সেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির হত্যার ঘটনার ৪দিনর পর প্রধান শুটারসহ তিনজন গ্রেফতার
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
তেজগাঁও আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে প্রায়ই আড্ডা দিতেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুসাব্বির। এজন্য ওই স্পটেই তাকে খুনের পরিকল্পনা করে কিলাররা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোথায় গুলি করা হবে এবং গুলি করার পর কিভাবে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়া যাবে সেই রাস্তাটিও একাধিকবার রেকি করে শুটার গ্রুপ।
এদিকে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনার ৪দিনর পর প্রধান শুটারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। যদিও ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেনি।
গতকাল বিকেলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) নাসিরুল ইসলাম বলেন, ডিবি পুলিশ মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- হত্যাকান্ডের প্রধান শুটার জিনাত ও পরিকল্পনাকারী বিল্লাল। আটক তৃতীয় ব্যক্তি এই দু’জনের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিবির ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন,অপারেশনটি এখনও চলছে। সম্পূর্ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারছিনা। এর আগে ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া দুই কিলারকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে তাদের চেহারা স্পষ্টই দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংম্লিষ্টরা।
ডিবির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এছাড়াও এই ঘটনায় সন্দেহভাজন জড়িত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে সন্দেহভাজনেরা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করছে ডিবি। এখনো একাধিক টিম ঢাকার বাইরে অভিযানে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুসাব্বিরের প্রধান শ্যুটার গ্রেফতার হলেও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেল এখনও উদ্ধার হয়নি। আগ্নেযাস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধারে জন্য ডিবির একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত এসব আলামত উদ্ধার হলেই আজ (রবিবার) অনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মুসাব্বির একাধিক মামলার আসামি হন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আবার সক্রিয়ভাবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় তার রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। নিহতের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী প্রতিদিন বিকেলে বাসা থেকে বের হতেন। ফিরতেন রাতে। তার ওপর দলীয় বহিস্কারাদেশ খুব শিগগিরই প্রত্যাহার হবে বলেও জানিয়েছিলেন মুসাব্বির।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আরেকটি পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন ঘিরে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গেও তার বিরোধ ছিল। এ ছাড়া ঢাকাণ্ড১২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত একটি অংশের সঙ্গেও তার বিরোধ ছিলো বলেও জানা যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখছে। মুসাব্বির হত্যা মামলার ছায়া তদন্তকারী র্যাবও বলছে, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রর্থী নিয়ে দ্ব›েদ্ধ এই হত্যাকান্ড হয়েছে।
এদিকে নিহতের স্ত্রীও বলেছিলেন, তার স্বামীকে কে বা কারা হুমকি দিচ্ছিল বলে তিনি জানতেন। স্ত্রীর এ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে ওঠা জীবননাশের হুমকি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোরসঙ্গে ঘটনার বাস্তব কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে তদন্ত সংশ্লিস্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের পাশের একটি গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির (৪৫)। এ সময় কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাসুদ। এই ঘটনায় মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।



