ড.মুমিনুল হক একাডেমির বার্ষিক অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড ও গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে আনন্দঘন ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইতিহাসবিদ ড.মুমিনুল একাডেমির’-এর ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠান। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সমাজসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা (সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ) থেকে নির্বাচিত ৪০ জন গুণী ব্যক্তির হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার বিকালে সিলেটের গণগ্রন্থাগারে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সহ- সম্পাদক ক্বারী মো. শরীফ আহমেদ এর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো ফাতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের ধন্যবাদ জানান এবং সংগঠনের বার্ষিক কাজের বিবরণ তুলে ধরেন।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো ফাতাউর রহমান ও উপস্থাপিকা হেপি জান্নাত এর প্রাণবন্ত ও প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় ‘ইতিহাসবিদ ড.মুমিনুল একাডেমির’-এর সভাপতি আবু সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.আশ্রাফুল করিম।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মাসুদুল হাসান সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আহমেদ বলেন ইতিহাসবিদ ড.মুমিনুল একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা থেকে বেছে বেছে ৪০ জন নিষ্ঠাবান গুণীজনকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তাঁদের এই স্বীকৃতি সমাজের নতুন প্রজন্মকে ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গুণী মানুষদের সম্মানিত করলে সমাজে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা বাড়ে। সিলেট অঞ্চলের চার জেলার ৪০ জন কৃতী সন্তানকে এক মঞ্চে এনে সম্মাননা জানানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল।অন্যান্যদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ মশিউল হোসাইন । অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করেন রাজু বিশ্বাস(হবিগঞ্জ),সৈয়দ কামাল আহমেদ বাবু (মৌলভীবাজার),শেখ সুজাদুল হোক ( সুনামগঞ্জ),মোয়াজ আফসার(সিলেট) এবং ২জন প্রতিভাবান শিশু দেবনীল সাহা (সিলেট), আহনাফ আলভি (কুলাউড়া), বেলাল আহমদ।
ইতিহাসবিদ ড.মুমিনুল হক একাডেমি ২০২৬ এ যারা পদক পেয়েছেন-মোয়াজ আফসার (সিলেট সদর)—ভ্রমণ সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (ওসমানীনগর)—কাব্য সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য।নাসরিন সুলতানা (ফেঞ্চুগঞ্জ)—স্কাউটিংয়ে বিশেষ অবদানের জন্য।কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী (গোলাপগঞ্জ)— লোকসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। আজিজ ইবনে গণি (বিয়ানীবাজার)—প্রকাশনা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। আতাউর রহমান কাওছার (বালাগঞ্জ)-সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য। সৈয়দ আছলাম হোসেন (জকিগঞ্জ)—সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য। মো. মাহবুবুর রশিদ (কানাইঘাট)— রম্য লেখক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য। নূরুল ইসলাম (জৈন্তাপুর)—সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য। লায়েক আহমদ মাসুম (কোম্পানীগঞ্জ)—কাব্য সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। সুয়েজ হোসেন (শাহপরান)— ফটো সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য। ফজলুর হক দোলন (সুনামগঞ্জ সদর)- লিটল ম্যাগ প্রকাশনায় বিশেষ অবদানের জন্য।তৈয়বুর রহমান (শান্তিগঞ্জ)— বাচিক শিল্পী হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য।ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ (জগন্নাথপুর) — ইসলামী গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য। এস এম শরিয়ত উল্লাহ (ছাতক)— গীতিকাব্যে বিশেষ অবদানের জন্য। মামুন সুলতান (দোয়ারাবাজার)— কবিতা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। সৈয়দ আহমদ আশেকী (বিশ্বম্ভরপুর)— সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য। শেখ মো. সুজাদুল হক (ধর্মপাশা) ছোটগল্পে বিশেষ অবদানের জন্য। মো. জয়নাল আবেদিন বেগ (মধ্যনগর)- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য।গোলাম মর্তুজা (মরহুম) (জামালগঞ্জ) — ইতিহাসে বিশেষ অবদানের জন্য (মরণোত্তর)। ফারুকুর রহমান চৌধুরী (দিরাই)-ইতিহাসে বিশেষ অবদানের জন্য। সুব্রত দাস (শাল্লা)-প্রবন্ধ সাহিত্যে অবদানের জন্য। সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু (মৌলভীবাজার সদর)-গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য। মো. সাইদুর রহমান (রাজনগর) —শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদানের জন্য।আবদুল হাই ইদ্রীছী (কমলগঞ্জ)-ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। মুফতি আবদুল্লাহ আল ফারুক (শ্রীমঙ্গল)-ইসলামী বক্তা হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য। জিয়াউল হক জিয়া (কুলাউড়া) —চারুকলায় বিশেষ অবদানের জন্য।মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন (বড়লেখা)-সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য। সাজেদুল ইসলাম (জুড়ী) — জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য। ছিদ্দিকী হারুন (হবিগঞ্জ সদর)-প্রবন্ধ সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। এডভোকেট ভিডি নিউটন (লাখাই)-লোকসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান তালুকদার (মাধবপুর) — মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য।সাইফুর রহমান কায়েস (চুনারুঘাট)-প্রবন্ধ সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। আসআদ চৌধুরী (বাহুবল)-গল্প সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য।শাহ মুনসুর আহমেদ সেলিম (নবীগঞ্জ)-ছোটগল্প রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য। মো. মিজানুর রহমান ঠাকুর (বানিয়াচং)-আঞ্চলিক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। আতাউর রহমান বঙ্গী (আজমিরীগঞ্জ)-ইসলামী সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। মো. আবদুল ওয়াদুদ (রাজু বিশ্বাস) (শায়েস্তাগঞ্জ)-নাট্য নির্দেশনায় বিশেষ অবদানের জন্য।প্রতিভাবান শিশু বিভাগ-আহনাফ আলভী (কুলাউড়া)সিলেটি ভাষা উপস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য। নীল দেব (সিলেট)-শিশুতোষ বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতিঃ আবু সালেহ আহমদ,সহ-সভাপতি কাজী শাহেদ বিন জাফর, সহ-সভাপতিঃ জয়নাল আবেদীন বেগ-, সাধারণ সম্পাদক – মো ফাতাউর রহমান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো সুয়েজ আহমদ, সহ-সম্পাদক মো শরীফ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক – সৈয়দ নিয়াজ আহমেদ, অর্থ সম্পাদকঃ নাছরিন সুলতানা ,সাহিত্য সম্পাদক এম আরাফাত, মহিলা সম্পাদক শাহিনা জালালি পিয়ারা কার্যনির্বাহী সদস্যঃ মো আনোয়ার আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, মকসুদ আহমেদ লাল, শেখ ছাদেক ইমতিয়াজ,কবি এম আর ঠাকুর প্রমুখ।



