সংবাদ শিরোনাম
নবীগঞ্জের অকাল বন্যার পানির সাথে ভেসে এসেছে এক যুবকের লাশ! পুলিশ পড়েছে বিপাকে!  » «   গোয়াইনঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ১  » «   জগন্নাথপুরে ত্রাণের পিছে ছুটছে মানুষ  » «   ওসমানীনগরে প্রশাসনের তালিকায় অবশেষে বাড়লো বন্যাক্রান্তের সংখ্যা  » «   মানবাধিকার ও অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটির বানবাসী মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ  » «   বানবাসিদের তোপের মুখে এমপি মানিক: সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের মধ্যে সংঘর্ষ   » «   চুনারুঘাটে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর মামা কে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা  » «   জৈন্তাপুরে মা -ছেলের লাশ উদ্ধার  » «   তাহিরপুরে ত্রাণের জন্য বানভাসিদের হাহাকার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ  » «   বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন  » «   সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  » «   হেলিকপ্টার থেকে ছুঁড়ে দেয়া ত্রাণ সামগ্রী নিতে গিয়ে আহত ৬  » «   জৈন্তাপুরে ২০ জনকে উদ্ধার করলো বিজিবি টহল দল ও বন্যার্থদের মাজে খাদ্য বিতরন  » «   জৈন্তাপুরে বন্যার্থদের পাশে জৈন্তাপুর মডেল থানা  » «   সিলেট বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে  » «  

ভয়াবহ করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় আপনার শিশু কতটুকু নিরাপদ -বিশেষজ্ঞের অভিমত

লেখক দিনাত চৌধুরী::শিশুরা করোনাভাইরাসে অপেক্ষাকৃত অনেক কম আক্রান্ত হলেও বলা হচ্ছে শিশুরা করোনাভাইরাসের নীরব শিকার। মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সময় অবুঝ শিশু কতটুকু নিরাপদ তা একটি চিন্তা ধারার বিষয়।ঘরে বসে থেকে শিশু একাকীত্বে ভুগছে। শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।দীর্ঘদিনের আবদ্ধ অবস্থা শিশুর সকল ধরনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। একটা শিশু যখন হাঁটতে শেখে, কথা বলতে, দৌড়াতে শেখে, ছবি আঁকে, নাচে এইসব জিনিস শিশুর বিকাশের একটা অংশ। শিশুর সকল ধরনের বিকাশ, বুদ্ধির বিকাশ এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিশুর সময় কাটানোর জন্য আরেকটা শিশুর দরকার হয়। যা কিনা মহামারী সময় কাছে পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করেন, জননন্দিত এবং খ্যাতনামা চিকিৎসক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ সিলেট শাখার কোভিড-১৯ সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ডা. মুজিবুল হক।
তিনি বলেন, বড়দের মতোই জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা শিশুর করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ। কোন কোন শিশুর এসব লক্ষণের পাশাপাশি পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুর নিউমোনিয়া বা সেপ্টিসেমিয়াও হতে পারে। নিউমোনিয়া হলে শিশুর শ্বাস কষ্ট হতে পারে বা বুকের খাঁচা নিচের দিকে দেবে যেতে পারে। এমন কি অক্সিজেনের অভাবে শিশুর শরীরে বিভিন্ন অংশ নীল হয়ে যেতে পারে। সেপটিক শক হলে শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। তবে সকল সর্দি-কাশি-জ্বরই COVID-19 নয়। বাংলাদেশে এখন এমনিতেই ফ্লুর মৌসুম। সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দিজ্বর ব্রঙ্কিওলাইটিস ও নিউমোনিয়া এসব রোগ এখন বেশি হচ্ছে। কাজেই উপরের উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সাধারণ সর্দিকাশি হলে বাড়িতে বসেই শিশুর চিকিৎসা করুন। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দিন। সর্দিকাশির জন্য নাকে নরসল বা সলো ড্রপ দিন। ফেক্সোফেনাডিন না ক্লোরোফেনিরামিন জাতীয় এমটিহিস্টামিনও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে আপনার পরিবারের কেউ যদি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরে থাকেন অথবা আপনার শিশু যদি সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে গিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে যোগাযোগ করুন। জ্বরের সাথে শিশুর শাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এই সময়ে কোন ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার চেয়ে আপনার নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে নিয়ে যাওয়াই উত্তম।
আপনার বাচ্চা যাতে এই মারাত্মক সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত না হয় সেদিকে মনোযোগ দিন। এই সময় শিশুকে বাসা থেকে বের হতে দিবেন না। খুব জরুরী প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে আশা কারো সংস্পর্শ থেকেও শিশুকে দূরে রাখতে হবে। শিশুকে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার শেখাতে হবে। তবে তা ধমক দিয়ে নয়, বুঝিয়ে বলতে হবে। শিশুর হাত পরিষ্কার রাখুন। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শিশুদের গল্পের ছলে বা তথ্য চিত্রের মাধ্যমে বোঝান যে, নাক, চোঁখ বা মুখের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। তাই তারা যেন নাকে মুখে বা চোখে হাত না দেয়।
তবে যেসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ, যেমন যাদের ছোটবেলা থেকে হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে, হাঁপানি আছে বা যারা কিডনি রোগে ভুগছে বা যারা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করে তাদের জ্বর-কাশিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। অসুস্থ হওয়া মাত্র চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
শিশুর টিকা দানের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু টিকা প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। একান্ত অপারগ হলে পরবর্তী সময়ে টিকাদানের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে জানান তিনি।

সর্বশেষে বৈশ্বিক মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রত্যেক অভিভাবকের উদার মন মানসিকতা ও সতর্কতা এবং ধৈর্যসহিষ্ণুতা শিশুদেরকে সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.