দোয়ারাবাজারে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
নুর মোহাম্মদ দোয়ারা বাজার উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
“সমবায়ে গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ ফাতেমা জান্নাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাস্টার কামাল উদ্দিন এবং বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরেফিন মাহমুদ, একাডেমিক সুপারভাইজার মুস্তাফিজুর রহমান, বিআরডিবি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি, সমবায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমবায় হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এককভাবে যে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা অনেকের পক্ষে কঠিন, সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সহজেই বাস্তবায়ন সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে। সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ, নিয়মিত সভা আয়োজন এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, কৃষি, মৎস্য চাষ, পশুপালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমবায় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আলোচনায় সমবায় সমিতিগুলোকে শুধু ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন, বিপণন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সমবায়ের প্রকৃত সুফল যেন সাধারণ সদস্যদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমিতির দায়িত্বশীলদের আরও আন্তরিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা মনে করেন, সমবায়ের সঠিক চর্চা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
আলোচনা সভায় জাতীয় সমবায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সমবায়ের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




