ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন ৬ মেম্বার
ছাতক প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৪নং কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব খাতের মোট ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও একচ্ছত্র সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলমের বিরুদ্ধে। পরিষদ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে একক সিদ্ধান্তে এই তালিকা প্রস্তুত ও দাখিলের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যরা।
অভিযোগকারীরা হলেন, কালারুকা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ( মুক্তি গাঁও) সমছু মেম্বার, ২ নং ওয়ার্ডের (শিমুলতলা) নুরুল হক মেম্বার, ৪ নং ওয়ার্ডের (কালারুকা) দুলাল মেম্বার, ৫ নং ওয়ার্ডের (হাসনাবাদ) তাজউদ্দিন মেম্বার, ৬ নং ওয়ার্ডের (তাজপুর) আব্দুল আউয়াল মেম্বার ও ৭ নং ওয়ার্ডের নজরুল মেম্বার। দাখিলকৃত অভিযোগে কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের এই ৬ জন সদস্য সিল ও স্বাক্ষর প্রদান করেন।
ইউএনও বরাবরে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের এডিপি বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং রাজস্ব খাতের ১০ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়। বিধি অনুযায়ী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে সাধারণ সভা কিংবা উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান অদুদ আলম তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন।
অভিযোগে ইউপি সদস্যরা দাবি করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তাঁর নিজস্ব মনোনীত ব্যক্তিদের নামে এসব প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়েছেন। পরিষদকে অন্ধকারে রেখে উপজেলা কার্যালয়ে দাখিল করা এই প্রকল্প তালিকার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকার খর্ব করে চেয়ারম্যানের এমন একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা। এর ফলে এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অদুদ আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পূর্বেও ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানেও তিনি আগের মতোই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে অনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রকল্প তালিকা বাতিল করে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে নতুন তালিকা চূড়ান্ত করতে ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন জানান, “লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অদুদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।




