কৃষি ও কৃষক ভালো থাকলে বাঁচবে দেশ দেশের মানুষ-তারেক রহমান
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন – বিগত বিএনপি সরকারের সময় আইন শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফলভাবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতে একইভাবে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ করবো|
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে| যারাই দুর্নীতি করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না| একটি দল পতিত স্বৈরাচার সরকারের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপি বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের ভাষায় অপপ্রচার চালাচ্ছে | বিএনপি ক্ষমতা থাকা সময়ে তাদেরও দুজন সদস্য মন্ত্রী ছিলো| তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন বিএনপি যদি দুর্নীতি করে থাকতো তখন তারা কেনো পদত্যাগ করেননি |
খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে কখনো প্রশয় দেন নাই, তিনি এই দেশকে কড়াল দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করে ছিলেন| বিএনপি কখনো দুর্নীতি করে নাই এবং করবে না| সবার উদ্দেশ্য তিনি বলেন- করবো কাজ, গড়বো দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ |
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি,২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপি আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে ২৭ মিনিটের বক্তব্যে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এসব কথা বলেন|
ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ.কে.এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান রোকনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন- বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল সরকারের থাকাকালীন সময়ে দেশের সকল মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তের জন্য কাজ করেছে।
বিগত ১৬ বছর ধরে একটি দল দেশের মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হনন করে ছিল।তাই ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন দেশের উন্নয়ন ও কল্যানের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দেশের জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়নের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বায়ন জানিয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া জন্য আহ্বান জানান।
তিনি বলেন নারী ও শিশুদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্হান, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।কর্মসংস্থানের সুযোগ, উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ ঋণের সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের বাদ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই।কৃষক কার্ড দিতে চাই। কৃষক ও কৃষি ভালো থাকলে, বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
তিনি সমাবেশে উপস্থিত ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদেরকে উপস্থিত জনতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সদর-৪ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তাগাছা আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু,উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফুলপুর -তারাকান্দা আসনে এমপি পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ।
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য ও নির্বাচনি প্রচারণার পঞ্চম দিনে এটি ছিল ঢাকার বাইরে তার তৃতীয় জনসভা।
বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে তারেক রহমান সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি জুলাই–আগস্ট গণআন্দোলনে ময়মনসিংহে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ শ্লোগানে সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে।
জনসভায় ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানালে তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, এই বিভাগের ২৪টি আসনই আমরা তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। অতীতের সব দ্বিধা–দ্বন্দ্ব ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, ফরিদুল কবির তালুকদারসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই সার্কিট হাউজ মাঠেই একসময় তারা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন। আজ তারা সেই মাঠেই তার যোগ্য উত্তরসূরির কণ্ঠে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা শুনতে এসেছেন



