সংবাদ শিরোনাম
সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ  » «   জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্বান্ত-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল  » «   দেশের সংকট নিরসনের জন্য আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই :খন্দকার মুক্তাদির  » «   চুনারুঘাটে ছেলের হাতে মা খুন,ছেলে আটক  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মালামালসহ আটক ২   » «   ওসমানীনগর থানার ওসি অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ-মোকাব্বির খান এমপি  » «   ভোলায় পুলিশী ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ঘুষ ছাড়া সহজে কারো পাসপোর্ট হয়না: ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি  » «   সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা  » «   জামালগঞ্জে জামায়াতের আমীর দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র জিহাদি বইসহ ২জন আটক-মামলা  » «   সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু  » «   জৈন্তাপুর সীমান্তের ডিবির হাওর এলাকায় ৪৮ বিজিবি’র মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত  » «   ওসমানীনগরে সাংবাদিকের বাড়িতে কর্মরত যুবকের লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার  » «   দোয়ারাবাজারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «  

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের বিক্ষোভ মিছিল

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::সারাদেশে অব্যাহত লোডশেডিং, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী নীতি, দূর্নীতির জন্য দায়িদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

উপরোক্ত দাবিতে আজ ২রা আগষ্ট, মঙ্গলবার, বিকাল ৫ টায় নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়। মুখলেছুর রহমান এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সদস্য এডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, তামান্না আহমেদ, প্রসেনজিৎ রুদ্র, সঞ্জয় কান্ত দাস প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,সিলেট সহ সারাদেশ আজ প্রায় অন্ধকারে নিমজ্জিত। লোডশেডিং এখন জাদুঘরের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়িত এরকম চটকদার বিলবোর্ডের মাধ্যমে মানুষকে এতদিন বিভ্রান্ত করে রেখেছিল সরকার। আজ মানুষের কাছে তা পরিষ্কার হয়েছে। জ্বালানি নিয়ে দূর্নীতি নতুন না বি এন পি আমলে তারেক রহমান খাম্বা লিমিটেড দিয়ে দূর্নীতি করেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের আয়োজন না করে সারাদেশে খাম্বা বসানো হয়েছিল। আওয়ামীলীগ অর্থাৎ মহাজোট ক্ষমতায় এসে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যাবসায়ীদের রেন্টাল, কুইক রেন্টালের ব্যাবস্থা করল,কেউ যাতে কোন বিরোধ কিংবা মামলা করতে না পারে এজন্য ইনডেমনিটি এক্ট করেছে। দ্রুত বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য ছোট খাট কিছু জেনারেটর পদ্ধতি চালু করল যার নাম দিল বার্জ মাউনন্টেন,কুইক রেন্টাল। আমাদের দল সহ তেল- গ্যাস-বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বহু বছর ধরে সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরলেও সরকার ব্যাবসায়ীদের স্বার্থে আমলে নেয় নি,আজ খেসারত দিচ্ছে জনগন।অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎশক্তি বৃদ্ধিই এখন সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসেবে, ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২৫ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহক চাহিদা গরমকালে ১৪ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মেগাওয়াট,এবং শীতকালে ৮ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎও ব্যাবহার করা যাচ্ছে না। অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে সচল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আর এর খেসারত হিসেবে বেসরকারি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যাবহার না করেই চুক্তি অনুযায়ী তথাকথিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ প্রতিবছর গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা করে গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে।গত ১৫ বছরে এই গচ্চার পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি। দলীয় ব্যাবসায়ীদের সুবিধা দিতে একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয়েছে। চাহিদা না থাকায় এসব কেন্দ্র প্রয়াই বন্ধ থাকে। আবার সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রেখে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন অব্যাহত লোডশেডিং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে বলেন,বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার বাস্তব চিত্র করোনা সংকটকালে দৃশ্যমান হয়েছে। প্রত্যেক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল,উপজেলা হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল সমূহে অপারেশন থিয়েটার রয়েছে অপারেশন চলাকালীন বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে কেমন পরিস্থিতি হবে ভাবলে গা শিউরে ওঠে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। দেশে ছোট -বড় অনেক কোল্ড স্টোরেজ আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয় বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে তা ব্যাহত হবে যার বিরূপ প্রভাব বাজারে পড়বে এবং আরও মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হবে। দেশের মধ্যবিত্ত প্রতিটি পরিবারে ফ্রীজে খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয় এভাবে যত ভাবা যায় ততই সংকটের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে।রেন্টাল, কুইক রেন্টাল সহ অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা দূর করে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে স্থল ও সমুদ্র ভাগে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা অনেকদিন যাবৎ বলে আসছি মেঘাপ্রকল্প সমাধান নয়,আমাদের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ জল বিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ, বায়ূ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিতে হবে। রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধ একটা সংকট সৃষ্টি করলেও মূল সংকট সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী নীতি  ও দূর্নীতি।লোডশেডিং এর কবল থেকে জনজীবন রক্ষা করতে হলে, দেশকে রক্ষা করতে হলে সরকারের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী নীতি ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হতে হবে। এই আন্দোলনে সকলের অংশ গ্রহণ প্রত্যাশা করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগর ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শেষ হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.