুকতে দেননি।এর আগে উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেওয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে।

ওই বছর নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তুরিন ও শিশিরের মা শামসুন নাহার। দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.