এসডিজি ভিলেজ : বেদনার নদী পেরিয়ে সম্ভাবনার নতুন ভোর
ম. জাভেদ ইকবাল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
নদীর সাথেই যার নিত্য বসবাস আর জোয়ার-ভাটায় জীবনের ওঠানামা-সেই পানখালী ছিলো প্রকৃতির বুকে লেখা এক বিষাদমাখা জনপদের নাম। খুলনার দাকোপ উপজেলার এ জনপদে নদী শুধু জল বয়ে নেয় না, বয়ে নিয়ে যায় মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর অনিশ্চিত জীবনের দীর্ঘশ্বাস। চারদিকে সবুজের স্নিগ্ধতা, নদীর বুকে আলোর ঝিলিক, বাতাসে মাটির সোঁদা গন্ধ; সব মিলিয়ে প্রকৃতি এখানে এঁকেছে মায়াময় এক ছবি। অথচ সেই ছবির আড়ালেই লুকিয়ে আছে কঠিন বাস্তবতার কত না অশ্রুলিপি! লবণাক্ততার বিষণ্ন ছায়া, সুপেয় পানির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নদীভাঙনের অজানা শঙ্কা, ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের অবিরাম ভয়-এসব নিয়েই প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাথে লড়াই করেই এখানকার মানুষ খুঁজে ফেরে জীবনের অবলম্বন। একইসাথে, জীবিকার অনিশ্চয়তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা ও চিকিৎসার অপ্রতুল সুযোগ প্রতিদিনের পথকে করে তোলে আরো বন্ধুর। কখনো এক কলস নিরাপদ পানির জন্য নারীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, কখনো জীবিকার সন্ধানে
মুঠোবন্দি স্বপ্ন নিয়ে ছুটতে হয় অনিশ্চিত গন্তব্যে। এখানে বেঁচে থাকা মানে শুধু দিন পার করা নয়; প্রতিকূলতার সাথে নিরন্তর বোঝাপড়া করে আগামীকালের জন্য একটু আশ্রয়, একটু স্বস্তি, একটু নিশ্চয়তা খুঁজে নেওয়া।
তবু পানখালীর মানুষের চোখের স্বপ্ন নিভে যায়নি। দুঃখের দীর্ঘ ছায়া যতই ঘন হোক, প্রত্যাশার প্রদীপ তাঁরা জ্বালিয়ে রেখেছেন বুকের গভীরে। সেই প্রদীপেই এবার নতুন করে আলো ফেলছে এসডিজি গ্রাম হিসেবে পানখালীকে গড়ে তোলার প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ আগস্ট ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ’ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের তিনটি গ্রামকে সম্পৃক্তকরে ‘এসডিজি ভিলেজ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসডিজি ভিলেজ প্রকল্পের গ্রাম তিনটি হচ্ছে-রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ও খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী। তিনটি গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও জলবায়ু ঝুঁকির ধরন আলাদা। ফলে প্রতিটি গ্রামের জন্য স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় পৃথক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানখালী গ্রামটি সুন্দরবন-সংলগ্ন অনগ্রসর উপকূলীয় এলাকা। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা এখানকার বড় সমস্যা। সিডর, আইলা ও আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামটির অবকাঠামো ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানীয় জলের তীব্র সংকট রয়েছে। একই সাথে এখানে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষিত যুবক বেকার এবং মৌসুমি বেকারত্বও প্রকট। পানখালীর সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে কাঁকড়া চাষ, নদী ও খালকে কাজে লাগিয়ে সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। গ্রামটিতে কাঁকড়া চাষ ও নির্মাণকাজে নারী-পুরুষ সমান মজুরি পাওয়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিনের নানা সংকটে থাকা গ্রামটিতে বৈদ্যুতিক আলো ছড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা যায়। কৃষিতে আসবে পরিবর্তন, বাড়বে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামে মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ের সুযোগও বাড়বে।
বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বলছে, এসডিজির মূলমন্ত্র হলো কাউকে পেছনে ফেলে না রাখা। এর ১৭টি অভীষ্ট, ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা ও ২৫০টি সূচকের মধ্যে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব দেশের জন্য সব সূচক সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এসডিজির অভীষ্টগুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ উন্নয়নের সুফল যেন দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ-সহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় এমন পরিকল্পনার কথাই এখানে বলা হয়েছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস, টেকসই নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
এসডিজির প্রথম লক্ষ্য হলো সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান। বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বৈষম্য এখনো বহু মানুষের জীবনমানকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত চর, হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল ও নগর বস্তির দরিদ্র জনগোষ্ঠী নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি। দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি।
