সম্পত্তি দখলে নিতে ভাসুরপুত্রের হয়রানী ও হুমকিতে অতীষ্ট যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারী
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
সিলেটে সম্পত্তি দখলে নিতে ভাসুরপুত্রের হয়রানী ও হুমকিতে অতীষ্ট এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারী। একের পর এক মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে তাকে। সালিশ বৈঠকেও মিলছে না কোনো সুরাহা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মোছা. লুৎফা বেগম। তিনি নগরীর চৌখিদেখী এলাকার রংধনু ১৯৮/৬ বাসার মৃত ছমির উদ্দিন আহমদ লেচুর স্ত্রী।
লুৎফা বেগম জানান, সিলেট সদর থানার আম্বরখানা মৌজার এস.এ. ১১৬ নম্বর দাগভুক্ত একটি ভূমি তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ক্রয় ও ভোগদখল করে আসছেন মূল মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা পর্যায়ক্রমে তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে হস্তান্তর হয়।
পরে আপোষ বাটোয়ারা ও দলিল অনুযায়ী তার স্বামী মরহুম জমির উদ্দিন আহমদ লেচু মিয়া এবং পরবর্তীতে তিনি নিজ নামে জমির অংশ ক্রয় করেন।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন ও সিটি করপোরেশনের কর পরিশোধসহ প্রকাশ্যে ভোগদখল করে আসছেন তারা।এলাকাবাসীর কাছেও তারা জমির মালিক ও দখলদার হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক বি.এস. জরিপে তাদের অজ্ঞাতে নালিশা দাগের প্রায় চার শতক জমি তার স্বামীর বড় ভাই মৃত ছৈয়দ মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদ টিপু, ইজ্জত আহমদ এপলু, জাহেদ আহমদ বিপলু, ফরিদা জাহান ও মেয়ে ফাহমিদা জাহান এবং আমার ভাসুরের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে রেকর্ড হয়েছে। বাস্তবে ওই জমিতে তাদের কোনো স্বত্ব বা দখল কখনো ছিল না।
লুৎফা বেগম বলেন, এ বিষয়ে বিবাদীপক্ষ পূর্বেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করে ২০১৯ সালে দেশে এসে সামাজিক সালিশ বৈঠকে অংশ নেন। সালিশে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ জমিতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি জানান।
এরপর তাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বি.এস. খতিয়ানের জাবেদা নকল সংগ্রহ করে জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সিলেটে রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাশাপাশি তার দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আদালত শাহেদ আহমদ টিপুর বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতের রায়ের পরও ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে নতুন করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি ভাঙা ঘর মেরামতের সময় পুলিশ নিয়ে এসে তাকে নোটিশ দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিবাদীপক্ষ তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। একজন প্রবাসী হিসেবে নিজ জন্মভূমিতে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।



