সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর অভিযোগ:‘অন্যায়ভাবে আমাদের বাসাবাড়ি ভেঙে দিয়েছেন মেয়র আরিফ’  » «   সুনামগঞ্জের সদরগড়ে দুইপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক সালিশকে পিঠিয়ে হত্যা  » «   জৈন্তাপুরে সিজদারত অবস্থায় এক ইমামের মৃত্যু  » «   সিলেটে আসছে শীত বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা-কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়  » «   কুলাউড়ায় নবনির্বাচিত হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধনে সীমানা প্রাচীর ভাংচুর  » «   সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের বাঁধা  » «   ইংল্যান্ডে প্রতি ৬০ জনে একজন কোভিড আক্রান্ত  » «   ছাতকের তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৯ জনকে কারাদন্ড  » «   দোয়ারাবাজারে কাজ করতে দেরি হওয়ায় দোকান ভাঙচুর, মারধর   » «   সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে  » «   কানাইঘাটের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে শোকের ছায়া-নারী বাবুর্চি সহ দু-জনের লাশ উদ্ধার  » «   শান্তিগঞ্জে ইউপি নিবার্চনে নৌকায় ভোট দেয়ায় প্রাণনাশের হুমকি,থানায় অভিযোগ দায়ের  » «   নগরীর দারগাহ গেইট হোটেলে স্বামীর মরদেহ রেখে দেবরের সঙ্গে স্ত্রী লাপাত্তা  » «   হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলামের মৃত্যু  » «   সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত-বিজয়ী চেয়ারম্যান যারা  » «  

আদিবাসীদের জন্য ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::জনসংখ্যা অনুপাতে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে ৩০ লাখ আদিবাসীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা। এতে করে আদিবাসীরা বরাবরের মতো এবারের বাজেটেও উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করে আদিবাসী সংগঠনগুলো। এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেট পাসের আগেই আদিবাসী উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামসহ আদিবাসীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের’ দাবিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি),কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব কুমার চাকমা প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, টাকার অঙ্কে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। যেটির ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এদেশে ৩০ লাখ আদিবাসী হলে জনসংখ্যা অনুপাতে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সমতল আদিবাসীদের জন্য ৫০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি টাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, আদিবাসীরা ঐতিহাসিকভাবেই শোষণ, বৈষম্য ও মানবসৃষ্ট দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার। তাই আদিবাসীদের মাথাপিছু বরাদ্দ, জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের মাথাপিছুর তুলনায় অন্তত ৩গুন বেশি হওয়া উচিত।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের বা এসডিজি দর্শনানুযায়ী কাউকে পিছনে রাখা যাবে না। তাই আদিবাসী মানুষকে মূলধারার সাথে একই কাতারে আনতে হলে তাদের জন্য সমপরিমাণ বরাদ্দ দিলে হবে না। ইতিবাচক বৈষম্য নীতির আওতায় তাদেরকে ৩গুন বেশি বরাদ্দ দিতে হবে।

এদিকে, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও কাঙ্খিত সুফল পায় না সমতল ও পাহাড়ের ৫৪টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। সরকারী হিসাব অনুযায়ী দেশে আদিবাসী আছে প্রায় ১৬ লাখ তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি। আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী পরিষদ ও কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশই দরিদ্র। এক্ষেত্রে চরম দারিদ্র্যের হার ৪৪ শতাংশ। এ কারণে দেশের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবশ্যই আরও যতœশীল হওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের তাগিদ রয়েছে। বিশেষ করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার কথা জানিয়ে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দেশের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

উল্লেখ্য, সাংবিধানিকভাবে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসাবে স্বীকৃত পাহাড় ও সমতলের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন থেকেই নিজেদের ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাইছে। এই ইস্যুত সরকারের অবস্থানের সঙ্গে তাঁরা একমত নয়। এছাড়া বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ক স্পষ্ট বিবরণী থাকতে হবে। তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছে আদিবাসী নেতারা। শুধু তাই নয়, বাজেট বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে আদিবাসীদের সম্পৃক্তকরণে নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে বলা হয়- নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ক্ষমতায়ন খাতে তাঁদের উপকারভোগ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা থাকতে হবে। এছাড়া উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী-তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বরাদ্দ রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

বাজেট বরাদ্দ সাধারণত মন্ত্রণালয় ভিত্তিক হয় জানিয়ে সঞ্জীব দ্রং বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসীর বাস সমতলে হলেও তাঁদের দেখভালের জন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই। যে কারণে আমরা সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.