কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক এর বাসা অফিসে হামলা লুটের ঘটনায় মামলা
সিলেটপোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) এর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক (৪৩)
এবং তার অনুসারীদের বাসায় হামলার ও লুটপাট এর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট রবিবার কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৭৮/৩২২।
আসামীরা হলেন,কোতোয়ালী থানার মুন্সিপাড়া এলাকার ১৩ নং বাসার বদরুল বাছিত এর ছেলে সুয়েব বাছিত(৪৫), এয়ারপোর্ট থানার ছালিয়া বড় বাড়ির আব্দুল্লা’র ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (২৮),কোতোয়ালী থানার মুন্সিপাড়া এলাকার শেখু খাঁন এর ছেলে মুন্না খাঁন (২৭),একই থানার মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত শুক্কুর আলী ছেলে মোহাম্মদ আলী লাহিন(৪৮),একই থানা ও এলাকার মৃত মৃত রওশন মিয়া’র ছেলে এরশাদ আলী(৪৫),একই এলাকার শফিক মিয়া’র ছেলে এডঃ আরিফ আহমদ সহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন।
তাদেরকে আসামী করে গত ২৪ আগস্ট রোজ রবিবার সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক।
কোতোয়ালী মডেম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জানান,আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযোগে লায়েক উল্লেখ করেন, আসামিরা বিএনপি ও ছাত্রদলের এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ত্রাস সৃষ্টিকারী ও জবর দখলকারী। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্ম করায় স্থানীয় নিরীহ জনগণ আমার নিকট বিচার চাইলে আমি এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ও আমার বাসায় হামলা করে। গত ২৩ আগস্ট রাত ৮ টা ৪৫ মিনিটে দিকে আমার মুন্সিপাড়া অফিস ও বাসায় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, মশাল, হকিস্টিক, রামদা, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাসায় ২ নং আসামী মোঃ আব্দুর রহিম এর হুকুমে এ হামলা চালায়। এতে বাসার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা গুলি বর্ষণ করতে করতে এলাকা ত্যাগ করে।
২নং আসামী ছাত্রদল নেতা মোঃ আব্দুর রহিম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সে একটি বাহিনী তৈরী করেছে তাহার এই বাহিনী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ দিশেহারা, কেউ ভয়ে কথা বলতে পারেনা তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে এই সন্ত্রাসীরা তাদের ক্ষতি করতে মরিয়া হয়ে যায়। ওরা এই এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারী আর তাদের গডফাদার হল ২ নং আসামী মোঃ আব্দুর রহিম।
মামলা সুত্রে জানাযায়,গত ২৩ আগস্ট আরিফ আহমদ (২৫) মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে উপরোক্ত বিবাদীগণ আরিফ আহমদকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারিয়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিবাদীগণ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরবর্তীতে আরিফ ২৩ আগস্ট রাত অনুমান ৮টা ৪৫ মিনিটে আমার বাসায় আসিয়া আমাকে বিষয়টি অবহিত করে।উক্ত সময়ে উপরোক্ত ১নং বিবাদীর নেতৃত্বে সমূহ বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে বেআইনী জনতা বদ্ধে আমার বাসায় ও অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।তখন আমি ইহার প্রতিবাদ করিলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হইয়া ২ নং বিবাদীর নির্দেশে অন্যান্য বিবাদীগণ আমাকে মারার জন্য উদ্যত হয়।তখন আমাকে বাছানোর জন্য রুহুল আমিন তালুকদার (২৯)এবং আরিফ আহমদ (২৫)দ্বয় আগাইয়া আসিলে ৪ নং বিবাদী হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার হাতে থাকা লোহার পাইপ দ্বারা রুহুল আমিন তালুকদার এর মাথায় আঘাত করলে সে উক্ত আঘাত ডান হাত দিয়া প্রতিহত ইকরা’র চেষ্টা করলে তাহার ডান হাতে হাড় ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়।অন্যান্য বিবাদীগণ আরিফ আহমদকে খিল,ঘুষি মারিয়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।সমূহ বিবাদীগণ আমার বাসার স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরা, বাসার সামনের গেইট, কাউন্সিলর অফিসের গেইট, অফিসের ব্যানার, সাটার ও আমার চাচা আতাউর রহমান সবু (৫৫)এর বাসার গেইট,চাচাতো ভাই আমিন আলীর এর বাসা ও দোকানসহ আশেপাশে বাসা ভাঙ্গচুর করিয়া সর্বমোট ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।একপর্যায়ে ৫ নং বিবাদী আমার চাচাতো ভাই আমিন আলীর দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ বিশ হাজার টাকা,৬ নং বিবাদী আমিন আলীর দোকানের থাকা মালামাল নিয়ে যায়।যার মুল্য ৫০ হাজার টাকা।অতপর পুলিশ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকলে বিবাদীগণ আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরবর্তিতে জখমি রুহুল আমিন তালুকদারকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে।




