নিরাপত্তাহীনতায় উত্তর কালনীরচরবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল ও বাড়ি ফেরার পরিবেশ চান বাসিন্দারা
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীরচর গ্রামের বাসিন্দারা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এলাকায় নিরাপদে চলাচল এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামছাড়া পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা, দখল হয়ে থাকা বাড়ি উদ্ধার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তঁারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে মো. শিবরুল আমীন ও মোবারক হুসেন মেন্দী অভিযোগ করেন, একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরবর্তী সময়ে তা সংঘর্ষ, মামলা ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় রূপ নেয়। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ মার্চ উত্তর কালনীরচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওজুখানার সেপটিক ট্যাংক নির্মাণকাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় কালনীরচর বাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তঁাদের দাবি, এ ঘটনায় লন্ডনপ্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়ার মদদে ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়াসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।
বক্তারা জানান, একই বছরের ৩১ মে মসজিদকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হলে তঁাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর জি আর ১০৬/২০২৫। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই ঘটনার পর রাতে উত্তর কালনীরচর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর এলাকার একাধিক পরিবারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হলেও তঁাদের অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন বক্তারা। এ কারণে তঁাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হত্যা মামলার একাধিক আসামি জামিনে মুক্তি পেলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। নারীদের বাজারে যাতায়াত, শিশু ও বয়স্কদের স্বাভাবিক চলাচল এবং অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বক্তাদের দাবি, ভয়ে অনেক পরিবার নিজ বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে।
এ ছাড়া রেনু বেগমের একটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর নুর মিয়া সেটি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার সি আর মামলা নম্বর ২৮১/২০২৫ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তঁারা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালের দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা জি আর মামলা নম্বর ৩৭/২০১৭-তে ইয়াবর মিয়ার নাম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে ছিল বলে তঁাদের দাবি। এসব অভিযোগেরও পুনঃতদন্তের আহ্বান জানান তঁারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্তর কালনীরচরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, নারী-পুরুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট ও বাড়িঘরের নিরাপত্তা দেওয়া এবং গ্রামছাড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আবদুল হক চানু মিয়া, ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়াসহ যঁাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তঁাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তঁারা।



