সংবাদ শিরোনাম
গোয়াইনঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার ১  » «   জগন্নাথপুরে ত্রাণের পিছে ছুটছে মানুষ  » «   ওসমানীনগরে প্রশাসনের তালিকায় অবশেষে বাড়লো বন্যাক্রান্তের সংখ্যা  » «   মানবাধিকার ও অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটির বানবাসী মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ  » «   বানবাসিদের তোপের মুখে এমপি মানিক: সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের মধ্যে সংঘর্ষ   » «   চুনারুঘাটে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর মামা কে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা  » «   জৈন্তাপুরে মা -ছেলের লাশ উদ্ধার  » «   তাহিরপুরে ত্রাণের জন্য বানভাসিদের হাহাকার পানি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ  » «   বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন  » «   সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  » «   হেলিকপ্টার থেকে ছুঁড়ে দেয়া ত্রাণ সামগ্রী নিতে গিয়ে আহত ৬  » «   জৈন্তাপুরে ২০ জনকে উদ্ধার করলো বিজিবি টহল দল ও বন্যার্থদের মাজে খাদ্য বিতরন  » «   জৈন্তাপুরে বন্যার্থদের পাশে জৈন্তাপুর মডেল থানা  » «   সিলেট বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে  » «   ৯ বছর পর আজ চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল কে হচ্ছেন নেতা  » «  

শাল্লার বাহারা ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ কর্তৃক এক মহিলা দর্জিকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযোগ দায়ের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু কর্তৃক একজন মহিলা দর্জিকে যৌন নিপীড়ন উদ্দেশ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। একজন নির্বাচিত তৃণমূলের জনপ্রতিনিধির এমন ঘটনায় পুরো শাল্লা উপজেলায় জনমনে রীতিমতো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ মে রাতে । এ ঘটনায় শ্লীলতাহানির অপচেষ্টার শিকার ঐ নারী গত ১২ই মে উপজেলার ৩নং বাহারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুকে অভিযুক্ত করে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সে বাহারা ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের মৃত নরেশ চন্দ্র চৌধুরীর ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,অভিযোগকারী গত ২০ বছর ধরে স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলা হিসেবে স্থানীয় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে একটি দোকানে দর্জির কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন রাত প্রায় ১০টায় বাসায় রান্না করতে না পেরে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের পূর্ণিমা হোটেলে খেতে যান। এ সময় চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু,ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে দেখে তিনি হোটেলে প্রবেশ না করে বাহিরে দরজার পাশে দাড়িঁয়ে অপেক্ষা করছিলেন কখন হোটেলে লোকজন কমবে আর তিনি গিয়ে এ সুযোগে রাতের খাবার খেয়ে আসবেন। কিন্তু ঐ স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাকে দরজার পাশে দেখে চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু তার খাবারের প্লেটে তড়িঘড়ি করে হাত ধুয়ে তার শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে অশালীন মন্থব্যে করেন । ঐ নারীর হাত ধরে টেনে ধরে তাকে রাতে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ বলেন এবং এর বিনিময়ে দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান বলে টানাটানি শুরু করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা পরিষদের সাধারন সদস্য সজল চন্দ্র দাস এগিয়ে এসে চেয়ারম্যানের হাত থেকে ঐ নারীকে ছাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও পূনরায় চেয়ারম্যান আবারো এসে ঐ নারীকে রাতে তার পরিষদে নিতে প্রানান্তর চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়। অবশেষে ঐ চেয়ারম্যানের কবল থেকে আত্ম সম্মান রক্ষার জন্য স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাটি দ্রæত পূর্ণিমা হোটেলের ভেতরে চলে যান। এদিকে ঐ নারীকে নিতে না পেরে চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও জোরপূর্বক ধর্ষনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তখন আশপাশের লোকজন একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন অশালীন কথাবার্তা শুনে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। পরে যৌন নির্যাতনের অপচেষ্টার শিকার ঐ নারী বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে কোন প্রতিকার পাননি বলে উল্লেখ করেন। যৌন নিপীড়নের শিকার ঐ নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান,এমন চরিত্রহীন নেশাগ্রস্থ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকার ও প্রশাসনের উর্ধবতন কৃর্তপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পূর্নিমা হোটেলের মালিক পুলিন চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমার হোটেলের রুটি সামনেই এমন অনাকাংঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে। এছাড়াও গত মার্চ মাদকাসক্ত বাহার ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু তার পরিষদে কর্মরত ইউপি সচিবকেও প্রকাশ্য ভাবে লাঞ্ছিত করে। যা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হয়েছিল। এর আগে ঐ চেয়ারম্যান দ্বারা বেশ কয়েকটি বাধেঁর কাজ তাকে দিতে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূমের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং অফিস কক্ষের মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করেন এবং অফিসে রক্ষিত কম্পিউটার ভাংচুর করেন।

এবিষয়ে শাল্লা থানায় উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়। যা বিজ্ঞ আদালতে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু প্রকৌশলীর দায়েরকৃত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন (৪২দিনের) জামিন আনলেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নি¤œ আদালতে সারেন্ডার না করায় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ঘটনার সময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা বাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সজল চন্দ্র দাসের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ৩নং বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি গত ৮দিন ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্যর ঢাকার বাসায় অবস্থান করছি তাহলে কিভাবে আমি ঐ স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলাম। একটি পক্ষ আমাকে ঘায়েল করতে এমন মিথ্যা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেবের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে মেইলে অভিযোগটি দেখেছি ছুটি থেকে এসে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.