মৌলভীবাজারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ২য় ও ৩য় কিস্তির অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার ১১ জন সাংবাদিককে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট ৩৫৭ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশের পরপরই সাংবাদিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ করা হয়, প্রকৃত অসহায়, অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় স্বচ্ছল হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত এবং প্যারালাইজড অবস্থায় থাকা একাধিক সাংবাদিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মন্তব্য করে বলেন,
“দুস্থ সাংবাদিকদের নামে স্বচ্ছলদের অনুদান দেওয়া পেশার জন্য অপমানজনক।”
অনেকে পুরো তালিকাকে ‘অদৃশ্য তালিকা’ আখ্যা দিয়ে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাংবাদিক মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন,“আমি দৈনিক মুসলিম টাইমস পত্রিকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি, অথচ তালিকায় আমার পত্রিকা শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি এমন একজনের নাম দেওয়া হয়েছে যাকে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিসও চেনে না। এটি দুঃখজনক ও রহস্যজনক।”
তিনি আরও বলেন, তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। ফলে প্রকৃত প্রাপকদের বাদ দিয়ে কীভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, অনুদান বিতরণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থ ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছেন একজন রাজনৈতিক নেতা। অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিছবা উর রহমান এই অনুদান গ্রহণ করেছেন। তিনি দৈনিক স্বাধীনতা চেতনা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।
এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে অনৈতিক উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তালিকা প্রণয়ন, যাচাই-বাছাই এবং অনুদান বিতরণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রকৃত প্রাপকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তারা ভবিষ্যতে সরেজমিন যাচাই, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের বিতর্ক আর না ঘটে।
এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মতো মানবিক উদ্যোগগুলোকে সফল করতে হলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের বিতর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হবেন।




