ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি”-মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি সিলেট-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করি এবং চূড়ান্ত বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিলাম। কিন্ত ইসলাম ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সংগঠন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়, বরং শূরা, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের রাজনীতি। তাই দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে “১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য” শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। সিলেট-১ আসনের সম্মানিত জনগণ আমাকে যে ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন দিয়েছেন- আমি তার জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
বিশেষভাবে খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলা এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের নিরলস মেহনত ও পরিশ্রমের উত্তম বদলা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই দান করবেন। আপনাদের এই ভালোবাসা, আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন আগামী দিনে ইসলাম ও দেশের কল্যাণে এবং মানবতার মুক্তির সংগ্রামে আরো বলিষ্ঠভাবে ময়দানে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে আমি রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার ফরম জমা দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে “১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য” সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেবের প্রতি তার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, খেলাফত মজলিসের মৌল কর্মসূচির অন্যতম একটি হচ্ছে- ঐক্য। আমাদের যাবতীয় কাজ এদেশের বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী ইসলামী শক্তির ঐক্যের পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট তৈরীর জন্য আবর্তিত হয়। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন এ দেশের সমগ্র ইসলাম পন্থীদের “ওয়ান বক্স” পলিসি সফল হবেই ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই স্বকীয় চিন্তা ও নিরবিচ্ছিন্ন পথচলায় আমরা কখনো হতাশ হলেও ভেঙে পড়িনি। আমাদের ধৈর্য্য ও ইসতেকামত একমাত্র ইসলাম ও দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য। এ সময় তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তিগত আবেগ ও হতাশা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ুন। ময়দান ছেড়ে দেয়া হয়নি; বরং আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিতভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার ফরম জমা দানকালে খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ, মহানগর সহ সভাপতি মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, আব্দুল হান্নান তাপাদার এবং ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরীক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




