সংবাদ শিরোনাম
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে সিয়াম নামে এক তরুণ নিহত  » «   কোটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে বিক্ষোভের ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের  » «   আগামীকাল সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি ঘোষণা  » «   দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব! নিরব প্রশাসন  » «   মাদকের ভয়ালগ্রাস থেকে আমাদের সন্তানদের বাচাতে হবে- বিভাগীয় কমিশনার আহমদ ছিদ্দীকী  » «   আরিফ হত্যা মামলায় ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিপু কারাগারে  » «   ধর্মপাশার মুগরাইন হাওরে গোসল করতে নেমে ডুবে শাশুড়ি ও তার অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর মৃত্য  » «   তৃতীয় দফা বন্যার মুখোমুখি সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের লাখ লাখ মানুষজন  » «   বন্যায়ও থেমে নেই ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা চিনির চোরাচালান  » «   সিলেটে নতুন পুলিশ সুপার এর যোগদান  » «   র‌্যাব সদস্যরা দেশের যেকোন সংকটময় মূহুূর্তে সব সময়ই জনগনের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে -র‌্যাব মহাপরিচালক  » «   সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ পেলেন ব্যারিস্টার সুমন  » «   গুজব আতঙ্কে গোলাপগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ  » «   সুনামগঞ্জে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  » «   কৃষকরা এ দেশের প্রাণ: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী  » «  

ওসমানীনগরে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ২শতাধিক বাসিন্দা উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় মাত্র ৪৩জন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি::অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার নিন্মাঞ্চলে অব্যাহত বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়ন্দ্রেসহ বিভিন্ন বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন দুর্গতরা।

গত দুই দিনে উপজেলার উসমানপুর, সাদিপুর, ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বাড়ি ছাড়া হয়েছেন। তবে, উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে মাত্র ৪৩ জন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে জানালেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, দূর্গতরা কোন খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন-ঘন বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রায় সহ¯্রাধিক পরিবার। মঙ্গলবার বিকাল ও বুধবার সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন এসব বন্যাকবলিত মানুষ। ইতোমধ্যে, সাদিপুর ইউনিয়নের চাতলপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ পরিবারের ১২ জন, পূর্ব লামাতাজপুর গ্রামের হাজী রইছ মিয়ার বাড়িতে ৭টি পরিবারের ৩১ জন, গজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ পরিবারের ১৮ জন, রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে একটি পরিবারের তিন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন। দক্ষিণ কালনিচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন পরিবার, কালনিচর বাবুল মার্কেটে দুই পরিবার, বাংলাবাজার মার্কেটে আরও তিনটি পরিবারের সদস্যসহ প্রায় শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মুছা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী শনিবার ইউনিয়নের রহমতপুর-সম্মানপুর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, উসমানপুর ইউনিয়নের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪টি পরিবার, ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রঙ্গুপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার বাড়িতে তিনটি পরিবারসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৫-২০টি বন্যাকবলিত পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়ালী উল্লাহ বদরুল। শনিবার বিকাল পর্যন্ত আশ্রয় গ্রহীতারা সরকারি কোন সহায়তা পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

এছাড়া, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের বল্লবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও দুটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুরুঙ্গা ইউনিয়নের খয়েরপুর, সিরাজনগর, কামারও গাঁ, পল্চিম বুরুঙ্গাসহ কয়েকটি গ্রামরে মানুষ বুরুঙ্গা বাজার সহ আশপাস এলকায় আশ্রয় নিলেও সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো কোন পরিবার আশ্রয় নেননি বলে জানিয়েছেন বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান।

এদিকে, শুক্রবার বিকাল থেকে তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনে দুটি পরিবার ও ভাড়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ পরিবার, নাগেরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও দুটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণোদয় পাল ঝলক। তবে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত এই ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রহীতারাও কোন ধরণের খাদ্য সহায়তা পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় ২শতাধিক সদস্য আশ্রয়কেন্দ্রে ও বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিলেও উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে মাত্র ৪৩ জন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার কারণে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হলেও তেমন কোন তদারকি লক্ষ করা যাচ্ছে না।

ওসমানীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুহেল আহমদ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪৩ জন বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহন করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.