বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তা, নিউইয়র্ক আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ৭ দফা দাবিনামাসহ একটি স্মারকলিপি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি এমপি বা মন্ত্রী হতে চাইনি। দল ও দলের চেয়ারম্যান চেয়েছেন, আর এলাকার মানুষ ভোট দিয়েছেন বলেই আমি নির্বাচিত হয়েছি।” তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুন্নুন চৌধুরী, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু ও মাওলানা যাকারিয়া মাহমুদ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জামীল আনসারী। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ বুরহান উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট-৪ আসনের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। তবে পর্যটন সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের উন্নয়নে ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় অনেক এলাকায় রাস্তা-ঘাটের অভাবে যেতে পারেননি, তবে এলাকার সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।
সিলেট বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিলেটের ১৯ জন এমপি একসঙ্গে বসে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছি।” প্রধানমন্ত্রী সিলেটসহ সারা দেশের উন্নয়নে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিদেশে কর্মী প্রেরণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। সরকার ইতোমধ্যে সেই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করেছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, এখন থেকে শুধু টিকিটের খরচে কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া বিমানবন্দরে লাগেজ হয়রানি ও ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে যেভাবে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করেছেন, একইভাবে সিলেট-৪ আসনের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। তবে স্থানীয় ছোটখাটো সমস্যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত খরচে বিদেশ গিয়ে অনেক প্রবাসী কাজ না পেয়ে বিপদে পড়ছেন। এ সমস্যা সমাধানে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানে কম খরচে কর্মী পাঠাতে ভাষা প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী জানান, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি বিএনপি (উত্তর)-এর সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকন, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, এম এ বাতিন, সাইফুর খান হারুন, ফারুক হোসেন মজুমদার, সৈয়দ ইলিয়াস খছরু, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যোসেফ চৌধুরী, শামীম আহমদ মনির, মাওলানা আবুল কালামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।