
ছাতক উপজেলার প্রশাসন, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের অবহেলায় বালু দস্যুরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গভীর রাতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মালিকাধিন জায়গা কেটে প্রতিদিন অসংখ্য নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে ওই এলাকায় বাহাদুরপুর, সৈদাবাদ, রহিমপুর, দারোগাখালীসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও সুফল পাচ্ছেন না। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলার ইসলামপুর ইউপির রাজেন্দ্রপুর মৌজায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি থেকে গভীর রাতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে।
এসব মৌজায় বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বুধবার (২৩জুলাই) দুপুরে মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বাদী হয়ে ইজারাদার আবু সাইদ অভিকে অভিযুক্ত করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট জেলা প্রশাসক, সিলেট জোনের ডিআইজি, নৌপুলিশ সুপার সিলেট অঞ্চল, সিলেট পুলিশ সুপার ও ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউপির রাজেন্দ্রপুর মৌজায় ৫টি দাগের ১০৯ একর আমন রকম ভুমি ছাতক পৌর শহরের গনক্ষাই গ্রামের আকিক মিয়া চৌধুরীর রেকর্ডভুক্ত মালিকাধিন জায়গা রয়েছে। এই জায়গা থেকে প্রতিরাতে ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তার মালিকাধিন জায়গার পাশে রয়েছে পিয়াইন নদী। এই নদীর পাড় কেটে মালিকাধিন জায়গায় রাতে প্রবেশ করে লুটপাট চালাচ্ছেন ইজারাদার আবু সাইদ অভি। তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চক্র ক্ষমতার দাপটে স্বত্ব দখলীয় তপসীল ভুমি থেকে জোরপূর্বক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিরাতে লাখ লাখ ঘনফুট বালু লুটপাট করছে। প্রশাসনের উদ্দ্যোগে একাধিক অভিযান, জরিমানা ও গ্রেপ্তারের পরও বালু লুটপাট বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। বরং থেমে থেমে ও কৌশলে চলছে বালু উত্তোলন। এমনকি ড্রেজার মেশিনও ব্যবহার করছেন বালুখেকোরা। প্রশাসনের পদক্ষেপের কারণে সুরমা, চেলা, সোনাই নদীতে সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও সোনাই ও নোয়াকুট এলাকার নদীর ড্রেজার মেশিন এখনও বন্ধ হয়নি।
ড্রেজার মেশিন ব্যবহার ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে দু’জন সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার আবু সাইদ অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পিয়াইন নদী ছাড়া কোথাও আমি বালু উত্তোলন করি না।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।