সংবাদ শিরোনাম
ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের মসজিদ ঘিরে ধ্রুমজাল!  » «   ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের দক্ষিণ কুর্শা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, পরিবারে চলছে শোকের মাতম  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক, আহত ৫  » «   মদিনা মার্কেটস্থ কালিবাড়ি রোডে ট্রাকচাপায় ব্যবসায়ী ফয়জুর নিহত  » «   খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে-সিলেটে খাদ্যমন্ত্রী  » «   আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান কর্তৃক উপকারভোগীদের ২শতাধিক ড্রামের টাকা আত্মসাত,বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের  » «   গোয়াইনঘাটে পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত  » «   সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ১৬ শত একর পাকা ধান ও বাড়ি-ঘর ভেসে গেছে  » «   সাংবা‌দিক বাবরের পিতার মৃত্যুতে অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটি সিলেট এর শোক প্রকাশ  » «   জৈন্তাপুরে নৌকা ডুবিতে একি পরিবারের ৫ জন উদ্ধার ১ জন নিখোঁজ  » «   সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সীমান্ত এখন গরু চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য  » «   নবীগঞ্জে নিহত জাহান খুনের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ধরতে পড়েনি পুলিশ!  » «   পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার সাক্ষী দিলেন তার স্ত্রী তান্নী  » «   নবীগঞ্জে ধর্ষককারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত  » «   জগন্নাথপুরে ধান সংগ্রহ শুরু  » «  

ওসমানীনগরে আচরণ বিধির তোয়াক্কা না করে ‘ফ্রি স্টাইলে’প্রার্থীদের প্রচারণা 

শিপন আহমদ,ওসমানীনগর::আগামী ৩১ জানুয়ারী ৬ষ্ট ধাপে সিলেটের ওসমানীনগরের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতীক বরাদ্ধের আগে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র মতে,কোনো রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি,সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, প্রতীক বরাদ্ধের পূর্বে কোনো প্রকার প্রচারণা করার বিধান না থাকলেও উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য পদের প্রাথর্ীরা আচরণ বিধির কোনো তোয়াক্কা করছেন না। নিজ নিজ পক্ষে জনসমর্থন আদায় করতে নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সভা সমাবেশ,গণসংযোগ,পোস্টার,ক্যাম্পস্থাপনসহ সবকিছুই চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকটা ‘ফ্রি স্টাইলে’।

নির্বাচন কমিশিনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী,আগামী ১৪ই জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্ধের তারিখ ঘোষনা থাকলে গত এক মাস ধরেই উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাথর্ীরা স্বাস্থ্য বিধি ও আচরন বিধি লঙ্গণ করে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে অথবা টিভির নাম সম্বেলিত অখ্যাত,কুখ্যাত ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে সভা ও সমাবেশসহ হাজার হাজার লোকজন জমায়েত করে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেন অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরাসহ স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সম্পন্নরোপে নিরব থাকায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার তাজপুর,উমরপুর, উসমানপুর, দয়ামীর,সাদীপুর, গোয়ালাবাজার,বুরুঙ্গা বাজার ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাথর্ীরা আচরন বিধি ভঙ্গ করে নিজ নিজ প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে জানতে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিস বলেছে, আচরণ বিধির লঙ্গণের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখার কথা। আবার উপজেলা প্রশাসন সূত্র বলছে প্রতীক বরাদ্ধের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা প্রাথর্ী কতর্ৃক আচরণ বিধি লঙ্গনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টারা যদি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা চান তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। প্রশাসনের এমন কৌশলী নিরবতায় এভাবে চলতে থাকলে ওসমানীনগরে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে সংঘাতসহ নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ উপজেলার শতশত লোকজন করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চেয়ারম্যান প্রাথর্ীদের এসব আচরন বিধি লঙ্গন দেখে একাধিক ইউনিয়নের সাধারন সদস্য প্রাথর্ীরা প্রতীক সম্মেলিত প্রচারনা চালাতে দিদ্বা করছেন না। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মোটরযান ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউন করে প্রচারণা না চালানোর নিষেধ থাকলেও মনোনয়ন জমা দেয়া থেকে শুরু করে বিশাল শোডাউন ও গাড়ি বহর নিয়ে মনোনয়ন দাখিলসহ প্রতীক সম্মেলিত প্রচার প্রচারণাসহ বিশাল-বিশাল জনসমাবেশ করে যাচ্ছেন প্রাথর্ীরা। এসব বিষয়ে একধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাথর্ীরা অপর প্রাথর্ীর বিরুদ্ধে নির্বাচন অফিস ও ইউএনও কে মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না বলে একাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাথর্ীরা অভিযোগ করেছেন। পথসভা ও ঘরোয়া সভার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে সভার স্থান ও সময় জানানোয় কথা থাকলেও এসবের যেন কিছু্ই বাস্থবায়ন হচ্ছে না এই উপজেলায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে,উপজেলার সাদীপুর,উসমান পুর,বুরুঙ্গা বাজার,তাজপুর,দয়ামীর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ বিএনপির সমর্থিতরাসহ সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রাথর্ীরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে শুধু আচরন বিধিই লঙ্গন করে ক্লান্ত হচ্ছেন না এসব ইউনিয়নে এক প্রাথর্ী অপর প্রাথর্ী সমর্থক ও সংখ্যালুগু ভোটারদের নানা ভাবে হুমকি ধামকিসহ কালো টাকার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। আচরন বিধি লঙ্গনের বিষয়ে উপজেলা ৮ ইউনিয়নের একাধিক চেয়ারম্যান প্রাথর্ীদের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নিতে চাইলে অনিহা প্রকাশ করে এক প্রাথর্ী অপর প্রাথর্ীদের দোষারোপ করে নানা অযুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করেন।

উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রাথর্ী সমুজুল হক আলকাছ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী আচরন বিধি মেনে নির্বাচন পরিচালনা করে গেলে এ ইউনিয়নে মনোনয়ন জমা দেয়ার পূর্ব থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাথর্ীরা সভা সমাবেশ, মিছিলসহ অহরহ আচরনবিধি লঙ্গন করে যাচ্ছেন। এছাড়া আমার কমর্ী সমর্থকসহ সংখ্যালুগু ভোটারদের নানা ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে নিবার্চনকে ঘিরে বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নে সংঘাত ও মারামারি আশংঙ্কা বিরাজ করছে। সার্বিক বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উধ্ধর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উমরপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রাথর্ী বর্তমান চেয়ারম্যান মো: গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি যথাসাধ্য আচরন বিধি মেনে প্রচারনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে গেলেও আমার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি সমর্থিত সতন্ত্র প্রাথর্ীরা আচরন বিধির তোয়াক্কা না করে কালো টাকার প্রভাব বিস্তারের চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন।

উমরপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত সতন্ত্র প্রাথর্ী আব্দুল হেকিম বলেন, আমি আচরন বিধি লঙ্গন করছি না। এ ব্যাপারে আমি এখন বক্তব্যও দিতে পারব না। দুই আড়াইশত লোকজন নিয়ে আমি এখন গনসংযোগ করছি।

সাদীপুর ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রাথর্ী গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতীক বরাদ্ধের আগে নির্বাচনী সভা সমাবেশ করার বিধান না থাকলেও আমার প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ দলীয় প্রাথর্ীসহ তাদের সমর্থকরা তা মানছেন না। এ বিষয়ে আমি ইউএনও মহোদয়সহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাথর্ী প্রতীক সম্মেলিত ব্যানার, পোষ্টারসহ তুরণ নির্মান করে দেদাড়ছে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন যা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপন্থি।

সাদীপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ দলীয় প্রাথর্ী শাহেদ আহদ বলেন,আমি আচরণ বিধি করে কোনো প্রচার প্রচারনা করছি না।দলীয় ভাবে কমর্ী সবাবেশ করা হয়েছে। প্রতীক সম্মেলিত কোনো পোষ্টার বা লিফলেট বের করিনি।

উসমানপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত সতন্ত্র প্রাথর্ী আবদুল্লাহ মিসবাহ বলেন,নির্বাচনকে ঘিরে প্রাথর্ীদের পক্ষ থেকে উসমানপুর ইউনিয়নে সভা সমাবেশ হচ্ছে। তবে এখানে আমরা এক প্রাথর্ী অপর প্রাথর্ীর সাথে ভাতৃত্বপূর্ন সম্পর্ক বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। আচরন বিধি যাহাতে লঙ্ঘন না হয় সে দিকে সজাগ থেকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা করার চেষ্ঠা করছি।

দয়ামীর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত সতন্ত্র প্রাথর্ী বর্তমান চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, মনোনয়ন দেয়ার পূর্বে ঘরোয়া পরিবেশে আমি কর্মী সভা ও মতবিনিময় করলেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে আচরন বিধি মেনেই নিরবে সাধারণ ভোটারদের সমর্থক আদায়ের চেষ্ঠা করছি। কিন্তু অনান্য প্রাথর্ীরা বিশাল বিশাল গনসমাবেশ মিছিল মিটিংসহ গন সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনও লিখিত অভিযোগ ছাড়া এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাইন উদ্দিন বলেন, আচরন বিধি লঙ্ঘন করে সভা সমাবেশ করার বিষয়ে কোনো প্রাথর্ীর বিরুদ্ধে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে এবং কোনো প্রাথর্ী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে থাকলে খোঁজ নিয়ে অভিযোক্ত প্রাথর্ী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু লায়েশ দুলাল বলেন,প্রতীক বরাদ্ধের আগ মূহূত্ব পর্যন্ত  প্রতীক সম্মেলিত ব্যানার পোষ্টার ব্যবহার করে নির্বাচনী সভা সমাবেশ গণসংযোগসহ নির্বাচন কমিশনের নিদের্শনার বাহিরে গিয়ে প্রচারনা না করার জন্য প্রাথর্ীদের সথর্ক করে দেয়া হয়েছে।কোনো প্রাথর্ী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে খেঁাজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা বলেন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।নির্বাচনী আচরণ বিধির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রাথর্ীদের সথর্ক থাকার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো প্রাথর্ী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে থাকেন তাহলে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত:নিবার্চন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত ওসমানীনগরের ৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৮ জন সাধারণ সদস্য পদে ২৭৮ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৮৮জন মনোনয়ন দাখিল করেন। গত ৬ জানুয়ারী যাচাই বাচাই শেষে সকলের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষনা করেন সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.