সিলেটে এনসিপির নাম ভাঙিয়ে সরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজি অভিযোগের পাহাড় ফয়সল এর দিকে
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ফয়সল আহমদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিক সুরমার ডাক নামে একটি ফেসবুক পেইজ।কমেন্টে গিয়ে কেউ লিখেছেন এটি সত্য আবার কেউ লিখেছেন কতটুকু সত্য। এনিয়ে সিলেটে আলোচনা সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।
দৈনিক সুরমার ডাক এর লিখনি আরো তুলে ধরা হল,ফয়সল আহমদ কখনো নিজেকে এনসিপি নেতা, কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো এনসিপির বিশেষ মুখপাত্র পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ফয়সল আহমদের পরিচয়ে এসেছে নানা পরিবর্তন। এসব পরিচয় ব্যবহার করে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান এমনকি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার থেকে শুরু করে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে বিভিন্ন পরিচয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন ফয়সল। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা আদায় করেন তিনি।
সূত্র আরো জানিয়েছে, এনসিপির নাসির, নাহিদ ও সারজিসসহ দলের পরিচিত নেতাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। কখনো লোকজন জড়ো করে চাপ সৃষ্টি, আবার কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুবিধা নেন এই ফয়সল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সল আহমেদের ব্যক্তিগতভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা কিংবা চাকরির তথ্য জানা না গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। একসময় আর্থিক সংকটে থাকা ফয়সল এখন নিয়মিত বিমান যুগে ঢাকা যাতায়াত করেন। তার আয়ের উৎস ও এসব যাতায়াতের ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন এখন সর্বমহলে।
কোনো কারন ছাড়াই সিলেটের যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফয়সল আহমদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার।
২. সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
৩. সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়।
৪. সিলেট সেটেলমেন্ট অফিস।
৫. সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
৬. সিলেট সিটি করপোরেশন।
৭. সিলেট পাসপোর্ট অফিস।
প্রশ্ন উঠেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে তার যাতায়াতের উদ্দেশ্য কী? কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব, পেশাগত কাজ কিংবা বৈধ সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই কি তিনি এসব স্থানে যাচ্ছেন, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন?
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে সেটি দলের ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক।
কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন কি না, কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন কি না, এসব নিয়ে সরকারের একটি সংস্থা তদন্ত করছে তার বিরুদ্ধে।
হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রঙ্গনে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি নেতা ফয়সল আহমদ জানান, তার অনেক দুষমন রয়েছে। তারাই এসব রটাচ্ছে। তার ব্যক্তিগত আয়ের উৎস কি জানতে চাইলে, তিনি পরে কথা বলবেন, তাঁর কাজ আছে বলে চলে যান।



