সিসিকে কোটি কোটি টাকা লোপাটকারীও জালিয়াতি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি প্রভাবশালী, সুসংগঠিত ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নজিরবিহীন জালিয়াতি, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে সিসিকের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও অপরাধের বিবরণ উল্লেখ করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার আবেদন দাখিল করেছেন সিসিকের ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষে সিলেট নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান। বিভিন্ন অনুসন্ধান, ফাঁস হওয়া অডিও কল রেকর্ড, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং দাপ্তরিক নথিপত্রের ভিত্তিতে দেখা গেছে, সিসিকের অভ্যন্তরে জালিয়াতি, ভুয়া ইমারত নকশা অনুমোদন, সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি, পে-অর্ডার কারসাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, দিনমজুর কর্মচারীদের মজুরি আত্মসাৎ এবং প্রবঞ্চনার এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। নিচে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গণমাধ্যমে ইতিপূর্বে উত্থাপিত তথ্যাদি বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো।
মনসুফ-তানভীরের শয়ন কক্ষে জালিয়াতির কারখানা: সিসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনসুফ ও তাঁর ছেলে সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে পলাতক) মোহতাসিম আহমেদ তানভীরের যৌথ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছিল এই সিন্ডিকেট। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ও প্রকৌশল সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন, নকশা যাচাইকরণ ও পে-অর্ডার জমা দেওয়ার নির্ধারিত সরকারি দফতর থাকলেও, সহকারী প্রকৌশলী মোহতাসিম আহমেদ তানভীর নিজের বাসভবনের শোয়ার ঘরকে (বেডরুম) জালিয়াতির মূল কেন্দ্রে পরিণত করেন। সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী সুরমা মার্কেট থেকে সিসিকের সাবেক মেয়র ও বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার হুবহু নকল সিল তৈরি করানো হয়। সরকারি নথি অনুমোদনে জালিয়াতির প্রতিটি ধাপে তানভীরকে সহায়তা করতেন তাঁর স্ত্রী তান্নী। নথিপত্র বিশ্লেষণ ও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিসিকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে নকল ও জাল করার মূল কাজ করতেন তান্নী নিজে। তানভীরের শোয়ার ঘরে বসেই রাতারাতি অবৈধ নকশা ও বিল্ডিং ফাইলের অনুমোদন তৈরি করা হতো।সিল-স্বাক্ষর জাল করার প্রক্রিয়া এবং কোন ফাইল থেকে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিস্ফোরক বিবরণ সংবলিত অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক শাস্তি থেকে বাঁচতে তানভীর ও তাঁর স্ত্রী তান্নী গোপনে বিদেশে পালিয়ে যান।
মাস্টারমাইন্ড আ ন ম মনসুফের একক প্রভাব: ছেলে ও পুত্রবধূ বিদেশে পালিয়ে গেলেও সিসিকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন তানভীরের বাবা ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনসুফ। মনসুফ সিসিকের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার বলে সিসিকের জন্য বরাদ্দকৃত বিলাসবহুল জিপ গাড়ি ব্যবহার করে আসছেন। দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে তিনি সিসিকের জমিতে মাত্র ১ টাকা ভাড়ায় বসবাস দেখালেও, নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক ও বন্দরবাজারসহ প্রতিটি অভিজাত বাণিজ্যিক মার্কেটে মনসুফ পরিবারের নামে অন্তত তিনটি করে দোকান কোঠা রয়েছে। এছাড়া বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে তাঁর।সিসিকে কর্মরত প্রায় ২৫৮ জন অস্থায়ী ও দিনমজুর কর্মচারীকে চাকরি স্থায়ী (মাস্টাররোল থেকে নিয়মিত) করার প্রলোভন দেখিয়ে হাইকোর্টের আইনি খরচ ও প্রসেসিং ফি বাবদ জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা করে মোট ২৫,৫০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। টাকা ফেরত চাইলে কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হতো।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের দুই দশকের দুর্নীতি ও ফৌজদারি অপরাধ:
সিসিকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান (বর্তমানে ডেপুটেশনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত) বিগত দুই দশক ধরে সিসিকের ড্রেনেজ, ছড়া ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার বরাদ্দে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখেন। নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গ করে অগণিত অবৈধ নকশা অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালের ১/১১ এর জরুরি অবস্থার সময় যৌথ বাহিনী ঘুষ গ্রহণ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। ২০২৩ সালের ২৩ মে সিসিকের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ওপর থেকে ভারী স্টিলের পাইপ পড়ে ল্যান্স কর্পোরাল মো. দেলোয়ার হোসেন নামের এক সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পেনাল কোডের ৩০৪(ক) ধারায় দায়েরকৃত মামলার (মামলা নং-২৪/১৫০) ১ নম্বর অভিযুক্ত আসামি নূর আজিজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকালীন ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলা (মামলা নং-০১, তারিখ: ০২/০৫/২০২৫) এবং সিআর মামলা (নং-৩৫২/২০২৫)-এর ৬৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। বর্তমানে ঢাকায় বদলিকৃত থাকলেও সিসিকের ব্যাকডেটেড ফাইল প্রস্তুত ও জালিয়াতির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম সাইদুর রহমানের ঘুষ বাণিজ্য ও গরুর খামার: সিসিকের ১২, ২৫, ৩২ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকাকালে এটিএম সাইদুর রহমান পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
