সংবাদ শিরোনাম
ওসমানীনগরে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ২শতাধিক বাসিন্দা উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় মাত্র ৪৩জন  » «   ওসমানীনগরে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে ড্রাইক ও গ্রাম  » «   সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের ৬ জন সদস্য র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার  » «   করিম উল্লাহ মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইলসহ ৬ জন গ্রেফতার  » «   ঈদকে সামনে রেখে নবীগঞ্জে জমে উঠেছে জমজমাট পশুর হাট!  » «   শিশুদের সুপ্ত মেধা বিকাশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিকল্প নেই: শেখ রাসেল হাসান  » «   মেজরটিলায় টিলা ধসে হতাহতের ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির শোক  » «   দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শহীদ জিয়া দূরদর্শী অবদান রেখেছিলেন-অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ  » «   ডামি সরকারের ডামি বাজেট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে-বিএনপি  » «   গোয়ালাবাজার থেকে খাদিম পুর রোডের রাস্তার দুই পাশে গাছ হেলে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা  » «   আলোকিত দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরকে আদর্শবান হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী  » «   মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর বিএনপির খাদ্য বিতরণ  » «   ইতিহাস বিকৃত করে মানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না  » «   নবীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে নাশকতা ও হয়রানির শেষ কোথায়? সচেতন মহলের প্রশ্ন  » «   উচ্চহারের হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের নাগরিক বৃন্দের আনুষ্টানিক বক্তব্যঃ  » «  

ওসমানীনগরের বুড়ি নদীর চরে ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা

উজ্জ্বল দাশ ওসমানীনগর (সিলেট)::সিলেটের ওসমানীনগরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা নদীখেকোদের দাপটে জৌলুস হারিয়েছে। ২০ মার্চ সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার তাজপুর বাজারে অনুষ্টিত মেলায় গিয়ে দেখা যায় হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দোকান বসেছে মেলায়, লোক সমাগম ও বিগত বছর গুলির তুলনায় অনেক কম , একটা সময় উপজেলার ভিবিন্ন স্থান থেকে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত থাকতো এই মেলা,নারী, শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সের সকল ধর্মের মানুষ বারুনী মেলাতে উৎসাহ ভরে অংশ নিতেন। কিন্তু আজ যেন এসব কিছুই অতীত।।
জানা যায় যে বুড়ি-বরাক নদীকে কেন্দ্র করে ৩ থেকে ৪ শত বছর ধরে এই মেলা হত সেই নদী আর জীবিত নেই।নদীখেকোদের দাপটে মরে গেছে বুড়ি-বরাক নদী।দখল আর ভরাট হয়ে গেছে সম্পুর্ন নদীটিই ।চারিদিকে অবৈধ্য স্থাপনা আর ময়লার ভাগাড়।
জানা গেছে, সনাতন ধর্মালম্বী প্রতি বছর দোল পূর্ণিমা তিথিতে শত বছর আগে বুড়ি-বরাক নদীতে পূণ্য স্নান করতেন। মহাভারতে বর্ণিত বড়ি-বরাক নদী গঙ্গার সাথে যুক্ত। গঙ্গা নদী হচ্ছে পাপ মোচনকারী নদী। পুর্ণিমা তিথিতে গঙ্গার জোয়ারের পানি বুড়ি বরাক নদীতে এসে মিলিত হয়। সঙ্গত কারণেই যারা গঙ্গা নদীতে স্নান করতে অক্ষম তারা বুড়ি বরাক নদীতে পূণ্য স্নান করতেন। গোয়ালা বাজার, তাজপুর, বেগমপুর, লামা গাভুরটিকি পাঁচপীরের মোকাম, বরুঙ্গা এলাকায় প্রভৃতি মোহনায় হাজার হাজার মানুষ পূণ্য স্নান করতেন। তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যোগানের লক্ষ্যে মেলার শুরু হয়। আর তখন উপজেলার তাজপুর বাজারে সবচেয়ে বেশী লোক সমাগম ঘটতো। সেখানের বারুনীর মেলা ছিলো সিলেটের বিখ্যাত। দক্ষিনে ঢাকা দক্ষিন মহাপ্রভূর মেলা আর তাজপুরের বারুনী মেলা হচ্ছে সিলেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী মেলা। বর্তমানে বুড়ি বরাক নদী ইতিহাস থেকে প্রায় হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের পথ ধরে সে মেলা এখনো অনুষ্ঠিত হয়। তবে আগে মেলা একটানা ৭দিন ধরে থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত আকারে (১দিনে) এসেছে, কিন্তু নেই আগের সেই জৌলুস।
প্রবীণ রইচ উল্যা বলেন, আগে অনেক দূর থেকে মানুষ আসতো। বুড়ি-বরাক নদীতে গোসল করে যাবার সময় বাড়ির বাচ্চা ও অন্যদের জন্য বিভিন্ন জিনিস কিনে বাড়ি ফিরত।এখন আর নদীও নেই তাই গোসল ও কেউ করে না।সাংবাদিক মলয় চক্রবর্তী জানান আগে মেলার সময় বুড়ি-বরাক নদীতে নৌকা দিয়ে ময়রারা মুখরোচক মিষ্টি বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসতেন আরো আসতেন শতাধিক বেধে পল্লীর লোক নানা রকম পন্য নিয়ে মেলেয় বিক্রি করার জন্য।এখন নদী পথও নেই তারাও হারিয়ে গেছেন।
মেলায় কেনা বেচা প্রসঙ্গে খেলনা সামগ্রী বিক্রেতারা জানান, বিকিকিনি খুব খারাপ। করোনার কারনে গত ২ বছর এই মেলাই হয়নি,এবার যা-ই আয়োজন করা হয়েছে কিন্তু মেলায় জায়গার অভাব থাকায় আমাদের দোকান নিয়ে বসতে রীতিমত প্রতিযোগীতায় নামতে হয়েছে। মূলত এটা হিন্দুদের মেলা হলেও ধীরে ধীরে তা সর্বজনীন মেলায় পরিনত হয়েছে এমন মন্তব্য মেলায় আগন্তুকদের। মেলায় বিভিন্ন পন্য সামগ্রীর বিক্রেতারা জানান, তারা বলেন গত কয়েক বছর ধরে তারা মেলায় আসছেন। তবে আগের মত মেলা জমছেনা। পূর্বে মেলাগুলোতে প্রচুর লোকসমাগম ঘটতো। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মেলায় বিক্রেতাদের যত্রতত্র বসতে হয়। এতে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বিঘ্ন ঘটে। আগামীতে মেলা যাতে সম্প্র্রসারিত করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.