সিলেটে সম্মিলিত ট্রাভেল এজেন্সির মতবিনিময় সভা
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সিলেটের সম্মিলিত ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসায়ী নেতারা। বুধবার রাতে সিলেট নগরীর নাইওরপুলে একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় ট্রাভেল এজেন্সির নেতারা এ দাবী জানান।
সিলেটের প্রবীণ ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী ও আটাবের সিলেটের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান এর সভাপতিত্বে ও সোমা ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোতাহের হোসাইন বাবুল এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন শিপার এয়ার সার্ভিসের মালিক খন্দকার শিপার আহমেদ, লতিফ ট্রাভেলসের জহিরুল কবির চৌধুরী, যাত্রীক ট্রাভেলসের আব্দুল জব্বার জলিল, নড়িয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’র স্বত্বাধিকারী সবুজ মুন্সী, আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন টিপু, সদস্য সচিব, মোহাম্মদ জুমান চৌধুরী, হজ্ব এজেন্সীজ এসোসিয়েশন হাব এর অর্থ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, এসটিএস ট্রাভেলসের মাহবুব হাবিব শৈবাল, আটাব ঢাকা জোনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন সেলিম। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি কাজী নিয়াজ মোরশেদ, মো:রিপন হোসেন, আমিরুল ইসলাম অনিক,মো:শামীম আহম্মেদ, মো:তুহিন হোসেন, রিয়াদ উদ্দিন আবির, আকবর আলী, মিজানুর রহমান, আমিনুল ইসলাম রতন প্রমুখ।
নড়িয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’র স্বত্বাধিকারী সবুজ মুন্সী বলেন, আজকে এসময়টা আমরা নিজেদের ব্যবসায় দেওয়ার কথা, কিন্তু আমরা ব্যবসা ফেলে রেখে একটা কালো অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কারা সরকারকে এ আইনটি করার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার।
সংগঠনের সদস্যসচিব জুমান চৌধুরী বলেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টি সীমিত থাকার কারণে তারা বড় এজেন্সি থেকে টিকিট সংগ্রহ করে গ্রাহকদের সেবা দেন। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বানানো হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি জানান, ২০২১ সালের আইনে নির্ধারিত শাস্তি সংসদীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পাস হয়েছিল। সেটি হঠাৎ করে তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। যে কোনো অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই সম্ভব। আলাদা করে অতিরিক্ত কঠোর শাস্তির প্রয়োজন নেই—যোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের আইন ও ২০২১ সালের সংশোধনী আইনের পরিবর্তন করে নতুন যে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে তা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন, যা পুরো খাত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, নতুন অধ্যাদেশে যেসব সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে তার অনেকগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে ধারা ৫–এ অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করলে সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সিগুলো টিকে থাকতে পারবে না। দেশে যে ৫ হাজার এজেন্সি আছে, তাদের অধিকাংশেরই এয়ারলাইন্স থেকে সরাসরি টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। আর অনলাইন ও অফলাইনের জন্য যে ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা জামানত রাখার কথা বলা হয়েছে, তা ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৯-এ পরিবারের বাইরে ব্যবসা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা, এক ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্টের কার্যক্রম সীমিত করা এবং বিনা শুনানিতে লাইসেন্স স্থগিত করার মতো বিধানগুলো খাতটিকে অকার্যকর করে দেবে। দেশের প্রচলিত আইনেই একই ঠিকানায় একাধিক ব্যবসার লাইসেন্স বৈধ। বহু রিক্রুটিং ও হজ এজেন্সি দীর্ঘদিন ধরে টিকিট সেবা দেওয়ার জন্য একই অফিস থেকে ট্রাভেল ব্যবসা পরিচালনা করছে।
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের মেয়াদে কোনো খাতে অধ্যাদেশ জারি করা হলে তা সাধারণত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে আইন সংশোধন করা অধিক গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক হবে।
৫ হাজার নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অধ্যাদেশটি বাতিলের আহ্বান জানান ট্রাভেল এজেন্সির নেতারা।




