টিলার মাটি কেটে বিক্রি করে কে এই জালাল উদ্দিন
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
মামলা, প্রসিকিউশন, একের পর এক ডিজিতে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকায় টিলা কাটা ও মাটি বিক্রির অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালানোর দায়ে তিনটি মামলারও আসামি তিনি।পাশাপাশি এসব ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনি পদক্ষেপ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। চাকুরী, ব্যবসা না থাকলে অবৈধভাবে চলছে আয়।
শাহপরান থানা এলাকায় জোনাকী আবাসিক এলাকার মৃত সাহেব আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগিরা সিলেট নগরীর উত্তর বালুচরের সাদীপুর প্রথম খণ্ড মৌজার এসএ ১১২ নম্বর খতিয়ানের ৬৩ নম্বর দাগে অবস্থিত করিমউল্লাহ টিলা, যা স্থানীয়ভাবে দুশামান ও রেকর্ডিয় টিলা নামেও পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি কেটে মাটি বিক্রির দায়ে জালাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী ১৮ আগস্ট মামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে টিলাটির মাটি কেটে ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহন করে বিক্রি করা হয়েছে। এতে টিলার স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল উত্তর বালুচরের টিলা কাটার বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরকে পরবর্তী সময়ে রাস্তায় একা পেয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জালাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে। পরবর্তী সময়ে জালাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে থানার এসআই জুয়েল চৌধুরী ১২ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন পাঠান আদালতে।
টিলা কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে ‘সিলেট বালুচরের নিউজ’, ‘Ma Talukdar’ ও ‘ব্যটারি গলি’ নামের কয়েকটি আইডি বা পেজের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব মাধ্যম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, মানহানিকর পোস্ট এবং আপত্তিকর ছবি প্রচার করা হয়েছে।
অভিযোগের একটি অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরির কথাও বলা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকভাবে হেয় করা এবং মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ঘটনায় জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ২০ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
এছাড়া জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ০১ সেপ্টেম্বর, ২৯ সেপ্টেম্বর ও ১৩ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৩ মার্চ তার বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় ভূক্তভোগীরা সাধারণ ডায়েরি করেন।