ঠিকাদার রেদোয়ানের ২৫ লাখ টাকার বিল ছাড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পরও সাইদুর রহমান মাত্র ১৫ লাখ টাকার বিল প্রস্তুত করে ঠিকাদারের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করেন। নগরীর খাদিম এলাকায় বিপুল অবৈধ উপার্জনে তিনি রাজপ্রাসাদোপম বাড়ি ও সুবিশাল গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। তিনিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রজি উদ্দিন খানের অবৈধ ভবন অনুমোদন ও বাংলো বাড়ি: সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে নগরীর জল্লারপাড় এলাকায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সম্পূর্ণ অমান্য করে মাত্র ৩ ফুট রাস্তার ওপর বহুতল ভবন এবং মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত অসংখ্য ভবন অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের কমিশন না পেলে বিল আটকে রাখা এবং মাস্টাররোল শ্রমিকের ভুয়া তালিকা বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার মাধ্যমে তিনি নগরীর গোয়াবাড়িতে কোটি টাকার বাংলো বাড়ি, স্ত্রীর নামে বিপুল জমি এবং ৪৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় করেন। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে অলরেডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সদ্য বদলিকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরের বিতর্কিত ভূমিকা: সদ্য বগুড়া পৌরসভায় বদলিকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরের বিরুদ্ধেও মারাত্মক অনিয়মের তথ্য উঠেছে। কদমতলীর নতুন সিলেট বাস টার্মিনাল ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পর গঠিত তদন্ত কমিটিতে তাঁর নিজের আপন ভাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও আলী আকবরকে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেনাসদস্য দেলোয়ার হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দায়েরকৃত চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক প্রভাব খাঁটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন পদ আঁকড়ে ছিলেন।ইতিপূর্ব তার বিরুদ্ধে দুদকের গণ শুনানি হয়। এই শুনানিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়ার বাসিন্দা ডিসি অফিসের কর্মচারী জুবের আহমদ সাকু।
পিয়ন সোহাগ ও সুপারভাইজার কবিরের শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য: সিসিকের রাজস্ব শাখার পিয়ন সোহাগ আহমদ ও তাঁর ভাই বর্জ্য শাখার সুপারভাইজার কবির আহমদ দিনমজুরের সন্তান হলেও সিসিকের জালিয়াতির সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়ে রূপকথার মতো শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সোহাগ-কবির ভায়াদের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৬ তলা বিলাসবহুল ভবন, গাজীপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ি/রিসোর্ট এবং একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট রয়েছে। সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী বন্দরবাজারের করিম উল্লাহ মার্কেটের ৩য় ও ৪র্থ তলায় ৪টি দোকানসহ সিলেটের বিভিন্ন বাণিজ্যিক মার্কেটে ১০ থেকে ১২টি অভিজাত দোকানের মালিকানা রয়েছে এই পিয়ন পরিবারের নামে। এদের বিরুদ্ধে বার বার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এরা সব সময় হয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের পিয়ন থেকে শত কোটি টাকার মালিকানা: সিসিকের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান সহকারী পিয়ন পদে চাকরি শুরু করলেও বর্তমানে তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক। নূর আজিজ, আলী আকবর, মনসুফ, হানিফ ও সোহাগের অক্ষই সিসিকের মূল দুর্নীতির স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে দুদকের করা একটি মামলায় হানিফুর রহমান ও পিয়ন সোহাগের নাম থাকলেও বিপুল অর্থের বিনিময়ে তদন্ত প্রভাবিত করে মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই হানিফ সিটি কর্পোরেশনে চাকরি করে কয়েক শত কোটি টাকার মালিক বলে গেছেন। তাকে সিটি কর্পোরেশনের সকালে দুর্নীতির বরপত্র হিসাবে চিনেন। মিডিয়াপাড়ায় তার কয়েকজন সহযোগি তার বিরুদ্ধে বারবার প্রকাশিত সংবাদ ধামাচাপা দিয়ে দিছে টাকার বিনিময়ে। সম্প্রতি গুঞ্জন রয়েছে এই হানিফ কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়ে সিটি কর্পোরেশনের থেকে অবসরে যাচ্ছেন।
বেলাল আহমদ দুর্নীতির খতিয়ান : বেলাল আহমদ অতিরিক্ত সহকারী প্রকৌশলী, সিসিকের ২১ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি ছিলেন সদ্য বিদায় আলী আকবর ডানহাত হিসেবে পরিচিত। আলী আকবরের সাথে মিশে বিভিন্ন অবৈধ ভারত নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা তার বিরুদ্ধে ২১ ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আলী আকবরের সাথে মিশে অবৈধভাবে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন যা সরেজমিন অনুসন্ধান করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।
