সংবাদ শিরোনাম
গোয়াইনঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ১  » «   জগন্নাথপুরে ত্রাণের পিছে ছুটছে মানুষ  » «   ওসমানীনগরে প্রশাসনের তালিকায় অবশেষে বাড়লো বন্যাক্রান্তের সংখ্যা  » «   মানবাধিকার ও অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটির বানবাসী মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ  » «   বানবাসিদের তোপের মুখে এমপি মানিক: সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের মধ্যে সংঘর্ষ   » «   চুনারুঘাটে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর মামা কে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা  » «   জৈন্তাপুরে মা -ছেলের লাশ উদ্ধার  » «   তাহিরপুরে ত্রাণের জন্য বানভাসিদের হাহাকার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ  » «   বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন  » «   সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  » «   হেলিকপ্টার থেকে ছুঁড়ে দেয়া ত্রাণ সামগ্রী নিতে গিয়ে আহত ৬  » «   জৈন্তাপুরে ২০ জনকে উদ্ধার করলো বিজিবি টহল দল ও বন্যার্থদের মাজে খাদ্য বিতরন  » «   জৈন্তাপুরে বন্যার্থদের পাশে জৈন্তাপুর মডেল থানা  » «   সিলেট বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে  » «   ৯ বছর পর আজ চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল কে হচ্ছেন নেতা  » «  

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষাতা কিঞ্চিত আলোচনা

মোঃ আব্দুল মালিক::সম্প্রতি একজন হিন্দু আইনজীবী উচ্চ আদালতে “রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম” বাতিল চেয়ে একটি রীট করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে অনেক ভাবে মত প্রকাশ করছেন। ইতোমধ্যে যেসব মত পাওয়া গেছে তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে (১) ৯০% মুসলমানের দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম আছে, থাকবে। (২) ধর্ম নিরপেক্ষতার ধারনা এসেছে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারত থেকে। (৩) রাষ্ট্র ভাষা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল, ফল, মাছ ইত্যাদি থাকতে পারলে রাষ্ট্র ধর্ম থাকবে না কেন ? ইত্যাদি।

প্রথমে আমার জানতে খুব ইচ্ছে করে রীটকারী ঐ আইনজীবীর নিকট- তিনি কেন এই রীটটি করলেন ? কারণ সংবিধানে যখন ধর্মনিরপক্ষেতা ছিল তখন আর যখন রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম করা হলো তখন হিন্দু সহ এদেশে বসবাসকারী অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক অধিকারে কী কোন পরিবর্তন হয়েছিল ? আর ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কী বিশেষ সুবিধা পেয়েছে ? বাস্তবে তেমন কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

বিশ্বের প্রায় সকল দেশের একটি সংবিধান, একটি জাতীয় সংগীত, একটি জাতীয় পতাকা এবং এক বা একাধিক জাতীয় প্রতীক যেমন: ফুল, ফল, মাছ, পশু, পাখি ইত্যাদি, রাষ্ট্র ভাষা জনসংখ্যার ভিত্তিতে এক বা একাধিক থাকে। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশে রাষ্ট্র ভাষা আছে বলে জানা যায় নি।

দেখা যাক ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এদেশের মানুষের ধর্ম কর্মের অবস্থা কেমন ছিল বা আছে। ব্রিটিশরা এ দেশে ক্ষমতায় আসে পলাশীর যুদ্ধের পর। এর পূর্বে ভারতের শাসক ছিলেন সংখ্যালঘু বিদেশি মুসলমানরা। মুসলমানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ভারত শাসন করলেও হিন্দু ধর্মের উপর কোন হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে জানা যায় নি। সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দু ধর্মের ওপর হস্তক্ষেপ করে ভারতে মুসলিম শাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারতো না। মুঘল শাসন আমলে হিন্দু মুসলিম সবাই যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতেন ইতিহাস তাই বলে।

