ওসমানীনগরে প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব, হুমকিতে কৃষি ও গ্রামীণ সড়ক
মোঃ সামছুজ্জামান ফরহাদ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং প্রস্তাবিত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন–২০২৩ উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই চলছে ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে দিন-দুপুরে ও গভীর রাতে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে আবাদি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে একদিকে দ্রুত কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ, অন্যদিকে আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু মাটি ব্যবসায়ী প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমনিতেই কৃষিকাজে লোকসান, তার ওপর জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় চাষাবাদ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামের কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের মনতৈল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের ফসলি জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে কলারাই বাজার এলাকার একটি বড় গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক ট্রাক চলাচলের ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি কাটার দৃশ্য দেখেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে রাতের বেলাতেও সমানতালে চলছে মাটি কাটার কাজ। সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভেকু মেশিন একযোগে কাজ করে। ভারী ট্রাকের চাপ সহ্য করতে না পেরে গ্রামীণ সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, এই বিষয়ে আমরা অবগত নই। মাটি কাটার কোনো অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। আজ আমি মনিটরিংয়ে গিয়েছিলাম, কাউকে পাইনি। যদি পাই, এই ব্যাপারে আমরা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেব।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। তা না হলে অচিরেই এই এলাকার উর্বর ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



