তামাবিল কাস্টমসে নিলাম নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল’ ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের ৮ নেতার বিরুদ্ধে :থানায় অভিযোগ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতিপক্ষের হামলায় স্থলবন্দর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের (রেজি নং- চট্ট-২২১৪) এর সভাপতি মনির হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রায় দেড় লাখ টাকা লুটে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
এই ঘটনায় তামাবিল স্থলবন্ধন শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদ (সুইট) যুগ্ম আহবায়ক জামিল আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ শাহাজাহান, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ ইলিয়াস, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক বদরুল আলম শাওন, যুগ্ম আহবায়ক সোলেমান আহমেদ, সদস্য সচিব শাহীন আলম সদস্য মাহফুজ আহমদসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার (২৭ আগস্ট) তামাবিল শুল্ক স্টেশনে জব্দ কৃত ভারতীয় জব্দ কৃত চোরাই মোটরসাইকেলসহ মালামাল বিক্রির নিলাম কার্যক্রম ছিল সে সময় পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বদরুল আলম শাওন, সদস্য সচিব এম. শাহীন আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলেমান আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ ইলিয়াস উপস্থিত হয়ে নিলামের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা তাদের আটক করে রাখে।
পরে ছাত্রদল তাদের ফোন পেয়ে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নিলাম কাজে বাধা দেন। উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অনেকে আহত হন।
সাদ্দাম হোসেন আরও জানান, আমাদের ওপর হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হামলা চালানো হয়েছে। তারা শুধু মারধর করেনি, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে আমরা এখন আতঙ্কিত। হামলাকারীরা আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পুরো হামলার দৃশ্য ধারণ করেছে। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিক। আমরা শান্তিপ্রিয় শ্রমিক, কিন্তু দাঙ্গাবাজি সহ্য করব না।
আরও জানা যায় গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এই অভিযুক্তকারী রা বেপরোয়া হয়ে গেছেন। সিলেট গ্যাস ফিল্ড ও তামাবিল স্থলবন্দরে তাদের টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ। এছাড়াও গত মার্চ মাসে হরিপুর বাজারে সেনাবাহিনীর উপর হামলার মামলায় ৭ নম্বরে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমেদ (সুইট) ও ১১ নম্বরে ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহীন আলমের নাম আসামি তালিকায় রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে এই হামলা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ জীবন ও মর্যাদার ওপর আঘাত। এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে; সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়, এবং নিরীহের ওপর অত্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা অপরিহার্য।
জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের বদরুল আলম শাওন গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের পরও তামাবিল স্থলবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগের দোসররা। নূর উদ্দীন ও জালাল উদ্দীনরা মিলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি নাড়েন।
শাওন বলেন, আমরা নিলামে অংশ নিতে গেলে নূর উদ্দীনরা আমাদের বাঁধা দেয়। বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন তারা। পরে আপোস মিমাংসায় বসা হলে শ্রমিক নেতা মনির উদ্দীন টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে কীসের আপোস বলে উসকে দেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।