অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়া সম্ভব নয়: -মনসুর আহমদ লস্কর
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
ইএসডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব মনসুর আহমদ লস্কর বলেছেন অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়া সম্ভব নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক এই তিন পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেমন গড়তে হয় ঠিক তেমনি একটি ভালো মানের প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে এই তিন পক্ষেরই সক্রিয় প্রচেষ্টা দরকার। সচেতন অভিভাবক, পড়াশোনায় মনযোগী শিক্ষার্থী আর মানসম্পন্ন শিক্ষক থাকলে যেকোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে বাধ্য। তিনি উইমেন্স মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক ও ১০ম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন ইএসডি ফাউন্ডেশন শুরুতেই নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলো এবং আগামীতেও নারী উন্নয়নে ভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি তার বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং আগামীতে অভিভাবকদের প্রত্যাশা পূরণ ও আমাদের সন্তনতুল্য মেয়েদের ভবিষ্যত বিনির্মানে আরো বেশি কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তেব্যে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে স্কুলের বিভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম তোলে ধরে অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আচরণিক পরিববর্তন, মোবাইল আসক্তি, আত্ম কেন্দ্রীক হওয়া সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা এবং এর থেকে উত্তোরণের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন “শিক্ষাথীদের মধ্যে স্বপ্ন বুনে দিতে না পারলে তারা পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী হবেনা এমনকি লক্ষ্যে অর্জনে ব্যর্থ হবে”এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে অভিভাবককে। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক আগ্রহ তৈরীর ক্ষেত্রে এবং স্বপ্ন পূরণে কার্যকর উদ্যোগ ও কর্মপন্থা নির্ধারণে শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করনে অভিভাবকদের সহযোগিতা পেলে উইমেন্স মডেল স্কুল এন্ড কলেজকে সত্যিকারের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি চমৎকার অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতির জন্য সকল অভিভাবকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাছাড়া বিগত ছয় মাস পরিকল্পনামাফিক পাঠদান সম্পন্ন করে সময়মত পরীক্ষা নেওয়া এবং ফলাফল প্রস্তুত করার জন্য সকল শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ১৩৩ জন শিক্ষার্থীকে শতভাগ উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুল ইনচার্জ মরিয়মুন নেছা মল্লিকা, স্কুল কো-অর্ডিনেটর শিল্পী বিশ্বাস।
অভিভাবকদের মধ্যে থেকে বক্তব্যে প্রদান করেন জনাব তারেক রহমান খান, জনাব রাবেয়া আক্তার তামান্না ও জনাব মোঃ আশিকুজ্জামান।
দুই পর্বে চলা এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বেই ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশ, দ্বিতীয় পর্বে ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকল শ্রেণির ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও শিক্ষকবৃন্দ। পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির ১ম-তাসনিয়া আক্তার, ২য়-তায়্যিবা জাহান, ৩য়-তাবাসসুম সিদ্দিকা সাবা, সপ্তম শ্রেণির ১ম- আয়েশা আক্তার মাশিয়াত, ২য়-তাহমিনা ইসলাম, ৩য়-সূচনা দাস, অষ্টম শ্রেণির ১ম-নাজিফা জামান, ২য়-কাজী ফৌজিয়া আহমেদ, ৩য়-আরিয়া রহমান সিমি, নবম শ্রেণির ১ম-তাসনিয়া বেগম, ২য়-ফাহমিদা জান্নাত মিশু, ৩য়-রাইছা ইসলাম রাহা এবং দশম শ্রেণির ১ম- বর্ষা সূত্রধর, ২য়- মরিয়ম সুলতানা সুর্মিলা, ৩য়- নাজিফা আক্তার অর্পা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেরা শিক্ষার্থীদের জন্য Best Student Award এবং শতভাগ উপস্থিতির জন্য বিশেষ পুরস্কার। অনুষ্ঠানে Best Student Award ৭জন শিক্ষার্থীকে ২০০০/- টাকা করে প্রাইজ মানি প্রদান করা হয়। তাছাড়া শতভাগ উপস্থিতির জন্য ১৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। Best Student Award প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো আয়েশা আক্তার মাশিয়াত, তাছনিয়া বেগম, ফাহমিদা জান্নাত মিশু, রাইসা ইসলাম রাহা, নাদিয়া নাজমিন নুপুর, ফাইজা আক্তার রিয়া, বর্ষা সূত্রধর।
অভিভাবক সমাবেশে সময় মত উপস্থিত হওয়ার জন্য লটারির মাধ্যমে ৫জন অভিভাবককে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ফলাফল ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠানের সঞ্চলনায় ছিলেন স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা জাহান লামিয়া এবং গীতা পাঠ করেন ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝুমা রানী মালাকার। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করানো হয়।




