মোঃ আব্দুল মালিক::এক সময় বাংলাদেশ পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ এসব মসলা জাতীয় পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু সরকারের যথাযথ উদ্যোগের অভাব এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল নীতির কারণে বিগত বছরগুলিতে বাংলাদেশ এসব পণ্যে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে। সিংহভাগ পিয়াজ, হলুদ, শুকনা মরিচ আমদানি হয় ভারত থেকে। রসুন ও আদা আসে চীন থেকে। তাছাড়া আদা ও অন্যান্য মসলাজাতীয় দ্রব্য প্রচুর পরিমাণে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। প্রয়োজনে আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হবে এটা কোন দোষের নয়। তবে উৎপাদন করে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন।
বাঙ্গালির রসনা বিলাসে পিয়াজের স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় পিয়াজের খাদ্যমান ভালো হওয়া স্বত্ত্বেও আকার ছোট ও ভারতীয় পিয়াজের মতো সুন্দর না হওয়ায় ভোক্তারা দেশীয় পিয়াজে ততটা আগ্রহী নন। ফলে পিয়াজের বাজার চলে গেছে ভারতের দখলে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত হঠাৎ করে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়েন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ। পিয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি কেজি ১০০/১৫০/- টাকা। ২০১৯ সালেও ভারত সরকার এভাবে হঠাৎ করে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পিয়াজের সংকট দেখা দেয়। ২০১৯ ও ২০২০ সালের এই সংকট দেখে দেশীয় চাষীরা পিয়াজ উৎপাদনে মনযোগী হন। গতবারের তুলনায় এবার দেশীয় পিয়াজের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বর্তমানে দেশী পিয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় গত ২৮ ডিসেম্বর ভারত আবার পিয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ভারতীয় পিয়াজ আসতে শুরু করেছে। এই ভরা মৌসুমে ভারতীয় পিয়াজ বাজারে আসলে দেশীয় উৎপাদকরা মার খাবে, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ফলে কৃষকরা আর পিয়াজ চাষে উৎসাহিত হবেন না। ভারত যদি তার দেশ ও জাতির স্বার্থে সংকটময় মুহূর্তে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের কৃষকের স্বার্থে ও পিয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য এ সময় বাংলাদেশ পিয়াজ আমদানি বন্ধ রাখতে পারবে না কেন ? এই মূহুর্তে যদি পিয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয় বা আমদানিকৃত পিয়াজের ওপর টেক্স, ভ্যাট বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে দেশীয় কৃষকরা উপকৃত হবেন, প্রকারান্তরে দেশ লাভবান হবে। তাই জাতীয় স্বার্থে অবিলম্বে ভারতীয় পিয়াজ আমদানি বন্ধ করা বা টেক্স, ভ্যাট বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী, অর্থনীতিবিদ, ও নীতিনির্ধারকদের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শিক্ষক লেখক কলামিস্ট
মোঃ আব্দুল মালিক
মোবাইলঃ ০১৭৪৯-৭৫০৫৩৫