হেমন্তে গ্রামীণ ঘরে যে পিঠা-পার্বণের আমেজ তৈরি হয়, শহরের বাতাসে কেবল তার গন্ধ ভেসে আসে’-আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট পোস্ট ২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণসিলেটপোস্ট ডেস্ক::সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র জনাব আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “সমসাময়িক বাঙালি মেয়েরা পিঠা নিয়ে তেমন জানে না। হেমন্তের শেষ আর শীতের শুরুতে বাংলার ঘরে ঘরে যে পিঠা-পার্বনের আমেজ তৈরি হয়, শহরের বাতাসে কেবল তার গন্ধ পাওয়া যায়। শহরে পিঠা উৎসব তো দূরের কথা ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর কোনো প্রস্তুতিও থাকে না। এক্ষেত্রে শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা উইমেন্স মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকগণ মিলে যে চমৎকার এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে তা সত্যিই অনন্য, অসাধারণ ও প্রশংসনীয়।”
তিনি মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, সকাল ১১ ঘটিকায় নগরীর কুমারপাড়াস্থ মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে উৎযাপিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ৭ম ইএসডি ফাউন্ডেশন শীতকালীন পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উক্ত কথাগুলো বলেন।
উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন রোটারি আন্তর্জাতিক জেলা ৩২৮২ বাংলাদেশের প্রাক্তন জেলা গভর্নর জনাব শহীদ আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, বৃক্ষপ্রেমী ও পরিবেশবিদ জনাব আফতাব চৌধুরী এবং ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব মনসুর আহমেদ লস্কর।
অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন- এমসি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব চঞ্চল রায় শুভ, মুক্তাক্ষরের আবৃত্তি প্রশিক্ষক জনাব বিমল কর, সাউথ সিটি কলেজ, দক্ষিণ সুরমার অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, জনাব প্রবাল কান্তি ভট্টাচাযর্য, অধ্যক্ষ, দিশারী স্কুল এন্ড কলেজ জনাব সুপ্রীতি রায়, প্রধান শিক্ষক, বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; জনাব ইঞ্জিঃ মোঃ হাসান তালুকদার সোহেল, প্রধান শিক্ষক, সূর্যদয় এতিম স্কুল, জনাব ইয়াসমিন আক্তার, কম্পিউটার শিক্ষক, শিশু স্কুল, মঈন উদ্দিন মনজু, এডিটর, ভয়েস অব সিলেট, জনাব মিজানুর রহমান মিজান, আবৃত্তি শিল্পী, মুক্তাক্ষর; জনাব শিশির সরকার, অধ্যক্ষ, নলেজ গার্ডেন স্কুল এন্ড কলেজ, জনাব মোঃ আলাউদ্দিন আলাল, সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, মেট্টোসিটি উইমেন্স কলেজ, সিলেট প্রমুখ।
উইমেন্স মডেল কলেজের প্রভাষক জনাব তৌফিক রাসেল এবং প্রভাষক হেলাল হামামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উইমেন্স মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপক জনাব জাকিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব অর্থাৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফিতা কেটে ‘পিঠা উৎসব ২০২৪’ এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এরপর একেএকে সবগুলো স্টল পরিদর্শন ও বাহারি পিঠার গন্ধে অভিভূত হোন অতিথিবৃন্দ। ডাব্লিউএমসির স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১৮টি স্টল ভরপুর ছিলো পিঠায়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ডাব্লিউএমসির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অপরাহ্ন পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিক, শিল্প ও সাহিত্য ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। সবার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন ডাব্লিউএমসির সাবেক শিক্ষকবৃন্দ।
দ্বিতীয় পর্বে উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ও ইএসডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের হাত থেকে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ডাব্লিউএমসির শ্রেষ্ঠ সংগঠক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শতভাগ উপস্থিতির পুরস্কার গ্রহণ করেন নির্বাচিত শিক্ষকবৃন্দ। এরপর রুচিশীল পোশাক পরিধানের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উইমেন্স মডেল কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার বলেন, “পিঠা আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যের অন্যতম উপাদান। পিঠা উৎসব বাঙালি কৃষ্টির এক সম্ভ্রান্ত রেওয়াজ। কিন্তু নগরায়ণ ও আধুনিকতার এই যুগে আমরা এইসব দেশীয় ঐতিহ্যকে হারাতে বসেছি। উইমেন্স মডেল কলেজ তাই নতুন প্রজন্মের কাছে বুনিয়াদি এই সংস্কৃতিকে জাগাতে চায়। আমাদের মেয়েরা যাতে পিঠার সাথে পরিচয়, পিঠা বানানোর কৌশল রপ্ত ও পিঠা ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারে এই লক্ষ্যেই মূলত পিঠা উৎসবের আয়োজন। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রজন্মের হাতে আমাদের হারাতে বসা দেশীয় ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম ঘটবে।”
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সৌন্দর্য শৈলী ও নান্দনিকতার আলোকে সেরা তিন স্টলকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। র্যাফেল ড্র এর বিজয়ীদের নাম উইমেন্স মডেল কলেজের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সবশেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ৭ম ইএসডি ফাউন্ডেশন শীতকালীন পিঠা উৎসব ২০২৪ এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানেন সভাপতি জনাব আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার।