সংবাদ শিরোনাম
তৃতীয় দফা বন্যার মুখোমুখি সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের লাখ লাখ মানুষজন  » «   বন্যায়ও থেমে নেই ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা চিনির চোরাচালান  » «   সিলেটে নতুন পুলিশ সুপার এর যোগদান  » «   র‌্যাব সদস্যরা দেশের যেকোন সংকটময় মূহুূর্তে সব সময়ই জনগনের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে -র‌্যাব মহাপরিচালক  » «   সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ পেলেন ব্যারিস্টার সুমন  » «   গুজব আতঙ্কে গোলাপগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ  » «   সুনামগঞ্জে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  » «   কৃষকরা এ দেশের প্রাণ: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জের এক শিশু লেখা পড়া করে শিক্ষিত হতে চায়- টাকার অভাবে স্কুল ফাঁকি দিয়ে শাক- সবজি বিক্রয় করছে!  » «   এমএ হকের ৪র্থ মৃত্যুবাষির্কীতে মহানগর বিএনপির দোয়া মাহফিল  » «   ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করা না হলে দেশ চরম অস্থিত্ব সংকটে পড়বে : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   যৌতুক মামলায় নবীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু একাডেমির শিক্ষক আবুল হাসান জেল হাজতে  » «   বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় নগর বিএনপি দোয়া মাহফিল অব্যাহত  » «   ওসমানীনগরে শশুর বাড়িতে প্রান গেল জামাতার  » «   দক্ষিণ সুরমায় বিআরটিএ এর অভিযান, ৫ চালককে জরিমানা  » «  

ওসমানীনগরে গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় চেয়ে কিশোরীর সংবাদ সন্মেলন

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি::সিলেটের ওসমানীনগরে ফুল তুলতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ বছরের এক কিশোরী। বর্তমানে ৮ মাসের অন্তসত্বা হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। থানায় মামলা দায়ের হলেও গ্রেফতায় হয়নি ধর্ষক সজু(৩৩)। সে উপজেলার নিজ বুরঙ্গা গ্রামের রাখাল দেবের পুত্র। ঘটনাটি জানা জানি হলে সজুর পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকায় দফারফা করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে নির্যাতিতার পরিবারকে অব্যাহত হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন নির্যাতিতা কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানা গেছে, দির্ঘদিন থেকে প্রতিবেশী সজু বিভিন্ন সময় ওই কিশোরীকে উত্যাক্ত করছিলো। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওই কিশোরী পূজার ফুল তুলতে সজুর বাড়িতে যায়। তখন কৌশলে সজু তাকে ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ইচ্ছার বিরোদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরী ও তার পিতাকে হত্যার হুমকি দেয় হয়।

পরবর্তীতে একাধিক বার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে সজু। একসময় কিশোরীর শারিরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি সজুকে জানালে সে কিশোরীকে বিয়ের আশ্বস্ত করে। শর্ত দেয় গর্ভপাত করাতে হবে। তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে সজু কিশোরীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে কিশোরী তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। পরেও বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কিশোরীর গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করে সজু। সজুর পরিচিত বুরুঙ্গা বাজার এলাকার কথিত ডাক্তার বাসু দাশ কিশোরীকে চেকআপ করার কথা বলে তার চেম্বারে ডাকে। সেখানে গর্ভপাত করার জন্য সজুর কাছ থেকে বাসু নগদ ৩০ হাজার গ্রহন করেছে বলে জানায়।

এমন প্রস্তাবে কিশোরী দৌড়ে চেম্বার থেকে পালিয়ে আসেন। পরে বুরুঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিপংকর দেব শিবু নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে কিশোরীর পিতার কাছে গিয়ে গর্ভপাত করে বিষয়টি মিমাংসা করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে কিশোরীর পরিবার সম্মত না হয়ে টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সন্তানের পিতার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করে বলেন, থানায় গিয়েও কোন লাভ হবে না। নিরুপায় হয়ে পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার পরিবার। পঞ্চায়েতের লোকজন শালীশে বসলে নির্ধারিত দিনে ইউপি সদস্যসহ সজুর পরিবারের কেউ উপস্থিত হননি। পরে পঞ্চায়েতের পরামর্শে ২ মে ওসমানীনগর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে সজুকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন কিশোরীর পিতা। মামলা দায়েরের করলে বিপত্তি বাদে ওই পরিবারের।

চলতি মাসের ৬ তারিখ রাতে মামলার বাদিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কথিত ডাক্তার বাসু দাশের চেম্বারে আটকে রাখা হয়। সেখানে বাসু দাশসহ সজুর ভাই রঞ্জু দেব, দিপংকর দেব শিবু পুনরায় ৫ লক্ষ টাকা গ্রহনের মাধ্যমে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়া এবং কিশোরীর গর্ভপাত করাতে চাপ সৃষ্টি করে নির্যাতন করেন। ঘটনাটি থানায় জানালে সাধারণ ডায়রী করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। পুলিশের পরামর্শক্রমে তিনদিন পর নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করে নির্যাতিতার পিতা। ডায়রি দায়েরের পরও নির্যাতনকারীরা অব্যাহত হুমকি প্রদান করছে। ফলে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর আশংখা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন কিশোরী পিতা।

এদিকে, মামলা দায়েরের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ এখনো পর্যন্ত আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি। একাধিকবার থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও আসামী গ্রেফতার ও দায়েরকৃত সাধারণ ডায়রির বিষয়ে থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নির্যাতিতা কিশোরী বলেন, আমি আমার গর্ভের সন্তানের জন্ম দিতে চাই। সন্তানের পিতা ও সজুর বৈধ স্ত্রীর পরিচয় এবং যারা আমার সন্তানকে ভূমিষ্ট হতে বাধা দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযোক্ত বাসু দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সজুর পরিবারের সাথে আমার যোগাযোগ নেই। ৩০ হাজার টাকা গ্রহন করে গর্ভপাত চেষ্টার অভিযোগটি মিথ্যা।

ইউপি সদস্য দিপংকর দেব শিবু বলেন,আমি চাই মেয়েটি সঠিক বিচার যেন পায়। ৫লক্ষ টাকায় দফারফার বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্য মাকছুদুল আমিন বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.