ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই সিলেটে মেয়র প্রার্থীদের নাম আলোচনায়
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১২ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই সিলেট মহানগরের রাজনীতিতে নতুন করে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে নগরী। নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের সমর্থনে প্রচারণা শুরু করেছে কয়েকএকটি টিম। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমেও ছবি শেয়ার করে প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন ফেসবুকে।
দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেশ জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে।
সিলেট বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী,জাতীয়াতাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর কৃষকদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
অন্যদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা মাওলানা লোকমান আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং তৃণমূল ও শ্রমিক মহলে বিশেষ প্রভাব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নগরীর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নগরীর প্রধান সমস্যা ‘যানজট’ নিরসন নিয়ে তারা নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। এছাড়া দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীক কার ভাগ্যে জুটবে তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত, স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর। সিলেটবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত রূপ দেখার জন্য।
সময়ই বলে দেবে, কার হাত ধরে আসবে সিলেটের আগামীর উন্নয়ন আর কে বসবেন নগর ভবনের প্রভাবশালী ওই চেয়ারে।