ব্রিটিশ আমলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যার যার ধর্ম শান্তিতে পালন করতেন। ব্রিটিশ সরকার কারো ধর্মের ওপর হস্তপক্ষেপ করে নাই। তবে ব্রিটিশ শোষন নীতির কারণে ব্রিটিশ ভারতে অনেক মক্তব, মাদ্রাসা, টোল ইত্যাদি হিন্দু, মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কৌশলে তারা খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করেছিল। তবে ব্রিটিশ বিচারকরা হিন্দু, মুসলিম ধর্মীয় বিষয়ে অনেক যুগান্তকারী রায় দিয়েছিলো যা আজো উভয় ধর্মাবলম্বীরা মেনে চলেন। ব্রিটিশকে তাড়িয়ে দিতে হিন্দু মুসলিম সকল ভারতীয় একযোগে আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে ১৯০৬ সালে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিখিল ভারত মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ধর্ম ভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলমানদের আলাদা রাষ্ট্রা পকিস্তান সৃষ্টি হলেও বহাল থাকে ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত আইন, আদালত, শাসন, শিক্ষা সহ সকল কিছু। শুধু পরিবর্তন হয় শাসকের। ব্রিটিশ আমলে এদেশে যে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ছিল পাকিস্তান আমলে সংখ্যার একটু হের ফের হতে পারে তাই থাকে। ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যেভাবে ধর্ম কর্ম পালন করতেন পাকিস্তান আমলে সেভাবেই করতেন।

ধর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পূর্ববঙ্গের মানুষ পাকিস্তানের সাথে যোগ দিলেও পাকিস্তানী শাসকরা প্রথম থেকেই এর অপব্যবহার শুরু করে। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে একমাত্র অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে একমাত্র পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ সংখ্যা গরিষ্টতা পায়। কিন্তু  সোহরাওয়ার্দীকে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারে বা পূর্ব বাংলা পরবর্তী কালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারে রাখা হয় নি। এমনকি তঁাকে পাকিস্তানে আসতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয়। এর পর অযৌক্তিকভাবে ভাষার উপর হস্তক্ষেপ করা হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করা হয়। তুমুল আন্দোলন ও রক্তপাতের বিনিময়ে ভাষার দাবী প্রতিষ্ঠিত হলেও চলতে থাকে সর্ব ক্ষেত্রে বৈষম্য। এক হিসেবে দেখা যায় ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে ১২৯৮ কোটি টাকা। তম্মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে লোকসংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানে অনেক বেশি ছিল। চাকুরি ক্ষেত্রে বাঙালীদের অবস্থান ১০%ও ছিল না। তারপর ১৯৭০ এর নির্বাচন দিল পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ফলাফল না মেনে রাতের অন্ধকারে যুদ্ধ চাপিয়ে দিল। ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করল, ২ লক্ষ মা বোনকে নির্যাতন করল, লক্ষ লক্ষ বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিল, ১ কোটি মানুষকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করল। আর এসব করল ইসলামের নামে।

দেশ স্বাধীন হলো। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হল। শুরু হলো দেশ গঠন। শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মের নামে ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন দেখেছেন। এমনকি যুদ্ধের সময় এদেশের কয়েকটি ইসলামী দলের স্বাধীনতা বিরোধী নেক্কারজনক ভূমিকার অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে বললেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, মুসলমানেরা মুসলমানের ধর্ম, হিন্দুরা হিন্দুদের ধর্ম, অন্যান্যরা তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। রাষ্ট্র সেখানে কোন হস্তক্ষেপ করবে না”। এরপর বঙ্গবন্ধু সরকার ইসলাম ধর্মের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেন। যেমন: বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জাতীয় মসজিদের মর্যাদা দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন, ইসলামি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টা, কাকরাইলে তাবলীগ জামাতের জন্য মার্কাজ মসজিদ বরাদ্দ ও সম্প্রসারণ, ২য় বৃহত্তম মুসলিম জমায়েত, বিশ্ব ইজতেমার জন্য টংগীতে ভূমি বরাদ্দ, মদ, জুয়া, হাউজি, ঘোড়দৌড় আইন করে বন্ধ করা, রেসকোর্স ময়দানের নাম পরিবর্তন করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রাখা, মাদ্রাসা বোর্ড পুর্নগঠন, হজ্ব পালনে সরকারি অনুদান প্রদান, সমুদ্র পথে হজ্জ যাত্রীদের জন্য যাহাজ ক্রয়, বেতার টেলিভিশনে কুরআন প্রচারের ব্যবস্থা, ঈদে মিলাদুন্নবী, সবেবরাত, সবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা, কমিউনিষ্ট রাশিয়ায় তাবলীগ জামাত প্রেরণ, আরব ইসরাইল যুদ্ধে আরবের প্রতি সমর্থন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠনকে সমর্থন করে মেডিকেল টিম প্রেরণ, ওআইসি সম্মেলনে যোগদান ও মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতার যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা পাশ্চাত্য বা ভারত থেকে আমদানি নয়। তাহা ছিল ইসলামের নীতি থেকে আহরিত। আল্লাহ সুবহানাতালা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, তিনি সকল জাতি ধর্মের মানুষের জন্য। আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (স.) কে শুধু মুসলমানদের জন্য প্রেরণ করেন নাই, প্রেরণ করেছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য। মদীনার সনদে ধর্ম নিরপেক্ষতার বাণীর অনুরণন রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আছে, “ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই” সূরা বাকারা-২৫৬। বিদায় হজ্জের ভাষণে নবীজি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এক বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর আমল শেষ হয়। সেনাবাহিনীর ২য় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে ১৫ আগস্টের ঘটনার পর জিয়াউর রহমানেরও দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রপতির খেঁাজ খবর নেওয়া, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্বিকার। এক পর্যায়ে তিনি সেনা প্রধান এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম কে জোর করে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। সামরিক ফরমান বলে তিনি সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ও ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করেন। তারপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে তিনি মদ, জুয়ার লাইসেন্স দিলেন, ১৫ আগস্টের হত্যার বিচার না করে, বিচারের পথ আইন করে বন্ধ করলেন, হত্যাকারীদের বিদেশে চাকুরী দিয়ে পুরষ্কৃত করলেন। ছাত্র নেতাদের প্রমোদতরীতে ভ্রমণ করালেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করলেন, যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের এদেশে রাজনীতির সুযোগ দিয়ে মন্ত্রী, এমপি বানালেন। যে শাহ আজীজ ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে গিয়ে বলেছিল পূর্ব পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা ভারতের প্ররোচনায় কতিপয় হিন্দু গন্ডগোল করছে।” সেই শাজ আজিজকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। এর পূর্বে তার ও এদেশের মানুষের আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যেন ছিল না।

