সংবাদ শিরোনাম
ওসমানীনগরে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ২শতাধিক বাসিন্দা উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় মাত্র ৪৩জন  » «   ওসমানীনগরে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে ড্রাইক ও গ্রাম  » «   সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের ৬ জন সদস্য র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার  » «   করিম উল্লাহ মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইলসহ ৬ জন গ্রেফতার  » «   ঈদকে সামনে রেখে নবীগঞ্জে জমে উঠেছে জমজমাট পশুর হাট!  » «   শিশুদের সুপ্ত মেধা বিকাশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিকল্প নেই: শেখ রাসেল হাসান  » «   মেজরটিলায় টিলা ধসে হতাহতের ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির শোক  » «   দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শহীদ জিয়া দূরদর্শী অবদান রেখেছিলেন-অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ  » «   ডামি সরকারের ডামি বাজেট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে-বিএনপি  » «   গোয়ালাবাজার থেকে খাদিম পুর রোডের রাস্তার দুই পাশে গাছ হেলে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা  » «   আলোকিত দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরকে আদর্শবান হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী  » «   মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর বিএনপির খাদ্য বিতরণ  » «   ইতিহাস বিকৃত করে মানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না  » «   নবীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে নাশকতা ও হয়রানির শেষ কোথায়? সচেতন মহলের প্রশ্ন  » «   উচ্চহারের হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের নাগরিক বৃন্দের আনুষ্টানিক বক্তব্যঃ  » «  

আমাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠী

0009সিলেটপোস্ট টোয়েন্টিফোর .কম ডেস্ক : আদিবাসীরা পরিচিত হয় রাষ্ট্রের মূলধারার জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন নামে। কিন্তু মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও তারা অদ্ভুত সরল জীবনযাপন করে যায়। প্রতিটি আদিবাসী গোত্রের জীবনযাত্রাই যেন ছবির মত অপূর্ব। শত অভাব-অনটন, প্রতিকূলতার মাঝেও এই মানুষগুলোর সারল্য আজও পবিত্র সেই আগের মতই।

আদিবাসীদের জীবনধারা স্বভাবতই আলাদা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আদিবাসীগোষ্ঠী হলো চাকমা। তাদের রাজা হন সমাজের প্রধান ব্যক্তি। চাকমারা তাদের গ্রামকে আদাম বলে, গ্রামপ্রধানকে বলে কার্বারী। বৌদ্ধধর্মের অনুসারী এই গোত্রের বর্ণিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি হলো বিজু। বিজুর দিনে চাকমাদের ঘরে ঘরে পাঁচন তৈরি হয়, যা পাঁচ রকমের সব্জির মিশেলে একটি বিশেষ পদ। চাকমা মেয়েরা বিজুর দিনে পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিয়ে আচার পালন করে থাকে।

সাঁওতালরা এদেশের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী গোত্র। তারা যে এলাকায় বসবাস করে সেটিকে দেশ বলে। নিজেদের প্রধানকে তারা বলে দেশপ্রধান। তাদের প্রধান উৎসব সোহরাই। এই মানুষগুলো কথা বলে সাঁওতালী ভাষায় যার কোন লিখিত বর্ণমালা নেই।

ত্রিপুরা হলো আরেকটি আদিবাসীগোষ্ঠী যারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। বৈসুক তাদের মূল উৎসব। এছাড়া কের, কাথারক, গোমতী পূজা, খাচী পূজা, চুমলাই ইত্যাদি নামক আরো কিছু উৎসব তারা পালন করে থাকে। এই গোত্রের লোকেরা কথা বলে কক-বরক ভাষায়।

মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর অন্য একটি আদিবাসী গোত্র হচ্ছে রাখাইন। রাখাইনদের আদি নিবাস ছিলো আরাকান(মিয়ানমার)। তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বুদ্ধপূর্ণিমা। জলকেলি উৎসবও রাখাইনরা সাড়ম্বরে পালন করে থাকে। এই গোত্রের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানটি সাংগ্রাই নামে পরিচিত। সাংগ্রাইয়ের দিনে রাখাইনরা ফুল তোলে। যে যতো বেশি ফুল দিয়ে বুদ্ধের অর্চনা করবে তার ততো বেশি পূণ্য হবে, এমনটিই তাদের বিশ্বাস। আদিবাসীদের বর্ষবরণ উৎসবটি সামগ্রিকভাবে বৈসাবি উৎসব নামে অভিহিত হয় যা বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজুর সংক্ষিপ্ত রূপ।

এই আদিবাসী গোত্রগুলো ছাড়াও এদেশে আরো অনেক আদিবাসীগোষ্ঠী রয়েছে। মনিপুরী, গারো, খিয়াং গোত্র তাদের মাঝে অন্যতম। ইসলাম ধর্মাবলম্বী পাঙনরাও আছে আদিবাসীদের প্রতিনিধি হয়ে।

পার্বত্য অঞ্চলের এই সহজসরল মানুষগুলো নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও নিজেদের স্বতন্ত্র জীবনধারা বজায় রেখেছে। প্রতিনিয়ত তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে থাকে অথচ তবুও মানুষগুলোর মুখের হাসি অমলিন। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা তাই সবার কাছেই অন্যরকম আকর্ষণ তৈরি করে।

আইএস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.