মোহাম্মদ একলিম আবদীন: প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সিসিক। বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। শুধু বজ্য শাখা থেকে তার মাসিক আয় কয়েক কোটি টাকা। পাশাপাশি রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ সাজস। সিসিকের টসব দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তাদের সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন প্রকল্পের আড়ালে লুটেপটে সিটি কর্পোরেশনের সরকারি অর্থ। তার ব্যাংক একাউন্ট সহ সম্পদের অনুসন্ধান করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।
৫. রুবেল আহমদ: তিনিনলাইসেন্স শাখার সর্বোচ্চ কর্তা সিটি করপোরেশনে এলাকায় সকাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স তার হাত দিয়েই হয়ে থাকে এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্ত শেষ নাই তার চাহিদার মত টাকা না দিলে সময় মত কোন লাইসেন্স নেই প্রদান করা হয় না সিটি কর্পোরেশন থেকে। তা রয়েছে নিজস্ব একটা সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আড়ালে সকল অবৈধ লাইসেন্স ও মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের অজুহাতে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন এই রুবেল আহমেদ। এই রুবেলের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয়নি প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা।
মোহাম্মদ রেজাই রাফিন: সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যুগ্ন সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকতার হাতে সিটি কর্পোরেশনের নাড়িবাড়ি। তার নলেজ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কোন ফাইলে নড়ে না। রমনী মোহনায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে কোন মাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হলেও কিছু নিজেই ধামাচাপা দিয়ে দেন। সিটি কর্পোরেশনের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কালো থাবা বসাতে সিদ্ধহস্ত এই কর্মকর্তা কাছে জিম্মি সিলেট নগরবাসী। অধীনস্থ কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মনোযোগ নিয়ে গেলে তিনি কোন পাত্তাই দেন না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এছাড়া সিইও বা প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নগর ভবনের রাজস্ব, প্রকৌশল ও হিসাব শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর ওপর সঠিক প্রশাসনিক তদারকি না রাখা। তাঁর চরম অবহেলা ও তদারকহীনতার সুযোগেই তানভীর-মনসুফ সিন্ডিকেট সরকারি অফিস বাদ দিয়ে নিজের শোয়ার ঘরে বসে ভুয়া সিল-স্বাক্ষর বানিয়ে জাল ফাইলের অনুমোদন দেওয়ার সাহস পেয়েছ।
হিসাব শাখা ও প্রকৌশল শাখায় বছরের পর বছর ধরে ফাইল জালিয়াতি, ভুয়া পে-অর্ডার জমাদান এবং শত কোটি টাকার প্রবঞ্চনা চললেও শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তা রোধে সময়মতো কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা বা নিরব ভূমিকা পালন করা।সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চূড়ান্ত নথি ও ফাইলের সততা যাচাই না করে সিসিকের জালিয়াতি চক্রের তৈরিকৃত ব্যাকডেটেড বা সন্দেহজনক ফাইল ও নথিপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ।প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ২৫৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরি স্থায়ী করার নামে মনসুফ সিন্ডিকেটের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং কর্মচারীদের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হওয়া।
মোঃ আব্দুল বাছিত: সিসিকের প্রধান এসেসর এর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও অসাধু লেনদেনের বিনিময়ে নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন, বহুতল আবাসিক বিল্ডিং ও অভিজাত মার্কেটগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অস্বাভাবিক কম নির্ধারণ (Assessed Value কমানো) করে সিসিকের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ। মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পেছনের তারিখের (Backdated) কাগজপত্র প্রস্তুত করে করদাতাদের অবৈধ সুবিধা প্রদান এবং নিয়মিত কর প্রদানকারীদের অযৌক্তিক কর বাড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ। তিনি মনসুফ-নূর আজিজ সিন্ডিকেটের সহযোগী: সিসিকের হিসাব শাখা ও প্রকৌশল শাখার শীর্ষ জালিয়াতি সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে রাজস্ব শাখার অভ্যন্তরীণ নথি ও অ্যাসেসমেন্ট রেজিস্টারে কারসাজি করা।প্রধান এসেসর পদে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষবাণিজ্যের মাধ্যমে নিজের ও পরিবার-পরিজনের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করতে এবং সরকারি আমানত সুরক্ষায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী। তিনি দুদক প্রধান কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে সিসিকের ইমারত নকশা শাখা, রাজস্ব শাখা, হিসাব শাখা ও পূর্ত বিভাগের বিগত বছরগুলোর সকল নথি ও অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী (নূর আজিজুর রহমান, আ ন ম মনসুফ, এটিএম সাইদুর রহমান, মো. রজি উদ্দিন খান, মো. আলী আকবর, সোহাগ আহমদ, হানিফুর রহমান প্রমুখ) এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব তলব করে সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনতিবিলম্বে ফ্রিজ/অবরুদ্ধ করাসহ বিদেশে দেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা দাবী জানান।