১৯৮১ সালে জিয়ার যুগ শেষ হলো। ১৯৮২ সালে জোর করে ক্ষমতা দখল করেন সেনা শাসক এরশাদ। তিনি এক চামচ বাড়িয়ে করলেন রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম করে তিনি ছাত্র জনতার মিছিলে ট্রাক উঠাইয়া মানুষ হত্যা করলেন। সেলিম, দেলোয়ার, রাউফুন, বসুনিয়া, দিপালী, ময়েজ উদ্দিন, ডাক্তার মিলন, নূর হোসেন গংদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করলেন। আর একের পর এক রাষ্ট্রের টাকায় বিয়ের নামে বিবাহিত মহিলাদের সংসার ভেঙ্গে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের মর্যাদা বৃৃদ্ধি করলেন।

দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন সরকার ধর্ম কর্মে এদেশের জনগণকে কোন বাধা দেয় নি। পূর্বে যা ছিল তাই আছে। ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার ইসলাম ধর্মের জন্য যা করেছিল ধর্মাশ্রয়ী কোন সরকার তা করেনি। বরং ধর্ম বিরোধী কর্মকান্ড করেছে। তাহলে সমস্যা কোথায় ? হ্যা সমস্যা আছে। আর তা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সরকার ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি ঘোষণা করে, ধর্মের নামে রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধি রাজাকার আলবদরদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর জিয়াউর রহমান তাদেরকে রাজনীতির অধিকার দিয়ে রাজনীতিতে পূর্ণবাসিত করেছেন। এরশাদ সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। উল্লেখ্য জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৫ আগস্টের ভূমিকা বিতর্কিত। আর এরশাদ তো যুদ্ধের সময় ২ বার পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন নি। পরে পাকিস্তান ফেরত হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন। ১৫ আগস্ট এরশাদ ছিলেন ভারতে প্রশিক্ষণে। ঘটনার পর পরই তিনি বাংলাদেশে আসেন। প্রথমে উপ সেনা প্রধান, পরে সেনা প্রধান হন। জিয়া হত্যায় তার ভূমিকা বিতর্কিত। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে উৎখাত করে তিনি জোর করে ক্ষমতা দখল করে শাসরিক ফরমান বলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেন। জিয়া এরশাদের কার্যকলাপ কী ইসলাম সম্মত ছিল ?

আজকে যারা রাষ্ট্রধর্ম বা ধর্মের নামে সোচ্চার তাদের মূল ঐ পাকিস্তানি ভাব ধারায়। জিয়া, এরশাদ এমনকি জিন্নাহ কেউই ধার্মিক ছিলেন না। ছিলেন মুখে বা কাগজে ধার্মিক। আর এখানেই ধর্ম নিরপেক্ষতা আর রাষ্ট্রধর্মের গূঢ়ার্থ নিহিত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.