ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই-সিসিক প্রশাসক
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মুসলিম, সনাতন, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে কাষ্টঘর শিবমন্দিরে রাইজিং স্টার সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সিসিক প্রশাসক বলেন, দিনশেষে আমরা সবাই এই দেশের মানুষ, এই দেশের নাগরিক। আমাদের সবার দেশ বাংলাদেশ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও আমাদের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক ধর্মের মানুষের পাশে দাঁড়ানো।তিনি বলেন, অতীতে দেশের কোথাও কোথাও বিভিন্ন সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিপদ-আপদ বা অসুবিধা দেখা দিলে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সিলেট মহানগরও যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি অটুট রেখে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। নগরের দায়িত্বে থাকার কারণে এবার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের জন্য আগের তুলনায় বেশি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। কুমারী পূজার জন্যও পৃথকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের মূল স্রোতধারায় দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে। এ জন্য সবার ইতিবাচক মানসিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব প্রয়োজন। সবাই একসঙ্গে পথ চললেই একটি সুন্দর ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সাধ্যের মধ্যে তা করার চেষ্টা করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় সীমিত হলেও নাগরিকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কারের অনুরোধ করা হয়েছিল। কাষ্টঘর শিবমন্দিরে পূজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু মন্দিরে আসার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি জানালে পূজার আগে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মানুষের চলাচলের সুবিধা, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের কথা বিবেচনা করেই এক রাতের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও নগরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় উৎসবসহ যেকোনো প্রয়োজনে নগরবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করব।রাইজিং স্টার সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি রানা প্রসাদ ত্রিবেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রামেন্দ্র চৌধুরী তপু, সুমিত শ্যাম পল, জগৎজ্যোতি নারায়ণ দেব, সুমন চক্রবর্তী, ঝুমন চক্রবর্তী, মিষ্টু দাশ, সুমন দত্ত, প্রিয়ম দত্ত, স্বপন কর্মকার ও শপথ দেব প্রমুখ।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিবৃন্দ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।




