সংবাদ শিরোনাম
ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-২, গ্রেফতার-১  » «    যারা সন্ত্রাসকে পছন্দ করে তারাই র‌্যাবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে.সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ১৫০ পরিবারের মধ্যে চাউল বিতরণ করল অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটি  » «   অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দোয়ারাবাজারে,৭ শ্রমিককে কারাদণ্ড  » «   সিলেটের পথ শিশুরা ড্যান্ডিতে আশক্ত  » «   আমরণ অনশনে শাবি শিক্ষার্থীরা:সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ভিসি  » «   ভিসি’র পদত্যাগ না হলে আন্দোলন চলবে:শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  » «   ওসমানীনগরে সংঘর্ষে আহত ১২,পাল্টাপাল্টি মামলা  » «   আখালিয়ায় ফার্মেসীতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ১, লুট  » «   শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উত্তাল শাবি: ভিসি’র পদত্যাগের দাবি  » «   তাহিরপুরে জাদুকাটায় অবৈধ পাথর কোয়ারীর মাটি চাপায় এক যুবক নিহত  » «   শাবিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ : অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ  » «   আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু  » «   শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে  » «   ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস জাফলং ইউনিটের জলবায়ু ধর্মঘট অনুষ্ঠিত  » «  

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে হইচই

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘কতবার ডিও (আধা সরকারি) লেটার দেব? আমার এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নেই, ডাক্তার কবে পাব? এক্স–রে মেশিন কবে পাব? রেডিওলজিস্ট কবে পাব? স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যতবার বলি, উনি ডিও লেটার দিতে বলেন। কতবার দেব?’

মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দাবি সম্পর্কে পীর ফজলুর বলেন, ‘চলমান বরাদ্দের টাকাই খরচ করতে পারেনি। আবার বরাদ্দ চেয়েছেন।’

জাপার আরেক সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টাকা খরচ করতে পারেনি। ফেরত দিয়েছিল। এটা আমরা চাই না। খরচ করতে না পারলে এখানে ৩৫০ জন এমপিকে ভাগ করে দেন। আমরা খরচ করি। স্বাস্থ্যসেবা আমরা দেখব। আপনাদের দরকার নেই। ডাক্তার-নার্স নিয়োগ করতে পারছেন না। ৩৫০ এমপিকে দায়িত্ব দেন। আমরা নিয়োগের ব্যবস্থা করি।’

বিএনপির রুমিন ফারহানা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিময় তুলে ধরে বলেন, ‘এই যে বরাদ্দ দিচ্ছি সেটা কোথায় যাচ্ছে? বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে কি না, সেই প্রশ্ন চলে আসছে।’

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি দূর করতে হলে ডালপালা কেটে লাভ নেই। গাছের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক বলেন, ‘এরশাদ সরকারের সফল মন্ত্রীর ছেলেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মনে করেছিলেন সফল হবেন। ভবিষ্যতে সফল হবেন বলে আশা করছি। তবে ৯ মাস হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরে পড়ে থাকে কীভাবে?’

এ ছাড়া বিএনপির মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। করোনাভাইরাসের টিকার অপ্রতুলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

পরে জবাব দিতে উঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হাসপাতালের চেয়ার। আপনাদের দায়িত্ব আছে। আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক নিয়ে কথা বলছেন। মাস্ক তো কোনো দিন কেনাই হয়নি। রিসিভ করা হয়নি। তার পেমেন্ট দেয়া হয়নি। ঢালাও অভিযোগ দিলে তো চলবে না।’

এ সময় বিরোধী দলের বেঞ্চ থেকে হইচই হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদরা।

মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে অনিয়মের কথা বললে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুনির্দিষ্ট বলতে হবে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে?

এ সময় বিরোধী দলের দিকে থেকে আবার হইচই হলে মন্ত্রী বলেন, ‘মাস্কের কোনো টাকাই তো দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে। ঢালাওভাবে বললে হবে না।’

এ পর্যায়ে আবারও হইচই হয়। একপর্যায়ে মন্ত্রী বিরোধী দলের সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না বলে জানান।

মন্ত্রী জানান, ২ ও ৩ জুলায়ের মধ্যে মডার্নার ২৫ লাখ টিকা আসবে। একই সময়ে চীন থেকেও টিকা আসবে। কোভাক্সের মিলিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি টিকার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি টিকা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া যাবে। তখন দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।

গত অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাড়তি ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে বলে জাহিদ মালেক জানান। তিনি বলেন, টাকা খরচ করতে না পারার অভিযোগ ঠিক নয়।

বাড়তি খরচের হিসাব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা কেনায় তিন হাজার, করোনা পরীক্ষায় দুই হাজার এবং কোভিড রোগীর চিকিৎসায় দুই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ‘ভালো’ দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ভারতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে হয়নি। গত এক বছর সবকিছু বন্ধ। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারছে না কেউ। তাঁরা তো দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.