দোয়ারাবাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক অনিয়ম, জালিয়াতি এবং বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক মোছা. সুরজাহান আক্তার সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় সেই সুযোগে সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরকারি বিল প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সহকারী শিক্ষক জসিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নম্বর: ০২০০০০৮২৮৯৪২৪) স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি সেসব অর্থ এককভাবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া বিধি-বিধান অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের যৌথ ব্যাংক হিসাবেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিং করানো হয়। বিভিন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি কখনও সহকারী শিক্ষক, আবার কখনও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে অংশগ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোচিংয়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সুবিধা দিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোছা. সুরজাহান আক্তার বলেন, “বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও সরেজমিন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম দেখাশোনার কথা স্বীকার করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস বা কোচিং করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর বিনিময়ে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয় না বলে দাবি করেন। তবে প্রশ্নপত্র ও ফলাফলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগের অনুলিপি দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




