আওয়ামী লীগ নেতা ফরুকের বিএনপির কাঁধে সওয়ার হওয়ার চেষ্টা
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুন ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকেই দলটির সুবিধাবাদী নেতারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৮নং আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আজাদ মিয়া ফরুকের বিরুদ্ধে খোলস বদলে বিএনপিকর্মীদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবা উদ্দিন সিরাজকে লন্ডনে ফুল দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীদের অর্থ ও মামলাসংক্রান্ত সহায়তার অন্যতম জোগানদাতা ছিলেন এই আজাদ মিয়া (ফরুক)। অথচ ক্ষমতার পালাবদলের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে এখন তিনি নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে ম্যানেজ করে তাদের সাথে নিয়ে বিলাসী প্রচার-প্রচারণা ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা নিয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নে এখন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজাদ মিয়া ফরুক দীর্ঘ দিন ধরে লন্ডনে বসবাস করলেও দেশের রাজনীতিতে তার গভীর প্রভাব ছিল। বিগত সরকারের আমলে তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং প্রবাসে থেকেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার অনেক নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় নিজের আগের পরিচয় আড়াল করতে এবং আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা তুলতে তিনি নতুন চাল চালছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই টাকার জোরে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ছেলে এবং কিশোর ও বখাটেদের লোভনীয় অফার দিচ্ছেন এবং বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের ভোট খরিদ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা স্পষ্টতই নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের এই সুবিধাভোগী অর্থ জোগানদাতা কীভাবে রাতারাতি খোলস বদলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামলেন- তা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীরা। তারা বলছেন, ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী এমন সুবিধাবাদী নেতারা যেকোনো দলের জন্যই ক্ষতিকর, তাই তাদের রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।




