সংবাদ শিরোনাম
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে সিয়াম নামে এক তরুণ নিহত  » «   কোটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে বিক্ষোভের ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের  » «   আগামীকাল সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি ঘোষণা  » «   দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব! নিরব প্রশাসন  » «   মাদকের ভয়ালগ্রাস থেকে আমাদের সন্তানদের বাচাতে হবে- বিভাগীয় কমিশনার আহমদ ছিদ্দীকী  » «   আরিফ হত্যা মামলায় ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিপু কারাগারে  » «   ধর্মপাশার মুগরাইন হাওরে গোসল করতে নেমে ডুবে শাশুড়ি ও তার অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর মৃত্য  » «   তৃতীয় দফা বন্যার মুখোমুখি সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের লাখ লাখ মানুষজন  » «   বন্যায়ও থেমে নেই ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা চিনির চোরাচালান  » «   সিলেটে নতুন পুলিশ সুপার এর যোগদান  » «   র‌্যাব সদস্যরা দেশের যেকোন সংকটময় মূহুূর্তে সব সময়ই জনগনের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে -র‌্যাব মহাপরিচালক  » «   সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ পেলেন ব্যারিস্টার সুমন  » «   গুজব আতঙ্কে গোলাপগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ  » «   সুনামগঞ্জে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  » «   কৃষকরা এ দেশের প্রাণ: প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী  » «  

মা-বাবার অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলেই সন্তানরা বড়ো হয়—–কবি আসাদ চৌধুরী

eeeসিলেটপোস্টরিপোর্ট:বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আসাদ চৌধুরী বলেছেন, সন্তানের জন্য মা-বাবাকে সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে হয়। এজন্য সন্তানের প্রতি মা-বাবার ভালোবাসাও সর্বোচ্চ। একটি পরিবার বা সমাজের উন্নয়নে মা বাবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মা-বাবার অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার ফলেই তাদের সন্তানরা বড়ো হচ্ছে। মা-বাবার আর্শিবাদের ফলেই তারা আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছে। মা-বাবাকে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় তাদের সন্তানকে মানুষ করার জন্য। নাঈম-জাহান-লতিফী এনজেএল ইএনটি সেন্টার সিলেট-এর উদ্যোগে সিলেট অঞ্চলের গর্বিত মা-বাবা সম্মাননা ২০১৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গতকাল সিলেট নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের অন্যতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সোলেমান হলে এ সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গর্বিত মা-বাবা সম্মাননা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপির সঞ্চালনায় ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা বেগম নূর জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনজেএল ইএনটি সেন্টারের পরিচালক ডা. নুরুল হুদা নাঈম । বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: অছুল আহমদ চৌধুরী, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মীর মাহবুবুল আলম, সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম শমিউল আলম, দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক গবেষক আবদুল হামিদ মানিক, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক একেএম হাফিজ, শাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক জোবেদা কনক খান প্রমুখ। মাওলানা মো. আহমদ আলীর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের সভাপতি কবি লাভলী চৌধুরী, দৈনিক সিলেটের ডাকের সহ-সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, সামসুল মাওলা ও গর্বিত মা বাবাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন  এডভোকেট মাহফুজুর রহমান (সন্তান), মো. সাজ্জাদুর রহমান (সন্তান), তাজউদ্দিন জুয়েল (সন্তান), হালিমা বেগম (সন্তান), গর্বিত পিতা এম এ মুমিত চৌধুরী, জিতেন্দ্র কুমার দে প্রমুখ। মাকে নিবেদিত গান পরিবেশন করেন গীতিকবি সাইয়িদ শাহীন ও কবিতা পাঠ করেন কবি উম্মে সুমাইয়া তাজবিন নীলা, গল্পকার রীমা বেগম পপি, সামিয়া বেগম, খাদিজা হারিস, আলী আহসান হাবীব, মো. শাহ আলম, নূর উদ্দিন শামীম, তানভীর তারেক, আব্দুল জলিল প্রমুখ। গর্বিত মা-বাবাদের পরিচিতি পাঠ করেন রেহেনা আক্তারা শান্তা। অনুষ্ঠানে ১২জন মা-বাবা তথা ২৪জনকে এ সম্মাননা পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এ বছরের পুরষ্কার প্রাপ্তরা হলেন গর্বিত মা-বাবা হাজী আমিনা খাতুন-মরহুম হাজী খলিলুর রহমান, লুৎফুন্নেছা চৌধুরী-মরহুম আছদ্দর আলী চৌধুরী, অঞ্জলী রানী নাথ-যোগেশ চন্দ্র নাথ, সৈয়দা নাজমুন নাহার বেগম-এম.এ.মুমিত চৌধুরী, হাজী মো. মনু মিয়া-লুৎফুননেছা, মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী-সামসুন নাহার বেগম, মিসেস ফালাক আরা রহমান-মো. মহিবুর রহমান, মো. রফিকুল বারী-আনোয়ার বেগম, ডা. এ.কে.এম হাফিজ-নাঈম ফাতেমা, শামসুন নাহার, আতাউর রহমান তালুকদার আশিক মিয়া, অনিমা দে-জিতেন্দ্র কুমার দে, নূরজাহান বেগম-ফারুক আহমদ। স্বাগত বক্তব্যে ডা. নুরুল হুদা নাঈম বলেন, মা-বাবা তাদের সন্তানদের কষ্ট করে লালন পালন করেন। আমরা এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের অবদানকে আলাদা করে দেখতে চাইনা। এজন্য একই সাথে মা-বাবা উভয়কেই সম্মানিত করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা-বাবার প্রতি সামান্যতম অনুভুতির প্রকাশ দেখাতে পারলেই আমাদের আয়োজন স্বার্থক হবে বলে আশা রাখি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গবেষক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, একটি সন্তান শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়, বরং সে একটি দেশ ও জাতির সম্পদ। এই সন্তানকে পরিচর্যার মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করতে হয়। সেই পরিচর্যার কাজটি করেন মা ও বাবা। ছেলেমেয়েরা দেশ ও জাতির সম্পদ না হয়ে সে যদি আপদ হয় তাহলে খুবই ক্ষতিকর। আমাদের মা-বাবারা তাদের সন্তানদের জন্য অনেক ত্যাগ ও সাধনা করেন। প্রত্যেক সন্তানের উচিত তাদের মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববান হওয়া। এডভোকেট একেএম শমিউল আলম বলেন, মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দেয়া বর্তমানে একটা ট্রেডিশন হিসেবে রুপ নিয়েছে। আমাদেরকে  শুধু মা-বাবাদেরকে ভালোবাসলেই চলবে না, বরং বৃদ্ধ অবস্থায় তাদের প্রতি সন্তানের যে দায়িত্ববোধ তা পুংখানুপুংখভাবে পালন করতে হবে। প্রফেসর ডা. মীর মাহবুবুল আলম বলেন, মা-বাবার অপরিসীম কষ্টের ফলেই তাদের সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়।  ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পেছনে মা-বাবার ভূমিকা রয়েছে সবার আগে। আগামীর কর্ণধার হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলার জন্য মা-বাবার সর্বাক্ষণিক তদারকির কোন বিকল্প নেই। বক্তারা বলেন, শিক্ষিত মানবসম্পদ গঠনে মা-বাবার অবদান অনেক ও তার কোন বিকল্প নেই। জন্ম দেয়ার পর থেকে সন্তানদের প্রতি মা-বাবার এই ত্যাগ এর কারণে প্রতিটি ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে সৃষ্টিকর্তার পরই মা-বাবার স্থান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষভাবে মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য এবং সন্তানের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ববোধের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.