শাল্লায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে সমিতি গঠনের প্রচারণা বিতর্কের মধ্যে সরকারি হলরুমে সম্মেলনের ডাক
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষক সমিতি গঠনের প্রচারণায় নেমেছে। আবার স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সমিতি গঠনের প্রচারণার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েও জানান দিয়েছেন কান্দারহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পাপরি কণা সরকার সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় স্থানীয়দের ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুধু তাই নয় বেসরকারি সংগঠন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গঠনের উদ্দেশ্যে ১৮ জুলাই উপজেলা সরকারি গণমিলনায়তনে সম্মেলনের করার ডাকও দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণমিলনায়তনে এরকম ব্যক্তি কেন্দ্রীয় বেসরকারি কোন সংগঠনের অনুষ্ঠান করার কোন নিয়ম ও সুযোগ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুল ফাঁকি দিয়ে জাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাদি তালুকদারের নেতৃত্বে লক্ষীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি খোকন, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুষ দাস, ভাডগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুবেল দাস, আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজিত দাস, উজানগাঁও ফকির আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান সহ আরো বেশ কয়েকজনের শিক্ষকদের একটি দল গতকাল সমিতি গঠনের প্রচারণা চালায়। এরমধ্যে ২-৩ জন শিক্ষক ছুটি নিয়েছেন বলে জানান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস রায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী প্রচারণা তারা মুক্তারপুর শেখ হাটি সপ্রাবি, মুক্তারপুর সপ্রাবি ,কান্দার হাটি সপ্রাবি,সীমের কান্দা সপ্রাবি, রৌয়া সপ্রাবি, রৌয়া ছোট হাঁটি সপ্রাবি, খেরুয়ালা সপ্রাবি ,আদিত্য পুর সপ্রাবি, সুধনখল্লী সপ্রাবি, মোহন খল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা প্রচারণা চালায়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে চরম ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের স্থানীয়রা। স্কুল ফাঁকি দিয়ে অনাদি তালুকদারের নেতৃত্বে আজকেও বেশ কয়েকজন শিক্ষক অনেক স্কুলে অনিয়মতান্ত্রিক প্রচারণায় গিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুল ফাঁকি দিয়ে প্রচারণার নেতৃত্বে থাকা অনাদি তালুকদার কোন ছুটি নেননি। এবিষয়ে অনাদি তালুকদার বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে যদি প্রচারণা না করি তাহলে আমরা শিক্ষকের পাবো কই? তিনি বলেন এটা একটা পেশাজীবি সংগঠন স্কুল চলাকালীন সময়ে আমরা যাইতেই পারি।
এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, স্কুল ফাঁকি দিয়ে এরকম প্রচারণা চালানোর কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সকল শিক্ষকদের মধ্যে যদি ঐক্যজোট না থাকে তাহলে সরকারি হলরুমে প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হবে না। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রচারণার বিষয়টিও তিনি দেখবেন বলে জানান।