অন্য লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অপচয় হ্রাস করা আবশ্যক। স্বাস্থ্য একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এসডিজির তৃতীয় লক্ষ্য অর্জনে সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং চিকিৎসাজনিত আর্থিক ঝুঁকিও কমবে। এসডিজির চতুর্থ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ। প্রত্যন্ত এলাকার শিশু, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আবার, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে নারীর অবদান বিবেচনায় বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, মজুরিবৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে অনিরাপত্তা দূর করতে হবে।
অন্যদিকে, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের লক্ষ্য অর্জনে নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণ, পানি পরিশোধন, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আবার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, বিদ্যুতের অপচয় কমানো, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
এসডিজির অষ্টম লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে জোর দিতে হবে। একইসাথে শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে বৈষম্য কমাতে ন্যায্য সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত সরকারি সেবা, সমান কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই নগর গড়তে পরিকল্পিত আবাসন, কার্যকর গণপরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ এলাকা, নিরাপদ পথচারীবান্ধব সড়ক এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এসডিজির দ্বাদশ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, খাদ্য অপচয় রোধ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং শিল্পবর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি, দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ, উপকূলীয় বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ। এসডিজির চতুর্দশ লক্ষ্য অর্জনে নদী ও সমুদ্রদূষণ কমানো, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, টেকসই মৎস্য আহরণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা দরকার। উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণও জরুরি। সমুদ্রসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মৎস্যসম্পদ, উপকূলীয় জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সুরক্ষিত থাকবে।
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ‘এসডিজি ভিলেজ’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে একটি ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার দৃষ্টান্তমূলক একটি প্ল্যাটফর্ম। তাই এসডিজি ভিলেজগুলোয় ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু অ্যাম্পয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকো ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রকল্পটি সফল হলে এর মডেল সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এসডিজি অর্জনে দেশ যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হবে বলে ধারণা করা যায়। যে কারণে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার (Recovery), পুনর্বাসন (Rehabilitation) ও পুনর্গঠন (Reconstruction)’ এই থ্রি-আর (Three Rs) কৌশল গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর–সবকিছুই একটি সুসংহত পথনকশায় বাস্তবায়িত হবে।
জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি বিশ্বের জন্য আহ্বান, তবে বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য কমিটমেন্ট। ফলত, ‘এসডিজি ভিলেজ’-ই হতে পারে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রথম উৎকৃষ্ট পদক্ষেপ। এর সফলতায় সামগ্রিক এসডিজি অর্জন গতি পাবে বলে সহজেই অনুমেয়।
আবার ফিরে যাই নোনাপানির উপকূলে পানখালী গ্রামে, যেখানকার মানুষের চোখে এখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ঝিলিক, আর হৃদয়ে দিনবদলের অনুরণন। দুর্গম ও নানাবিধ সংকটে জর্জরিত গ্রামটি এখন সরকারের এসডিজি মডেল বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে। যা বাস্তবে রূপ পেলে পানখালীর মানুষ পাবে এক নতুন জীবনের আস্বাদ আর দেশ পাবে উন্নয়নের নতুন এক রূপরেখা। তাই, উদ্যোগটি সফল হোক, এটাই সবার প্রত্যাশা। ‘এসডিজি ভিলেজ’-নিছক একটি প্রকল্প নয়, উপকূলবাসীর জন্য এটি যেন বেদনার নদী পেরিয়ে সম্ভাবনার এক নতুন ভোর।
লেখক : মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ
পিআইডি ফিচার



