সমাজে পরিচিত ও ভাল মানুষের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানহানি চেষ্টায় সক্রিয় একটি চক্র
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
বিখ্যাত কিংবা সমাজে পরিচিত বা সুনাম রয়েছে, এমন মানুষদের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নানা ধরনের প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রোফাইল ফটো থাকে অবিকল একই। অ্যাকাউন্টে গেলে দেখা যায়, আসল ব্যক্তি যা পোস্ট করছেন, নকল বা ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্টেও একই পোষ্ট থাকে, বন্ধু তালিকাও থাকে প্রায় একই।
ফেসবুক একে বলছে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ‘ইমপারসোনেটিং’ বা ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট। অর্থাৎ এখানে কোন একজন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠান সেজে অন্যকে ধোঁকা দিচ্ছে বা প্রতারণা করছে কেউ। ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম করে যখন অন্য কারো সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, অধিকাংশ সময় প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বুঝতেও পারেন না আসলে কার দ্বারা প্রতারিত হলেন।
পুলিশ বলছে, যৌন হয়রানি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। অভিযোগ পেলে এসব প্রতারণা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ আসার আগেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন মানুষ।
পুলিশ বলছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগও জানাতে চান না ভুক্তভোগীরা। এরকম কিছু খন্ড খন্ড ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে প্রেম করে টাকা হারাচ্ছেন।
তেমনি ভাবে সিলেটে ফসবুক ফেক আইডি দিয়ে অনেক গুণীজনদের নাম ও ছবি দিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছে আড়ালে থাকা ফেকবাজরা।তাদের এমন কার্যক্রমে ভাল মানুষের মানসম্মানের প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।
দেখাগেছে অনেক সামাজিক,রাজনৈতিক, চাকরিজীবী ব্যক্তি তাদের এই মিথ্যা লিখনি ও এডিট ছবি দিয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব ও সম্মানহানীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে অনেকে থানায় গিয়ে জিডি করলে তার কোন ভাল ফল আসেনি।
এব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোষাধক্ষ্য আব্দুল হামিদ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,আমার নাম ও ছবি দিয়ে ফারজানা নামে এক ফেক আইডি থেকে আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার ও ভূল তথ্য দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের মানহানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই ফেসবুক ফেক আইডি থেকে। আমি থানায় গিয়ে এ বিষয়টি উল্লেখ করে জিডি করেছি এতে এখন পর্যন্ত কোন উপকার পাইনি।
আপ্তাব নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এই আইডি থেকে আমার নামে অনেক মিথ্যাচার ও আমার ছবি এডিট করে হিজরা ও মেয়ে বানিয়ে ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করছে এমনকি নিজের স্বজনদের কাছে ও সমাজে অনেক লজ্জা পাচ্ছি। অবশেষে বাধ্য হয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় গিয়ে জিডি করলে এখন পর্যন্ত কোন উপকার হয়নি।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন,অভিযোগ আসলে আমরা ব্যাবস্থা নেই।তবে ফেসবুক ফেক আইডি কে চালাচ্ছে এসব তথ্য জানতে আমরা সি আই ডি’র কাছে আবেদন করলে তাদের কাছ থেকে এসব তথ্যতের রিপোর্ট দেয় তখন আমরা ফেক আইডি কে পরিচালনা করে জানতে পারি এবং এই সাইবার অপরাধীকে আটক করার চেষ্টা করি ও অনেক সময় সক্ষম হই।




