সংবাদ শিরোনাম
দক্ষিণ সুরমায় মেয়েকে ফিরে পেতে এক পিতার আকুতি  » «   বানারীপাড়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দূর্দান্ত প্রতারক রঞ্জন গ্রেফতার  » «   দক্ষিন সুরমার সুলতানপুর-গহরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ৩  » «   সাংবাদিক অজয় পালের প্রতিকৃতিতে সিলেটের সর্বস্থরের নাগরিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’ শেরপুরে হাজারো মানুষের ঢল  » «   দক্ষিণ সুমরার বাইপাস এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত  » «   আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠছে: মন্ত্রী ইমরান  » «   আওয়ামীলীগের বিদায় নিশ্চিত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্টা করতে হবে :কাইয়ুম চৌধুরী  » «   অবকাঠামো উন্নয়ন এর মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে-প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ  » «   ছাতকে অধ্যক্ষ অপসারণের দাবীতে সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগ  » «   দোয়ারাবাজারে বিজিবি’র অভিযানে চৌদ্দ লক্ষ টাকা উদ্ধার  » «   দোয়ারাবাজারে চিলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন! ২টিড্রেজার মেশিনসহ বালু জব্দ  » «   কুলাউড়ায় ৩ কেজি গাঁজাসহ ১জনকে আটক করেছে পুলিশ  » «   প্রধানমন্ত্রীর নতুন স্বপ্ন স্মার্ট বাংলাদেশে কেউ পিছিয়ে থাকবেনা : জেলা প্রশাসক  » «   শীত বস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছে মানবাধিকার ও অনুসন্ধান কল্যাণ সোসাইটি  » «  

সুনামগঞ্জে শিক্ষা অফিসার এর বিরুদ্ধে দুদকে অর্থ কেলেংকারীর অভিযোগ 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান ও দিরাইয়ের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্নীতি ও অর্থ কেলেংকারীর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ৭আগষ্ট ২০২২ইং তারিখে উপ-পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমম্বিত জেলা কার্যালয়,২৪নং এতিমস্কুল রোড, বাগবাড়ি সিলেট কার্যালয়ের অভিযোগ বক্সে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ অভিযোগ দায়ের করেন দিরাই উপজেলার পশ্চিম শরীফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য উজ্জল চৌধুরী। অভিযোগপত্রে উজ্জল চৌধুরী উল্লেখ করেন দিরাইয়ের পশ্চিম শরীফপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারী করণ করা হয়। ঐ বিদ্যালয়ের অনুমোদন সংখ্যা রয়েছে ৫টি। বিদ্যালয়টি সরকারী করণের পর ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোঃ সেলিনা আক্তার,সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের মদদে দুইটি পদে বহাল থাকেন। জানাযায় আব্দুর রাজ্জাক ২০২১সাল থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) এবং সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসাবে দিরাই উপজেলায় একছত্র আধিপত্ত বিস্তার করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। আব্দুর রাজ্জাক কিছু দালাল প্রকৃতির ব্যাক্তিদের সহায়তায় দিনের পর দিন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ বানিজ্য করে আসছেন। কেউ টাকা না দিলে তাকে বদলী হুমকি দেন আব্দুর রাজ্জাক ।
ঐ শিক্ষা অফিসার তিনি অসাধু পথে অনেক টাকা উপার্জন করে অনিয়ম দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য চালিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাকের চেয়ে ৫ বছরের সিনিয়র সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিরাজুল আসেকীনকে দায়িত্ব না দিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমানকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে বহাল তবিয়তে ভারপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রাজ্জাক বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত)আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে মোটা অংকের নিয়মিত ঘুষ বানিজ্যে নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর কাজে সহযোগিতা করেন দিনের পর দিন। আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ের উন্নয়ণ মূলক যে কোন কাজে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করেন। টাকা না দিলে হয়রানি করেন? যার একটি জলন্ত প্রমান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা (চ.দা.) রায়হানা সিদ্দিকা।
জানাযায় রায়হানা সিদ্দিকা (চ.দা.) এবং প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাককে ঘুষ দেওয়ার কথা প্রাক্তন সভাপতি সাদেকুর রহমান ও অভিযোগকারী দাতা সদস্য উজ্জল চৌধুরীকে অবগত করেন। এ ছাড়াও ইদানিং অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিক রায়হানা সিদ্দিকা (চ.দা.) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ১ লক্ষ টাকা দিতে বলেন। না দেওয়ায় অনত্র বদলী করে দিবেন এমন হুমকির পর বদলী করার অভিযোগ রয়েছে। রায়হানা সিদ্দিকা জানান টাকা না দেওয়ার কারণে গত ৩১জুলাই ২০২২ইং তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমানের সহায়তায় আব্দুর রাজ্জাক প্রধান শিক্ষিকাকে বদলীর আদেশ করেন। উল্লেখ্য যে বর্তমানে সারা দেশে বদলীর আদেশ স্থগিত রয়েছে.? আরও জানা যায় স্কুলে সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে সরিয়ে সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রধান করা হয়েছ্ে । সেলিনা আক্তার বিদ্যালয়ের দুটি পদে বহাল রয়েছেন এবং রায়হানা সিদ্দিকার বদলীকৃত আদেশে ঐ বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক প্রদায়ন করা যাবেনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
জানা যায় সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার বিদ্যালয়টি জাতীয় করণের পরে পদের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট করেন। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় রিট কারিজ করে দেন। যার রিট পিটিসন নং-৩৮৯৫/২০১৬। এছাড়াও বর্তমানে ১টি মামলা প্রশাসনিক টাইবুন্যালে চলমান আছে। যার মামলা নং-২৮৮/২০২০ইং। আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা রায়হানা সিদ্দিকাকে অনত্র বদলী করে এবং সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক করে নোটিশ প্রধান করেন। অথচ গত ৪বছর ধরে শিক্ষক হাজিরা খাতায় সেলিনা আক্তার স্বাক্ষর করেন নাই । তিনি বসে বসে বেতন পান অন্য দিকে আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষিকাকে দিয়ে সেলিনা আক্তারের নামের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বলেন প্রতিনিয়ত রহস্য জনক কারনে? কেউ স্বাক্ষর দিতে রাজি না হলে অনত্র বদলীর হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়্। সেলিনা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা করার কারণে এসব কর্মকান্ড দেখে গ্রামের অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সাধারণ ব্যক্তি বর্গের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ঐ দাতা সদস্য । এসব বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ঘুষ দূর্নীতির হুতা আব্দুর রাজ্জাকের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা ও অনত্র বদলী করে দিরাই উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে দূর্নীতি মুক্ত সুন্দর পরিবেশ স্থাপন করার দাবীতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান অভিযোগকারী উজ্জল চৌধুরী।
এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে ঘোষ দূর্নতির আনীত অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন,এই শরীফপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন প্রধান শিক্ষক রয়েছেন তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কাদ;া ছুড়াছুড়ি করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনকি এই দুজন শিক্ষক একে অপরের সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,দুদকের অভিযোগ করা হয়েছে তদন্ত আসুক আসলে পরে দেখা যাবে এই অবিযোগের সত্যতা কতটুকু তদন্তে প্রমানিত হবে। অবিযোগকারীরা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এমন অভিযোগটি করেছেন বলে যার কোন ভিত্তি নেই বলেও তিনি জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.