সংবাদ শিরোনাম
দোয়ারাবাজারে কেন্দ্র ফি’র নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়  » «   তাহিরপুরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে প্রধান শিক্ষকের টালবাহানা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে প্রতারণা, প্রতারককে জরিমানা  » «   মৌলভীবাজারের জুড়িতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ দুইজন গ্রেফতার  » «   দোয়ারাবাজারে বিদেশী মদের চালানসহ মাদক কারবারি আটক  » «   সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১৫টি স্পটে চলছে সহশ্রাধিক অবৈধ ক্রাশার মেশিনের তান্ডব  » «   সুনামগঞ্জে পিতা ও কন্যার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার  » «   নবীগঞ্জে যুদ্বাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া আমাদের মধ্যে আর নেই! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাপন  » «   জুড়ীতে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ১  » «   ছাতকে আবুল হোসেনকে পরিকল্পিত হত্যা নাকি অন্য কারণ?প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত   » «   তাহিরপুরে রাতের আঁধারে কৃষকের জমির ধান কেটে নিল প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনী   » «   ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ আহত ৭, আশংখাজনক ভাবে ৫জনকে সিলেট প্রেরন  » «  

ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জে মাঠে বাংলাদেশ

1সিলেটপোস্ট রিপোর্ট : আগের দিন পেসার মোহাম্মদ শহীদের বলে আজহার আলির ক্যাচ গ্লাভসে নিতে গিয়ে ডান হাতের অনামিকায় ব্যথা পেয়ে সেই যে মাঠের বাইরে-বৃহস্পতিবার সারা দিন আর ফিল্ডিংয়ে নামেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। নিয়মিত কিপারের বদলে দ্বিতীয় দিন শেষ ঘণ্টা থেকে উইকেটকিপারের ভূমিকায় ইমরুল কায়েস।

অনিয়মিত কিপারকে দিয়ে টেস্টে সারা দিন কিপিং করানোর অর্থ রাজ্যের ঝুঁকিতে থাকা। এটা এক ধরনের মাইনাস পয়েন্ট। তবু রক্ষা ইমরুল কোনো সহজ ক্যাচ ফেলেননি। তার হাতে কোনো ক্যাচ যায়নি। তার সঙ্গে যোগ হল নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতি। দল পরিচালনা করেন সহঅধিনায়ক তামিম ইকবাল।

বোলার ব্যবহার, ফিল্ডিং সাজানো এবং ব্যাটসম্যানের মতি-গতি বুঝে কৌশল নির্ধারণের কাজটা কাল তাকেই সারতে হয়েছে। এটুকু শুনে হয়তো মনে হচ্ছে অধিনায়ক আর কিপার মুশফিকের মাঠে নামতে না পারাই বুঝি মূল সমস্যা।

আসলে তা নয়। মূল চিন্তার জায়গা অন্য। শেষ কথা হল-বাংলাদেশ এখন কঠিন চাপে। কাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ২০৫ রানের বড়সড় লিড পেয়ে গেছে পাকিস্তান। বোলিংয়ে আজ সকালের সেশনে অতিনাটকীয় কিছু ঘটাতে না পারলে ব্যবধান বাড়বে আরও। পাকিস্তান আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবে। কারণ তাদের ইনিংসের অর্ধেকটাই বাকি।

ক্রিজে দুই সেট ব্যাটসম্যান আসাদ শফিক (৫১) ও সরফরাজ আহমেদ (৫১)। কাজেই বাংলাদেশ এখন ম্যাচ বাঁচানোর চিন্তায় আচ্ছন্ন। এমন অবস্থায় অধিনায়ক ও উইকেটকিপার মুশফিকের চেয়ে যত চিন্তা ব্যাটসম্যান মুশফিককে নিয়ে। এখনকার পরিস্থিতিতে অধিনায়ক-কিপার মুশফিকের চেয়ে ব্যাটসম্যান মুশফিককেই বেশি দরকার।

শেষ খবর-বৃহস্পতিবার সারা দিন মাঠে নামতে না পারলেও খেলা শেষে অনেকটা সময় মাঠে দৌড়েছেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে-মুশফিক ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে। তার ফোলা ও ব্যথা কমছে। দলের প্রয়োজনে শুক্রবার চতুর্থ দিন ব্যাট হাতে নামতে পারবে।তার আগের কাজটা বোলারদের।

পাকিস্তানিদের থামানোর দায়িত্বটা এখন রুবেল, শহীদ, সাকিব, তাইজুল ও শুভগতদের ওপর। গত দেড় দিন তারা ব্যর্থতার ঘানি টেনে মাত্র ৫ উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশের বোলারদের ব্যর্থতাটা প্রবল হয়েছে ট্রাম্পকার্ড সাকিব আল হাসান উইকেটশূন্য থাকায়। সাকিব কাল আরও ১৯ ওভার বল করেও উইকেট পাননি।

এ অলরাউন্ডারের বাজে দিনে উজ্জ্বল পাকিস্তানি ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। দ্বিতীয় দিন শতরান করা হাফিজ কাল ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। আর কেউ তিন অঙ্কে পৌঁছতে না পারলেও দ্বিতীয় উইকেটে হাফিজ ও আজহারের ২২৭ রানের বিশাল জুটিতেই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। আজহার ৮৩ রান করার পর শুভগত হোমের অফ স্পিনে বোল্ড হয়েছেন। সকালের প্রথম ঘণ্টায় ওই গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এলেও তা কাজে লাগিয়ে আর পাকিস্তানিদের চাপে ফেলা যায়নি।

হাফিজ অনেকটা সময় একদিক আগলে রাখেন। আর দুই অভিজ্ঞ ও পরিণত পারফরমার ইউনুস খান (৩৩) এবং অধিনায়ক মিসবাহ (৫৯) লম্বা ইনিংস খেলতে না পারলেও রানের চাকা সচল রাখেন। দু’জনকেই আউট করেন তাইজুল।

সাড়ে সাত ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ক্রিজে থেকে ৩৩২ বলে ২২৪ রান করার পর শুভগত হোমের বলে লেগ গালিতে ক্যাচ দেন হাফিজ। শেষ সেশনে অধিনায়ক মিসবাহ আউট হওয়ার পর উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সরফরাজ হাত খুলে খেলে রানগতি বাড়িয়ে বসেন। শেষ ঘণ্টায় ষষ্ঠ উইকেটে আসাদের সঙ্গে অবিছিন্ন ৬৯ রানের মধ্যে ৫১-ই সরফরাজের। এ জুটি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে বাংলাদেশ আরও চাপে পড়ে যাবে।

যদিও দিনশেষে শুভগত হোমের কণ্ঠে আশাবাদী সংলাপ-‘আমরা চেষ্টা করব পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ৫ উইকেট দ্রুত নেওয়ার জন্য।’ নিজ দলের ব্যাটিং শক্তির ওপর আস্থাটা বেশি শুভগতর। তাই এমন কথা-‘আমাদের ব্যাটিংটা ভালো। তাই আশা করছি ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব।’

ওদিকে পাকিস্তানিরা জয়ের স্বপ্নে বিভোর। হাফিজ জানান-‘অন্তত ৩০০ রানে লিড নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। আর তা করা গেলে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার অল আউট করার পর্যাপ্ত সময়ও মিলবে।’

এখন কোন পক্ষের আশা পূরণ হয়-শুক্রবার ম্যাচের চতুর্থ দিন মিলবে তার উত্তর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.